সৌদি আরব সিংহাসনের উত্তরাধিকারি ক্ষমতাধর যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের মৃত্যুর গুজব কিছুদিন ধরেই বিশ্ববাসীর মুখে মুখে। এবার তার নতুন একটি ছবি নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। মূলত ইরান ও রাশিয়ার গণমাধ্যমে যুবরাজের মৃত্যু নিয়ে প্রকাশিত সংবাদকে মিথ্যা প্রমাণ করতেই ছবিটি ছেপেছে সৌদি আরবের সংবাদমাধ্যম আর রিয়াদ।

প্রকাশিত ছবিটিতে দেখা যায়, মিসরের সেনা শাসক আব্দেল ফাত্তাহ আল সিসি ও বাহরাইনের বাদশাহ হামদ বিন ঈসা আল খলিফার কাঁধে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন মাথায় ক্যাপ পরা সৌদি যুবরাজ। তাদের সঙ্গে আরব আমিরাতের যুবরাজ মুহাম্মদ বিন জায়েদও রয়েছেন। তার গায়েও পাঞ্জাবি আর মাথায় ক্যাপ। কিন্তু প্রকাশিত ছবিটি কবে, কোথায় তোলা হয়েছে সে বিষয় কোনো তথ্য ওই সংবাদ মাধ্যমের খবরে উল্লেখ করা হয়নি। আবার গত মাসে সৌদি আরবের ওই ঘটনার পর থেকে এখনো পর্যন্ত এই চারজনের কোথাও একত্র হওয়ার কোনো খবর পাওয়া যায়নি। ফলে ছবিটি পুরনো বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

সৌদি যুবরাজকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ইরানি গণমাধ্যমগুলোর উদ্বেগের মধ্যেই শুক্রবার তার ব্যক্তিগত দপ্তরের পরিচালক বাদের আল-আসাকের টুইটারে প্রথম ওই গ্রুপ ছবিটি পোস্ট করা হয়। আর ছবির সঙ্গে মন্তব্য দেওয়া হয়, ‘কয়েক দিন আগে দুই ভাইয়ের এক বন্ধুত্বপূর্ণ বৈঠক আয়োজন করেন মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল সিসি।’ তবে ছবিটি কত তারিখের তা জানাননি তিনি।

এদিকে তেহরানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘কাইহান’ জানিয়েছে, গত ২১ এপ্রিল রিয়াদের সংঘর্ষের সময়ে অন্তত দুটি বুলেট যুবরাজের বুকে বিঁধে। এতে তিনি নিহত হয়ে থাকতে পারেন বলে একটি গোপন সূত্রের ভিত্তিতে আরব ইন্টেলিজেন্স দেশটির সর্বোচ্চ কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন।

যদিও সৌদি কর্তৃপক্ষ এ বিষয়টিকে অস্বীকার করে বলছে, সৌদি রাজপ্রাসাদের বাইরে তেমন কোনো সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি। সেসময় আকাশে উড়া একটি অনিবন্ধিত খেলনা ড্রোনকে ভূপাতিত করার চেষ্টা করে নিরাপত্তারক্ষীরা।

গোলাগুলির সময় সৌদি যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমান কোথায় ছিলেন তা নিয়েও দুই রকম তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। মিররের খবরে বলা হয়েছে, গোলাগুলির সময় যুবরাজকে নিরাপদে পার্শ্ববর্তী সেনা বাঙ্কারে সরিয়ে নেওয়া হয়। অন্যদিকে স্থানীয় পুলিশ প্রধানের বরাত দিয়ে নিউজ উইকের খবরে বলা হয়, ওই সময় সৌদি ক্রাউন ওই প্যালেসে ছিলেনই না। তিনি দিরিয়ায় তার একটি ফার্মে অবস্থান করছিলেন।

কিন্তু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে রাজপ্রাসাদের বাইরে ভয়াবহ গোলাগুলির চিত্র দেখা গেছে। এমনকি প্রাসাদের আশেপাশে ট্যাঙ্ক এবং অস্ত্রসহ বিভিন্ন ধরনের যানও দেখা যায়।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here