শিউলী আক্তার পিংকি। বাড়ি মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী থানার দক্ষিণ কুমিরা গ্রামে। ভাগ্য বদলাতে দালালের মাধ্যমে পারি জমান সৌদি আরবে। বয়স ১৮ হলেও ২৬ বছর দেখিয়ে তার পাসপোর্ট করা হয়। অথচ তার জাতীয় পরিচয়পত্রই হয়নি। পিংকি চেয়েছিলেন, বেশি টাকা আয় হলে ছোট ভাইবোন দুটির লেখাপড়া করাবে। কিন্তু তাকেই হারানোর অবস্থা হয়েছিল পরিবারের।

মেয়েটির বাবা বাবুল সাজি জানান, প্রতিবেশী বাতেনের মাধ্যমে আল মনসুর ওভারসিস অ্যান্ড ট্রাভেলসকে ৪৫ হাজার টাকা দিয়েছি। মেয়ের আয় থেকে বাকি ৫৫ হাজার টাকা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই অনেক কষ্টে তাকে দেশে ফিরে আসতে হয়েছে।

শুক্রবার দেশে ফিরে পিংকি জানান, সৌদি আরব যাওয়ার পর জানতো না কোথায় সে কাজ করছে। বাসার মালিকের নামও জানা ছিল না। ভাষা অজানা থাকায় ইশারায় নির্দেশ বুঝে নিয়ে সব কাজ করতেন। প্রতিদিন তিনতলা বাসা ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার করতে হতো। প্রতিটি তলার ১০টি বড় বড় রুম। এমনকি ছাদও পরিষ্কার করতে হতো প্রতিদিন।

এই তরুণী বলেন, ‘সকালে উঠে থালা-বাসন পরিষ্কার করতাম। এরপর সারাদিন পানি দিয়ে ঘর-বাড়ি পরিষ্কার করতে করতে পুরো শরীর ভিজে যেতো। শুকনা কাপড় পরারও সময় পেতাম না। রাতে ভেজা কাপড়েই ঘুমিয়ে পড়তাম, টের পেতাম না। সকালে ওঠার পর বুঝতাম গায়ের কাপড় ভেজা ছিল। পরের দিন আবার একই কাজ। এত কাজের বিনিময়ে সকালে একটা আর রাতে একটা রুটি খেতে দিতো। হাতে-পায়ে ধরে ভাত চাইলেও দিত না।’

পিংকি বলেন, ‘কয়েকদিন কাজ করার পর অসুস্থ হয়ে পড়লে আমাকে নিয়ে যাওয়া হয় একটি ক্যাম্প। নোংরা আর প্রচণ্ড গরমে থাকতে হয়েছে সেখানে। প্রথম রোজার দিন (বৃহস্পতিবার) রাতে একটা রুটি দিয়েছিল খেতে। ভাত দেওয়ার অনুরোধ করার পর সেহরিতে ভাত দেয়। আলু আর পেঁয়াজের পাতার ভাজি দিয়ে ভাত খেয়েছি। ইফতার করেছি এক গ্লাস পানি দিয়ে। ভাইরে আমার মতো কেউ যেন আর সৌদি আরব না যায়।’

রাজধানীর হযরত শাহজালাল বিমানবন্দর ছাড়ার আগে পিংকি অনুরোধ করে বলেন, ‘আপনারা আল মনসুর (আল মনসুর ওভারসিস অ্যান্ড ট্রাভেলস) বন্ধ করে দেন। এটা বন্ধ না হলে কত মেয়েকে নিয়ে যে কষ্ট দেবে তার ঠিক নেই।’

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here