বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার তুমব্রু সীমান্তের নো-ম্যান্স ল্যান্ডে অবস্থানকারী রোহিঙ্গাদের সেখান থেকে সরে যেতে আবারো মাইকিং শুরু করেছে মায়ানমারের সেনাবাহিনী। তুমব্রু খালের পাহাড়ি ঢল থেকে বাঁচতে রোহিঙ্গারা নোম্যান্স ল্যান্ডে নতুন করে মাচাং ঘর তৈরি শুরু করার পর মিয়ানমারের সেনাবাহিনী কাটাতারের বেড়ার কাছে মাইকিং করছে।

শনিবার সকাল থেকে সীমান্তের কাঁটা তারের বেড়া ঘেষে সেনা সদস্যদের পাহাড়ার মধ্যে কয়েক দফা মাইকিং করা হয়। মাইকিং এ অবস্থানরত রোহিঙ্গারে সেখান থেকে সরে গিয়ে অন্য জায়গায় আশ্রয় নিতে বলছে মায়ানমারের সেনাবাহিনী।

এদিকে সীমান্তে সেনা টহলও বাড়ানো হয়েছে। হঠাৎ করে সেনা টহল ও মাইকিং নিয়ে জিরো লাইনে অবস্থারত রোহিঙ্গারা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। প্রায় দুমাস বন্ধ থাকার পর মিয়ানমার আবারো নো ম্যান্স ল্যান্ডে অবস্থানকারী রোহিঙ্গারে এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য মাইকিং শুরু করেছে।

বর্তমানে প্রায় পাঁচ হাজার রোহিঙ্গা তুমব্রু সীমান্তের নো ম্যান্স ল্যান্ডে অবস্থান করছে। এলাকাটি বর্ষার সময়ে তুমব্রু খালের পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় সেখানে গত এক সপ্তাহ থেকে নতুন করে মাচান ঘর তৈরির কাজ শুরু করেছে রোহিঙ্গারা। এসব ঘর তৈরিতে সহায়তা করছে ঢাকার কিছু সেচ্ছাসেবী সংগঠন ও বিজিবি। তবে নতুন করে ঘর তৈরির পরই মায়ানমার রোহিঙ্গাদের সরে যেতে মাইকিং করা শুরু করলো।

কক্সবাজার বিজিবির ৩৪ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মঞ্জুরুল হাসান খান জানান, মায়ানমার সীমান্ত হতে মাইকিং করা হলেও বিজিবি সতর্ক রয়েছে। গত আগস্টে মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সংঘটিত ব্যাপক সহিংসতায় সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। এর মধ্যে প্রায় ১৫ হাজার রোহিঙ্গা আশ্রয় নেয় নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুনধুম তুমব্রু সীমান্তে।

অন্য এলাকার রোহিঙ্গাদের কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং শরনার্থী শিবিরে সরিয়ে নেয়া হলেও তুমব্রু সীমান্তের নো ম্যান্স ল্যান্ডে বসবাসকারী পাঁচ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গাদের সরিয়ে নেয়া সম্ভব হয়নি। নো ম্যান্স ল্যান্ড স্পর্শকাতর এলাকা হওয়ায় বর্তমানে এসব রোহিঙ্গা মানবেতর জীবন যাপন করছে।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here