ধর্মীয় রীতিনীতি ও সামাজিক সংস্কারে নেতৃত্ব দিয়ে সৌদি আরবের আমুল পরিবর্তন এনে দিয়েছেন সৌদি আরবের প্রভাবশালী যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। তিনি দেশটিকে তেল নির্ভরতা থেকে মুক্ত করতে বেসরকারি খাতকে প্রসারিত করছেন এবং নারীদের ক্ষমতায়নের দিকেও এগিয়ে যাচ্ছেন। সংস্কারের অংশ হিসেবে এরই মধ্যে সৌদি নারীরা গাড়ি চালানো ও স্টেডিয়ামে বসে খেলা দেখার অনুমতি পেয়েছেন। শুরু হয়েছে চলচ্চিত্র প্রদর্শনও। আরও বেশ কিছু পদক্ষেপের কথাও ঘোষণা দিয়ে রেখেছেন তিনি। কিন্তু হঠাৎ করেই প্রায় এক মাস ধরে তকে দেখাই যাচ্ছে না। তার এই অদৃশ্যতাকে পুঁজি করেও চলছে মৃত্যু গুজব।

তাহলে কোথায় আছেন সালমান? কেন প্রকাশ্যে দেখা যাচ্ছে না তাকে? এ বিষয়ে অবশ্য সৌদি কর্তৃপক্ষও মুখ খুলছে না। এদিকে সৌদি যুবরাজ নিহত হয়েছেন বলে দাবি করে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ইরান ও রুশ গণমাধ্যম। রাশিয়ায় স্পুতনিক নিউজ, ইরানের ফার্স নিউজ ও প্রেস টিভিতে এ সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। যদিও নির্ভরযোগ্য কোনো সূত্রের কথা উল্লেখ করা হয়নি।

ইরানের গণমাধ্যমগুলোর দাবি, গত ২১ এপ্রিল রিয়াদের রাজপ্রাসাদে একটি অভ্যুত্থানের চেষ্টা হয়। সেখানেই গোলাগুলি চলার সময় সৌদির প্রভাবশালী যুবরাজ সালমান নিহত হয়েছেন। ফার্সি ভাষায় প্রকাশিত কাইহান পত্রিকা দাবি করছে, মধ্যপ্রাচ্যের অজ্ঞাত একটি দেশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার কাছে পাঠানো গোয়েন্দা প্রতিবেদনে যুবরাজ নিহত হওয়ার খবরটি জানানো হয়। প্রতিকাটির প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ২১ এপ্রিল সৌদির রাজপ্রাসাদে হামলার সময় যুবরাজ সালমানের শরীরে দুটি বুলেট বিদ্ধ হয়। এতে তিনি হয়তো মারা গেছেন। কারণ ওই ঘটনার পর যুবরাজকে আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি।

ইরানের ফার্স নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২১ এপ্রিল রিয়াদের রাজপ্রাসাদ থেকে ব্যাপক গোলাগুলির শব্দ শোনা গেছে। যুবরাজ সালমানকে তখন রিয়াদে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের বিমানঘাঁটিতে নিয়ে যাওয়া হয়।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত বেশ কয়েকটি ভিডিওতেও দেখা গেছে, বাদশা সালমান বিন আব্দুল আজিজ আল সৌদের প্রাসাদকে ঘিরে ব্যাপক গোলাগুলি হচ্ছে। তখনই সৌদি বাদশা ও তার সন্তান যুবরাজ সালমানকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের নিরাপত্তার বিমানঘাঁটির একটি বাঙ্কারে নিয়ে যাওয়া হয়।

আল জাজিরা ও বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়, ২১ এপ্রিল রাতের অন্ধকারে সৌদি আরবের রাজপ্রসাদ চত্ত্বরে হঠাৎ গোলাগুলির ঘটনায় দেশটিতে অভ্যুত্থান চেষ্টা চলছে বলে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। রাজপ্রাসাদের বাইরে গোলাগুলির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। পরে অবশ্য সৌদি আরবের নিরাপত্তা বাহিনী দাবি করে, গুলি করে একটি ড্রোন নামানো হয়েছে। ড্রোনটি খেলনা বলে চিহ্নিত করেছে তারা।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here