অবশেষে নিজের ইচ্ছা মতোই মৃত্যু ঘটেছে অস্ট্রেলিয়ার উদ্ভিদবিজ্ঞানী ও পরিবেশবিদ ডেভিড গুডল। বয়সের ভার বইতে বইতে ক্লান্ত ১০৪ বছর বয়সী ডুগল গত বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডে মারা যান। সেখানকার একটি ক্লিনিকে তাকে প্রাণনাশক ইনজেকশন দেওয়া হয়েছিল। আর তাতেই তিনি নিজের আকাঙ্খিত মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

এর আগে স্বোচ্ছা মৃত্যুর প্রত্যাশা করা গুডলকে নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে রিপোর্ট হয়েছে। শুধু মরবার জন্যই অস্ট্রেলিয়া থেকে সুদূর সুইজারল্যান্ড উড়ে গেছিলেন তিনি। কারণ সুইজারল্যান্ডে স্বোচ্ছামৃত্যু বৈধ। আর এ কাজের জন্য বৈধ ক্লিনিকও রয়েছে সেখানে। ২০১৪ সালের এক রিপোর্ট অনুযায়ী সেবছর প্রায় ৭৪২ জন ক্লিনিকগুলোতে নিজের ইচ্ছায় মৃত্যুবরণ করেন। তাদের মধ্যে বেশির ভাগই বয়স্ক। স্বেচ্ছায় মৃত্যুর কারণ উল্লেখ করে আবেদন জানালে একজন আইনজীবী ও বিশেষজ্ঞের বিষয়টি খতিয়ে দেখেন। এরপর তা যথাযোগ্য বিবেচ্য হলে প্রাণনাশক ইনজেকশনের মাধ্যমে মৃত্যুবরণ করা যায়।

বয়সের ভার আর বইতে পারছিলেন না গুডল

গুডলের ক্ষেত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১২টায় তিনি স্বেচ্ছায় মৃত্যুবরণ করেন। এর আগে তাকে দুবার চারটি প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়। প্রশ্নগুলো হলো-আপনার নাম কী, জন্মসাল কত, এ ক্লিনিকে কেন এসেছেন এবং আপনি কী জানেন এ ইনজেকশন গ্রহণ করলে কি হবে। বার্ধক্যজনিত কারণে ইনজেকশন গ্রহণ করতে প্রথমবার ব্যর্থ হন ডেভিড। তবে দ্বিতীয়বার শেষ ইচ্ছে হিসেবে ১৮২৪ সালের একটি গান শুনতে চান তিনি। গানটি শেষ হতেই নিথর হয়ে পড়েন গুডল।

তার মৃত্যুর সময় গুডলের আইনজীবী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট ফিলিপ নিচখে। তিনি জানান, গুডল তার শরীর দান করে গিয়েছেন। এছাড়া তিনি কোনো অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া ও স্মরণসভা বা অনুষ্ঠান করতেও নিষেধ করে গেছেন। মৃত্যুর আগে ইনজেকশন নিয়ে তার শেষ কথা ছিল-এটা এত দেরি করছে কেনো?’

ডেভিড তাঁর এ স্বেচ্ছায় মৃত্যুবরণের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ায়’ ‘স্বেচ্ছামৃত্যু’ বৈধ করতে অনুরোধ করে গিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি অবশ্যই আশা করি আমার এই বিষয়টির ওপর আরও দৃষ্টিভঙ্গি রাখার জন্য অস্ট্রেলিয়াকে চাপ বৃদ্ধি করবে এবং আমি মনে করি সম্ভবত এটি একটি সঠিক পদক্ষেপ হবে।’

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here