প্রতিবছরের মতো এবারও ওলামা-মাশায়েখ ও এতিমদের সম্মানে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করে বিএনপি। তবে কারাগারে থাকায় দলের চেয়ারপারসন ছিলেন না সেখানে। অবশ্য তার সম্মানে চেয়ারটি ফাঁকা রেখেই ইফতার করলেন বিএনপি নেতারা। এদিকে কারা কর্তৃপক্ষের দেওয়া খাবার দিয়েই ইফতার সেরেছেন খালেদা জিয়া। তার ইফতারে খেজুর, পেঁয়াজু, ছোলা-মুড়ি ও শরবতের পাশাপাশি কিছু ফল ছিল বলে একাধিক কারা কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

বিএনপি নেতারা জানান, প্রথম রমজানে বরাবরই ওলামা-মাশায়েখ ও এতিমদের সম্মানে খালেদা জিয়া নিজেই ইফতারের আয়োজন করতেন। এতিম শিশুদের পাশে বসিয়েই তিনি ইফতার করতেন। এবারও সেই ইফতারের আয়োজন করা হয়। ছিলেন কেবল চেয়ারপারসন। তার সম্মানে মঞ্চে মাঝের আসনটি খালি রাখা হয়। অন্য চেয়ারগুলোতে নেতারা ও এতিম শিশু এবং ওলামা মাশায়েখরা বসেন।

এতিমদের সঙ্গে ইফতারে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, ড. আব্দুল মঈন খান, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ওলামা দলের সভাপতি হাফেজ মাওলানা আব্দুল মালেক, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা শাহ মোহাম্মদ নেসারুল হক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ওলামা-মাশায়েখদের মধ্যে ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ারম্যান মাওলানা সাইয়িদ কামাল উদ্দিন জাফরী, মাওলানা মাসুদ সাঈদী, রাজধানীর সোহবানবাগ জামে মসজিদের খতিব মাওলানা শাহ ওয়ালী উল্লাহ, মসজিদ মিশনের সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা খলিলুর রহমান মাদানী, মিরপুর জামেয়া এমদাদিয়া মাদ্রাসার মহতামিম মাওলানা আবু তাহের জেহাদী, কামরাঙ্গীরচর মাদরাসা-ই নুরীয়ার মোহাদ্দিস মুফতি মাওলানা ফখরুল ইসলাম, জাতীয়তাবাদী উলামা দলের সভাপতি হাফেজ আব্দুল মালেক, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা শাহ মো. নেসারুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা সেলিম রেজা এবং রাজধানীর তিনটি মাদ্রাসার ২ শতাধিক এতিম শিশু।

ইফতারের আগে বিভিন্ন টেবিলে গিয়ে এতিম শিশুদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন বিএনপির সিনিয়র নেতারা। ইফতার শুরুর আগে খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সুস্থতা, তারেক রহমানের সুস্বাস্থ্য এবং দেশের অগ্রগতি ও শান্তি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ৫ বছরের সাজা হওয়ায় বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন খালেদা জিয়া। রমজানের প্রথম দিনে কারা কর্তৃপক্ষের দেওয়া খাবার দিয়েই ইফতার সেরেছেন তিনি। তার ইফতারে খেজুর, পেঁয়াজি, ছোলা-মুড়ি ও শরবতের পাশাপাশি কিছু ফল ছিল বলে একাধিক কারা কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

তবে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জন্য ইফতার সামগ্রী নিয়ে শুক্রবার পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের কারা ফটকের সামনে যান মহিলা দলের নেত্রীরা। কিন্তু কারা কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি না থাকায় দেখা মেলেনি খালেদা জিয়ার।

সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদের নেতৃত্বে বিএনপির মহিলা বিষয়ক সম্পাদক নূরে আরা সাফা, সাবেক সংসদ সদস্য শাম্মী আক্তারসহ বেশ কয়েকজন নেত্রী কারাফটকের সামনে গেলে কর্তৃপক্ষ জানায়, নিরাপত্তার স্বার্থে পরিবার ছাড়া অন্য কারো খাবার গ্রহণ করা হবে না। এ সময় সুলতানা আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের মা তিন মাসের ওপরে কারাবন্দি। আজকে প্রথম রমজান, নেতাকর্মীরা জানেন না কী খাচ্ছেন তিনি। আমরা মা বেগম খালেদা জিয়ার জন্য ইফতারি নিয়ে এসেছিলাম। তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী। আমরা চাই আমাদের ইফতারি মায়ের কাছে পৌঁছে দেওয়া হোক।’

এদিকে রমজানের দ্বিতীয় দিনে শনিবার লেডিস ক্লাবে রাজনীতিকদের সম্মানে ইফতারের আয়োজন করেছে বিএনপি। তবে এতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলের শরিক কাউকেই আমন্ত্রণ জানানো হয়নি বলে জানিয়েছেন দলের একাধিক নেতা।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here