নয়ন ও আঁখির দাম্পত্য জীবন শুরুর কথা ছিলো অনেক আগেই। আশা ছিল সুখের সংসার সাজাবে তারা। এজন্য সব ধরনের প্রস্ততিও করে রাখা হয়েছে। শুধু সাঁনাই বাজার অপেক্ষা। কিন্তু হঠাৎ করে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে আঁখি মারা যাওয়ায় দাম্পত্য জীবন আর শুরু করা হয়নি নয়ন-আঁখির। যারে কথা বলছিলাম তারা হলেন কক্সবাজারের চকরিয়ার উপজেলার ডুলাহাজারাস্থ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সাফারি পার্কে বাঘ-বাঘিনী জুটি নয়ন ও আঁখির।

বাঘিনী আঁখি মারা যাওয়ার পর থেকে একাকী হয়ে পড়েন পুরুষ বাঘ নয়ন। নয়নের একাকীত্ব দূর করতে আরেকটি সঙ্গী খোঁজতে থাকে পার্ক কর্তৃপক্ষ। অবশেষে নয়নের একাকীত্ব জীবনের অবসান ঘটাতে নতুন জীবনসঙ্গী হিসেবে পার্ক কর্তৃপক্ষ পায় মণিকে। নিঃসঙ্গ নয়ন মণিকে পেয়ে আত্মহারা হয়ে পড়েছেন। সারাক্ষণ মণির আশপাশে ঘুরঘুর করছেন। পার্ক কর্তৃপক্ষ তারে এই জুটির নাম দিয়েছেন ‘নয়ন-মণি’। তারা এখন খুব সুখে রয়েছে বলে জানান সাফারি পার্কের বিট কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী।

সাফারি পার্ক সূত্রে জানা যায়, সুন্দরবনের কাঁকড়াখালী পয়েন্ট থেকে সংঘবদ্ধ বন্যপ্রাণি পাচারকারী দলের সদস্যরা জন্মের মাত্র দুইমাসের মাথায় তিন বাঘ শাবককে ধরে বিদেশে পাচারের জন্য ঢাকার শ্যামলীতে নিয়ে যায়। এরপর পাচার করার আগ মুহূর্তে ২০১২ সালের ১১ জুন ঢাকার শ্যামলীতে র‌্যাব উদ্ধার করে তিন বাঘ শাবককে।

উদ্ধার তিন শাবকের নাম রাখা হয় জয়, জুঁই ও জ্যোতি। প্রথমে তিন শাবকের ঠাঁই হয় মিরপুর জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানের বিয়ারিং হাউজে। সেখানে টিস্যু কালচার পদ্ধতিতে প্রায় চারমাস পর্যন্ত তিন শাবকের পরিচর্যা চলে। বয়স ৬ মাস পূর্ণ হওয়ার পর জয়, জুঁই ও জ্যোতিকে ওই বছরের ১৩ অক্টোবর পাঠানো হয় ডুলাহাজারাস্থ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে। তবে তিন শাবকের মধ্যে বোন জ্যোতিকে নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকার চিড়িয়াখানায়। সেখানে পুরুষ বাঘ ‘রণবীর’র সঙ্গে ঘর বাধে জ্যোতি। বাকি দুই শাবক জয়-জুঁই প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে দাম্পত্য জীবন শুরু করে। তাদের সংসারে জন্ম নেয় আঁখি ও নয়ন। সেখান থেকে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার একেবারে সন্নিকটে এসে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায় বাঘিনী আঁখি। এরপর থেকে একাকী হয়ে পড়ে নয়ন।

সাফারি পার্কের ভেটেরিনারি চিকিৎসক মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, পার্কের বেস্টনিতে দীর্ঘদিন একাকী থাকা পুরুষ বাঘ নয়নের জন্য জীবনসঙ্গী হিসেবে আনা প্রাপ্তবয়স্ক বাঘিনী মণি সুঠাম দেহের অধিকারী। বর্তমানে পার্কের খাঁচায় রাখা হয়েছে নতুন এই অতিথিকে। প্রতিদিন একবার পাঁচ কেজি করে গরুর মাংস খেতে দেয়া হচ্ছে তাকে। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য সপ্তাহে একবার খাবার দেয়া বন্ধ রাখা হয়।

সাফারি পার্কের বিট কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী জানান, চলতি বছরের ২১ মার্চ প্রায় চার বছর বয়সী প্রাপ্তবয়স্ক বাঘিনী মণিকে আনা হয়েছে গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক থেকে। পার্কের নতুন এই অতিথি বেশ হিংস্র প্রকৃতির। খাঁচার পাশে মানুষ দেখলেই হুঙ্কার ছাড়ছে। তাকে প্রথমদিকে নির্দিষ্ট খাঁচায় রেখে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। পরে মণিকে নয়নের সাথে এক বেস্টনিতে ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে। ওইদিন থেকে নয়নমণি জুটি দাম্পত্য জীবন শুরু করেছে।

তিনি আরো বলেন, আশা করছি নয়নমণি জুটির দাম্পত্য জীবন শুরুর মাধ্যমে আমরা পার্কে বাঘের বংশবিস্তারে সফল হবো। আমরা সার্বক্ষণিক তারে উপর নজর রাখছি।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here