সৌদি আরবে এক বাবা-ছেলের ধর্ষণ ও পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এক বাংলাদেশি নারী শ্রমিক। গৃহকর্মী হিসেবে ওই নারীকে নিয়োগ দেওয়া হলেও, সুযোগ বুঝে পরবর্তীতে ওই দুই লম্পট তাকে ভোগের সামগ্রী বানায়। প্রায়ই তানিয়া (ছদ্মনাম) নামে ওই নারীকে যৌন নির্যাতন করতো ওই সৌদি বাপ-ছেলে। এক সময় তাদের হাত থেকে বাঁচতে ছাদ থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন ওই তরুণী। বর্তমানে তিনি দেশটির বাদশা খালেদ হাসপাতালে ভর্তি আছেন।

ওই হাসপাতালের বাংলাদেশি নার্সের মোবাইল থেকে সম্প্রতি ফোন করে স্বামী রাসেলকে এসব ঘটনা খুলে বলেন তানিয়া। এরপর রাসেল আদম ব্যবসায়ী ইকবালের সূত্র ধরে ঘটনার নায়ক ও মূল আদম ব্যবসায়ী এম এইচ ট্রেড ইন্টারন্যাশাল (রিক্রুটিং লাইসেন্স নং-আরএল১১৬৬) এর মালিক মকবুল হোসেনকে খুঁজে বের করেন। তানিয়ার সাথে মকবুল হোসেন ও ইকবালের লোকেরাও কথা বলেন।

জানা গেছে, অভাবের সংসারে একটু স্বচ্ছলতার আশায় গত ১৭ এপ্রিল এক আদম ব্যবসায়ীর মাধ্যমে সৌদি আরবে যান তানিয়া। রিয়াদে এক স্কুল অধ্যক্ষের দুই ছেলেকে দেখভালের কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত ওই চাকরি তার হয়নি। পরবর্তীতে তাকে রাখা হয় এক নির্জন বাড়িতে। সেখানেই বাড়ির মালিক ও তার ছেলের পাশবিক নির্যতনের শিকার হন তিনি।

তানিয়া জানিয়েছেন, যে বাড়িতে তাকে গৃহপরিচারিকা হিসেবে রাখা হয় সেখানে অন্য কোনো নারী ছিলেন না। ফলে ভিনদেশী ওই দুই লম্পট বাপ-ছেলের কাছে তিনি ছিলেন অসহায়। এভাবে আট দিন তারা তার ওপর নির্যাতন চালায়। একপর্যায়ে আত্মহত্যা করতে তিনি বাসার ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়েছিলেন। কাঁদতে কাঁদতে তানিয়া তার স্বামীকে বলেন, ‘সৌদিতে লম্পটের অভাব নেই, বাপও যেমন ছেলেও তেমন’

বর্তমানে তানিয়ার স্বামী রাসেল স্ত্রীকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সির দুয়ারে ধর্না দিচ্ছেন প্রতিনিয়ত। বিভিন্ন দফতরেও ঘুরছেন নিয়ম করে। তাই তার স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনতে রাসেল রাসেল সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here