‘শত শত চোখ আকাশটা দেখে, শত শত শত মানুষের দল, যশোর রোডের দুধারে বসত বাঁশের ছাউনি কাদামাটি জল। কাদামাটি মাখা মানুষের দল, গাদাগাদি করে আকাশটা দেখে, আকাশে বসত মরা ঈশ্বর, নালিশ জানাবে ওরা বল কাকে…।’ বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামের সময় কলকাতায় আসেন কবি অ্যালেন গিনসবার্গ। বাঙালি শরণার্থী শিবিরের লাখো মানুষের দুর্দশা নিদারুণভাবে আলোড়িত করে তাকে। নিউইয়র্কে ফিরে গিয়ে তিনি রচনা করেন তার কালজয়ী কবিতা ‘সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড’।

এর চার দশকের বেশি সময় পর যশোর রোডের মতোই বাংলাদেশের আবেগে যুক্ত হয় টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপের কাঁদামাটির রাস্তা। যে পথ ধরে নির্যাতিত লাখ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী আসে বাংলাদেশে। দীর্ঘ পথ পায়ে হেঁটে এসে খারিয়া খালি পয়েন্ট দিয়ে তারা প্রবেশ করে। গতকাল সেই পথ ধরেই কিছুটা সময় হেঁটেছেন বলিউড অভিনেত্রী প্রিয়াংকা চোপড়া। সঙ্গীদের সঙ্গে দেখেছেন নাফ নদী আর মিয়ানমার সীমান্ত। শোনেছেন এই পথ ধরে আসা মানুষগুলোর দুঃখ-কষ্টের গল্প।

সকাল ৯টার দিকে ইনানীর হোটেল রয়েল টিউলিপ থেকে বের হয়ে মেরিন ড্রাইভ সড়ক ধরে টেকনাফের সাবরাং এলাকায় যান প্রিয়াংকা। সেখান থেকে চলে আসার সময় মসজিদের সামনে গাছের নিচে দাঁড়িয়ে ১৫ রোহিঙ্গা শিশুদের সঙ্গে কথা বলেন।

টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রণজিত কুমার বড়–য়া জানান, খারিয়া খালী এলাকায় প্রিয়াংকা চোপড়া আসার পর মানুষের ভিড় জমে যায়। এ সময় তিনি স্থানীয় অনেক শিশুর সঙ্গে কথা বলেন। তারা স্কুলে যায় কিনা জানতে চান প্রিয়াংকা। এর পর টেকনাফের লেদা বিজিবি চৌকির কাছে ইউনিসেফ পরিচালিত শিশুদের খেলাধুলার জন্য তৈরি স্থান পরিদর্শন করেন। পরে তিনি টেকনাফ থেকে সরসরি চলে যান উখিয়ার কুতুপালংয়ের এক নম্বর ক্যাম্পে।

কক্সবাজার পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আফরাজুল হক টুটুল জানান, বলিউড অভিনেত্রী প্রিয়াংকা চোপড়া ইউনিসেফের শুভেচ্ছাদূত হয়ে রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প পরিদর্শনে আসার খবরটি আগেই ছড়িয়ে যায়। তাকে এক নজর দেখতে উখিয়া টেকনাফে স্থানীয় জনগণ আর রোহিঙ্গারা সড়কে ভিড় করে। বিশেষ করে রোহিঙ্গারা হিন্দি ছবি দেখায় প্রিয়ংকার অনেক ফ্যান রয়েছে।

তাই কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে প্রিয়াংকা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন। তিনি কুতুপালং ক্যাম্পে রোহিঙ্গা নারী ও শিশুদের সঙ্গে কথা বলছেন। অন্যদিকে প্রিয় অভিনেত্রীকে কাছে পেয়ে আনন্দে মেতে ওঠে রোহিঙ্গা নারী ও শিশু।

তবে দিনের শুরুতে প্রিয়ংকার টেকনাফের লেদা ও উনচিপ্রাং এলাকার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করার কথা থাকলেও বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে যান তিনি। এর পর হোটেলে ফিরেন। আজ সকালে প্রথমে উখিয়ার জামতলী ও পরে বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করবেন।

সোমবার ইউনিসেফের শুভেচ্ছাদূত হয়ে রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প পরিদর্শনে বাংলাদেশে আসা ফ্যাশনখ্যাত এই অভিনেত্রী আগামীকাল কক্সবাজার ত্যাগ করবেন বলে জানায় পুলিশ। প্রকৃতি, স্বাস্থ্য, শিা, নারী অধিকার ইত্যাদি বিষয়ে কাজ করে চলেছেন এই অভিনেত্রী। এর আগে গত বছর প্রিয়াংকা গিয়েছিলেন জর্ডানে, সিরিয়ান শরণার্থী শিশুদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here