বাংলাদেশের প্রকৌশলীদের কারুকাজ, নকশায় তৈরি ১৭০টিরও বেশি আসবাবপত্র ইতিমধ্যেই গিয়েছে সড়ক পথে। গিয়েছে বাংলাদেশ প্রকাশনার ছয় হাজারের বেশি বই ও এ দেশে বসবাসের সময় কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ব্যবহৃত নানা জিনিস, তাকে নিয়ে বাংদেশের প্রকাশিত ডাকটিকিটসহ আরও অনেক কিছু। সে সব নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের বিশ্বভারতীতে তৈরি হচ্ছে ‘বাংলাদেশ ভবন’।

যাবতীয় জিনিসপত্র তো বটেই, এ কাজের জন্য বাংলাদেশ সরকার ৩৫ কোটি টাকাও বরাদ্দ করেছে। আগামী বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানের পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ ভিভিআইপিদের উপস্থিতিতে এই ভবনের উদ্বোধন হবে।

ভবনটিতে আছে একটি গ্রন্থাগার, আন্তর্জাতিক মানের সংগ্রহশালা, অত্যাধুনিক অডিটোরিয়াম এবং সংস্কৃতি অঙ্গন। বাংলাদেশের প্রখ্যাত স্থপতি এহসান খান, গ্রাফিক ডিজাইনার তারিক সুজাত, শিল্পী প্রবাল সাহাসহ একটি বিশেষজ্ঞ দল এক বছর ধরে এই ভবন তৈরির কাজ করছে। এখন চলছে শেষ মুহূর্তের প্রলেপ, প্রস্তুতির কাজ।

গ্রন্থাগার তৈরির তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশের ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ মাকসুদুর রহমান। তিনি জানান, সেখানে যে ছয় হাজারেরও বেশি বইয়ের সম্ভার এসেছে, তার বড় অংশ জুড়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। এ ছাড়া রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে বাংলাদেশের বিশিষ্ট লেখকদের গবেষণা, নজরুল, মুক্তিযুদ্ধ ও এতে ভারতের অবদান, বঙ্গবন্ধুর লেখা অসমান্ত আত্মজীবনী, কারাগারের দিনলিপি ইত্যাদি রাখা হচ্ছে সেখানে। ভবনের অন্য আকর্ষণ সংগ্রহশালা। সেটিরও কেন্দ্রে মূলত রবীন্দ্রনাথ। তারিক সুজাত মাসখানেক ধরে তা সাঁজানোর কাজে ব্যস্ত। তিনি জানান, শিলাইদহ, পাতিসর, সাজাদপুরে থাকার সময় কবির ব্যবহৃত নানা জিনিস রাখা হবে।

এছাড়া শিলাইদহের কুঠিবাড়িসহ রবীন্দ্রনাথের স্মৃতি বিজড়িত নানা স্থান এবং সেগুলির ভিডিও থাকবে। দ্বিতীয় একটি প্যানেলে থাকবে রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের প্রকাশিত সব ডাকটিকিট, কবির জন্ম সার্ধশতবর্ষে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রকাশিত রৌপ্য মুদ্রা ইত্যাদি। এছাড়া ময়নামতি, পাহাড়পুরের মতো জায়গা থেকে পাওয়া বৌদ্ধ যুগের বেশ কিছু নির্দশন রাখা হবে অন্য একটি প্যানেলে।

শিল্পী প্রবাল সাহা বলেন , থাকবে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের নানা ছবি, নকশি কাঁথা , নকশি পাটি ইত্যাদি।

বাংলাদেশের একান্ত নিজস্ব জামদানি শাড়ি, পদ্মার চপলা নৌকোর রেপ্লিকা, একতারা ইত্যাদি থাকবে বিশ্বভারতী ক্যাম্পাসের এই নবতম সংযোজনের সংগ্রহশালায়। স্থপতি এহসান খানের বক্তব্য , ভবন নির্মাণ থেকে প্রদর্শনী সবকিছুতেই বাংলাদেশের সংস্কৃতির প্রকাশ ঘটাতে চেয়েছি আমরা। তাই সেখানকার আসবাবপত্র পর্যন্ত আনা হয়েছে। সংগ্রহশালার পাশের ঘরেই হাসিনা-মোদির হাই প্রোফাইল বৈঠক হওয়ার কথা। সেখানেও রাখা হচ্ছে বাংলাদেশের আসবাবপত্র, সামনে রবীন্দ্রনাথের ছবি।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here