‘একটু সুখের আশায় স্বামী সংসার ছেড়ে নবীর দেশে গিয়েছিলাম। কিন্তূ সৌদির মানুষেরা এত খারাপ জানা ছিল না। কী বলব নিজের কথা তারা জোর করে আমাকে দিয়ে সব কাজ করিয়ে নিত। খেতে দিত না। তারা (সৌদির আরবে বাসার মালিক) জোর করে আমার সাথে অন্যায় কাজ করেছে। সকালে বাবা দুপুরে ছেলে।’ সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরে কাঁদতে কাঁদতে কথাগুলো বলছিলেন রুমি বেগম (ছদ্মনাম)।

গেল ১৯ মে রুমি বেগমসহ ৩৬ নারী শ্রমিক সব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরেন। মূলত যৌন নির্যতনের শিকার হয়েই তারা দেশে ফিরে আসেন। এর মধ্যে সোমবার কথা হয় রুমির সঙ্গে। তার কণ্ঠে বেরিয়ে আসে রোমহর্ষক কাহিনী।

রুমি বলেন, ‘কাজে যোগ দেওয়ার পরই আমার পাসপোর্ট কেড়ে নেওয়া হয়, কোথাও পালিয়েও যেতে পারিনি। পরে সব কথা স্বামীকে বলি। সে আমাকে সাহস দিয়েছে পালানোর ব্যাপারে। আজ দেশে আসছি কিন্তু ক্ষত রয়ে গেছে জীবনে।’

তার সঙ্গেই সেদেশে ফিরেছেন চামেলী বেগম (তার নামটিও ছদ্মনাম)। তিনি বলেন, সৌদিতে নারীরা প্রতিনিয়ত নির্যাতনের শিকার হয়। একবছর কাজ করেছি কিন্তু বেতন পেয়েছি তিন মাসের। আমাকে গালাগালি করতো, খেতে দিত না ঠিক মতো।আমার পাসপোর্ট রেখে দেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে আমি পালিয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসে আসি। পরে দূতাবাস আমাকে আউট পাস দিয়ে দেশে পাঠিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘ওরা মানুষ না, পশু। আমার জীবনটা শেষ করে দিছে। আমি মরার হাত থেকে বেঁচে এসেছি। গর্ভবতী করে অনেক মেয়েকে জেলে দিছে। তাদের অত্যাচারে কেউ কেউ গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যাও করেছে।’

সৌদিতে নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশে ফেরা ফরিদপুরের বোয়ালমারীর চতর সেন পাড়ার এক নারী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমাকে খাবার দেয়নি। কথায় কথায় মারধর করতো। কত বিশ্রি কাজ করতে চেয়েছে। আমি রাজি হইনি। পরে পালিয়ে রাস্তায় গিয়ে ভিক্ষা করেছি। পুলিশ জেলে নিয়ে গেছে। ১১ দিন জেল খেটে এক কাপড়ে দেশে ফিরেছি। তবে জেলে গিয়ে দেখেছি, অনেক মেয়ে পাগল হয়ে গেছে। কফিল (মালিক) তাদের ছ্যাঁকা দিয়েছে। হাত পা ঘাঁ হয়ে গেছে। সেই অবস্থা দেখলে কোনো মা তার মেয়েকে এবং কোনো স্বামী তার স্ত্রীকে সৌদিতে পাঠাবে না।’

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here