ইরানের গণমাধ্যমগুলোর দাবি, গত ২১ এপ্রিল রিয়াদের রাজপ্রাসাদে একটি অভ্যুত্থানের চেষ্টা হয়। সেখানেই গোলাগুলি চলার সময় সৌদির প্রভাবশালী যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান নিহত হয়েছেন। ফার্সি ভাষায় প্রকাশিত কাইহান পত্রিকা দাবি করছে, মধ্যপ্রাচ্যের অজ্ঞাত একটি দেশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার কাছে পাঠানো গোয়েন্দা প্রতিবেদনে যুবরাজ নিহত হওয়ার খবরটি জানানো হয়। পত্রিকাটির প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ২১ এপ্রিল সৌদির রাজপ্রাসাদে হামলার সময় যুবরাজ সালমানের শরীরে দুটি বুলেট বিদ্ধ হয়। এতে তিনি হয়তো মারা গেছেন। কারণ ওই ঘটনার পর যুবরাজকে আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি।

ইরানের ফার্স নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২১ এপ্রিল রিয়াদের রাজপ্রাসাদ থেকে ব্যাপক গোলাগুলির শব্দ শোনা গেছে। যুবরাজ সালমানকে তখন রিয়াদে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের বিমানঘাঁটিতে নিয়ে যাওয়া হয়।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত বেশ কয়েকটি ভিডিওতেও দেখা গেছে, বাদশা সালমান বিন আব্দুল আজিজ আল সৌদের প্রাসাদকে ঘিরে ব্যাপক গোলাগুলি হচ্ছে। তখনই সৌদি বাদশা ও তার সন্তান যুবরাজ সালমানকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের নিরাপত্তার বিমানঘাঁটির একটি বাঙ্কারে নিয়ে যাওয়া হয়।

আল জাজিরা ও বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়, ২১ এপ্রিল রাতের অন্ধকারে সৌদি আরবের রাজপ্রসাদ চত্ত্বরে হঠাৎ গোলাগুলির ঘটনায় দেশটিতে অভ্যুত্থান চেষ্টা চলছে বলে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। রাজপ্রাসাদের বাইরে গোলাগুলির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। পরে অবশ্য সৌদি আরবের নিরাপত্তা বাহিনী দাবি করে, গুলি করে একটি ড্রোন নামানো হয়েছে। ড্রোনটি খেলনা বলে চিহ্নিত করেছে তারা।

এদিকে গত বছরের জুনে নিজের চাচাতো ভাইকে যুবরাজের পদ থেকে সরিয়ে দিলে আলোচনায় আসেন ৩১ বছর বয়সী মোহাম্মদ বিন সালমান। এরপর থেকেই সৌদি আরবে নানা অর্থনৈতিক ও সংস্কার কার্যক্রম চালাচ্ছেন তিনি। একই সঙ্গে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান চালিয়ে নানা আলোচনার জন্ম দেন তিনি।

গত নভেম্বরে সৌদি আরবে দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে দুই শতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর মধ্যে প্রিন্স, বর্তমান ও সাবেক মন্ত্রী এবং ধনকুবের ব্যবসায়ীরা ছিলেন। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয় বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়। অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলারের দুর্নীতি ও আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়। যদিও পরে ধীরে ধীরে ‘আপসরফার’ মাধ্যমে সবাইকে ছেড়ে দেয়া হয়।

এর আগে, অক্টোবরে জেদ্দায় বাদশাহর রাজপ্রাসাদের বাইরে একজন বন্দুকধারী গুলিবর্ষণ করলে দুই নিরাপত্তারক্ষী নিহত হন। এ সময় আহত হন আরো তিনজন। পরে অবশ্য নিরাপত্তা বাহিনী ওই বন্দুকধারীকে গুলি করে হত্যা করে।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here