সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান আল সৌদ দীর্ঘদিন থেকেই জনসমক্ষে অনুপস্থিত। আর সেই বিষয়টিকে সামনে এনে গত বৃহস্পতিবার ইরান ও রাশিয়ার বেশ কয়েকটি গণমাধ্যম তার মৃত্যু হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে তুলে আনে। যদিও এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে মুখ খুলেনি সৌদি রাজপরিবার। তাদের এই নীরবতা গুজবকে আরও উস্কে দিচ্ছে।

তেহরানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘কাইহান’ জানিয়েছে, গত ২১ এপ্রিল রিয়াদের সংঘর্ষের সময়ে অন্তত দুটি বুলেট যুবরাজের বুকে বিঁধে। এতে তিনি নিহত হয়ে থাকতে পারেন বলে একটি গোপন সূত্রের ভিত্তিতে আরব ইন্টেলিজেন্স দেশটির সর্বোচ্চ কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন।

ইরানের প্রেস টিভি জানায়, ওইদিনের পর থেকে যুবরাজ মোহাম্মদের নতুন ছবি বা ভিডিও প্রকাশ করেনি সৌদি কর্তৃপক্ষ। এমনকি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও তার প্রথম সফরে রিয়াদ গেলে সেখানেও যুবরাজ মোহাম্মদকে দেখা যায়নি।

অবশ্য এই অভ্যুত্থানের ঘটনার সপ্তাহখানেক পরের এক অনুষ্ঠানে সালমানকে দেখা গেছে বলে জানিয়েছে রাশিয়ার বার্তা সংস্থা স্পুিনক।

সালমান জীবিত আছেন বলে দাবি করেছে রিয়াদভিত্তি গণমাধ্যম আরব নিউজও। ওই প্রতিবেদনে ক্রাউন প্রিন্সের একটি ছবিও প্রকাশ করা হয়েছে। যেখানে বলা হচ্ছে- ‘আরব মিত্রদের জন্য আল সিসির ডিনার।’ প্রকাশিত ছবিতে দেখা যাচ্ছে, মিসরের সেনা শাসক আব্দেল ফাত্তাহ আল সিসি ও বাহরাইনের বাদশাহ হামদ বিন ঈসা আল খলিফার কাঁধে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন মাথায় ক্যাপ পরা সৌদি যুবরাজ। তাদের সঙ্গে আরব আমিরাতের যুবরাজ মুহাম্মদ বিন জায়েদও রয়েছেন। তার গায়েও পাঞ্জাবি আর মাথায় ক্যাপ।

শুক্রবার সৌদি যুবরাজের বিশেষ কার্যালয়ের পরিচালক বাদের আল-আসাকের টুইটারে প্রথম ওই গ্রুপ ছবিটি পোস্ট করা হয়। সেখানে থেকে ছবিটি ছেপেছে আরব নিউজ। কিন্তু প্রকাশিত ছবিটি কবে, কোথায় তোলা হয়েছে সে বিষয় কোনো তথ্য ওই সংবাদ মাধ্যমের খবরে উল্লেখ করা হয়নি।

আবার গত মাসে সৌদি আরবের ওই ঘটনার পর থেকে এখনো পর্যন্ত এই চারজনের কোথাও একত্র হওয়ার কোনো খবর পাওয়া যায়নি। ফলে ছবিটি পুরনো বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

ইরানি বার্তা সংস্থা ফারস বলছে, প্রিন্স সালমান এমন একজন ব্যক্তি, যাকে প্রায়ই গণমাধ্যমে দেখা যেত। কিন্তু রাজপরিবারের ওই গোলাগুলির পর এক মাস ধরে তার অনুপস্থিতি উদ্বেগটা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here