আইন-শঙ্খলা বাহিনীর মাদকবিরোধী জোর তৎপরতার মধ্যে গতকাল রাত থেকে আজ সকাল পর্যন্ত ছয় জেলায় কথিত বন্দুকযুদ্ধে অন্তত ৮ জন নিহত হয়েছে। নিহতরা সবাই মাদক পাচার ও অস্ত্র ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিল বলে দাবি করেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। এ সময় বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারের কথাও জানানো হয়েছে। তাদের কারও কারও বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলাও রয়েছে।

এর মধ্যে টাঙ্গাইল, রাজশাহী, ঝিনাইদহ ও নরসিংদীতে র‌্যাবের গুলিতে চারজন এবং চুয়াডাঙ্গায় পুলিশের গুলিতে একজন নিহত হয়েছেন। আর যশোরে পুলিশের সঙ্গে মাদক পাচারকারীদের সঙ্গে গোলাগুলিতে মারা গেছে আরো তিন জন।

সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ থেকে মাদক নির্মূলের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে এ ব্যাপারে সোচ্চার হতে বলেন। এরপরই এলিট ফোর্স র‌্যাবসহ অন্যান্য বাহিনী মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করে। এরমধ্যে গত কয়েকদিনে কথিত বন্দুকযুদ্ধে প্রাণ হারিয়েছে ২৫ জনেরও বেশি মানুষ। মানবাধিকার সংস্থাগুলো এ ধরনের ঘটনাকে বারবার ‘বিচারবহির্ভূত হত্যা’ হিসেবে উল্লেখ করে তা বন্ধের দাবি আসছে। মাদক নির্মূলে ক্রসফায়ার কোনো সমাধান হতে পারে না বলেও মত দিয়েছেন মানবাধিকার কর্মী থেকে আইন-শৃঙ্খলা বিশেষজ্ঞরা।

গতকাল নিহতের বিষয়ে বিভিন্ন জেলা থেকে পাঠানো খবর

যশোর
যশোরের দুই জায়গা থেকে গুলিবিদ্ধ তিনটি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ বলেছে, মাদক চোরাকারবারিদের ‘নিজেদের মধ্যে’ গোলাগুলিতে তারা নিহত হয়েছে। যশোর কোতোয়ালি থানার ওসি একেএম আজমল হুদা জানিয়েছেন, রাত সাড়ে ৩টার দিকে শহরতলীর শেখহাটি ও খোলাডাঙ্গায় গোলাগুলির এসব ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলে ইয়াবা পাওয়া গেছে। নিহতদের কারও নাম পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ জানাতে পারেনি।

টাঙ্গাইল
র‌্যাবের দাবি, রোববার রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঘাটাইল থানার দেউলাবাড়ি এলাকায় মহাসড়ক সংলগ্ন ইটভাটার পাশে গোলাগুলিতে মারা যায় আবুল কালাম আজাদ খান নামে এক যুবক। র‌্যাব-১২ এর অধিনায়ক আব্দুল আহাদ জানান, ‘বড় ধরনের মাদকের চালান’ আসার খবরে তারা ওই অভিযান চালান। নিহতের বিরুদ্ধে থানায় মাদক পাচারসহ বিভিন্ন অভিযোগে ছয়টি মামলা রয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, তিন রাউন্ড গুলি, একটি ম্যাগাজিন, ১০০ বোতল ফেন্সিডিল, ১৫০০ ইয়াবা এবং মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।

রাজশাহী
বেলপুকুর থানার ক্ষুদ্র জামিরা এলাকায় রোববার রাত সাড়ে ১২টার দিকে মাদক পাচারকারীদের সঙ্গে র‌্যাবের গোলাগুলি নিহত হন লিয়াকত আলী মণ্ডল। তার বাড়ি পুঠিয়া থানার নামাজগ্রাম এলাকায়। তিনি ওই এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী বলে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে থানায় মাদক আইনে সাতটি মামলা রয়েছে।

ঝিনাইদহ
কালীগঞ্জ উপজেলার নরেন্দ্রপুর গ্রামে র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মো. সব্দুল ইসলাম নামে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে। রোববার রাত পৌনে ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে ফেনসিডিল, ইয়াবাসহ একটি পিস্তল ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা
জীবননগরে পুলিশের সঙ্গে ‌‌‘বন্দুকযুদ্ধে’ জনাব আলী (৩২) নামে চিহ্নিত এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। রোববার রাত পৌনে একটার দিকে উপজেলার উথলী গ্রামের সন্যাসীতলা মাঠে এ ঘটনা ঘটে। জনাব আলী ওই গ্রামের জামাত আলীর ছেলে। তার নামে জীবননগর থানাসহ অন্যান্য থানায় অন্তত ১১টি মাদক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নরসিংদী
পলাশে র‌্যাব-৫ এর সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নরসিংদীর শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী নিহত হন। নিহত ব্যক্তির নাম ইমান আলী (৩৩)। তার বিরুদ্ধে ১১টি মামলা আছে।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here