‘আমাদের কোনো কোটার দরকার নেই। আমরা আমাদের পিতাদের সম্মান চাই। চাকরিতে কোটা হল সম্মানের জায়গা, যা মুক্তিযোদ্ধাদের যুদ্ধ পরবর্তী পুনর্বাসন এবং তাদের সম্মান দেয়ার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী সেই কোটা বাতিল করেছেন।’

বুধবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের সামনে এক প্রতিবাদ সমাবেশে নৌপরিবহনমন্ত্রীর ছেলে আসিফুর রহমান খান এ কথা বলেন।

‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় রক্স্নাত স্বাধীনতাকে সমুন্নত রাখার জন্য আমরা ঐক্যবদ্ধ’ স্লোগানকে সামনে রেখে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও প্রজন্ম সমন্বয় পরিষদ। সংগঠনের সমন্বয়ক কাজী রুবেলের সঞ্চালনায় সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন যুগ্ম-আহ্বায়ক আবু সাঈদ খান, ঢাবি মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের উপ-মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বুলবুল, ঢাবি শিক্ষার্থী আশিকুর রহমান প্রমুখ।

আসিফুর রহমান খান বলেন, ‘ভাতা কিংবা কোটার জন্য আমাদের বাবারা যুদ্ধ করেননি। তারা এদেশের শান্তির জন্য যুদ্ধে গিয়েছিলেন। কিন্তু এখন যারা কোটাবিরোধী আন্দোলনের নামে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে, তারা স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না। কোটাবিরোধী আন্দোলন একটা ষড়যন্ত্র। এরই অংশ হিসেবে তারা কোটা সংস্কার আন্দোলনে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করেছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা এটা বুঝতে পেরে এখন তাদের বর্জন করেছে। তাদের সমাবেশে এখন আর হাজার হাজার মানুষ হয় না।’

মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও প্রজন্ম সমন্বয় পরিষদ এই সমাবেশে ছয় দফা দাবি পেশ করে। দাবিগুলো হলো- ১. কোটা সংস্কারের নামে হত্যার গুজব ছড়িয়ে উস্কানি দিয়ে দেশে অরাজকতা, নৈরাজ্য ও সন্ত্রাস সৃষ্টিকারীরে চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নিতে হবে। ২. জামায়াত-শিবির, যুদ্ধাপরাধী ও স্বাধীনতাবিরোধী ব্যক্তি ও দলের সন্তারে সরকারি চাকরিতে নিয়োগ বন্ধ করতে হবে। ৩. জামায়াত-শিবির ও স্বাধীনতাবিরোধী যারা সরকারি চাকরিতে বহাল থেকে দেশের উন্নয়ন ব্যাহত করছে ও সরকারবিরোধী নানা চক্রান্তে লিপ্ত, তাদের চিহ্নিত করে অব্যহতি দিতে হবে। ৪. যুদ্ধাপরাধীদের সব স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তি সরকারের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করতে হবে। ৫. যারা ২০১৩, ২০১৪ ও ২০১৫ সালে পুড়িয়ে, পিটিয়ে, কুপিয়ে অসংখ্য মানুষ হত্যা করেছে এবং আগুনসন্ত্রাস সৃষ্টির মাধ্যমে বেসরকারি ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংস করেছে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে তাদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। ৬. মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান ক্ষুণ্নকারী, মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুকে কটাকারীদের বিরুদ্ধে পাশ্চাত্যের হলোকাস্ট বা জেনোসাইড ডিনায়েল ল’ এর আদলে আইন প্রণয়ন করে বিচারের ব্যবস্থা নিতে হবে।

সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানরা। মিছিলটি রাজু ভাস্কর্যের সামনে থেকে শুরু হয়ে শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here