গোটা জাতি প্রার্থনা করেছিল তার জন্য। সিঙ্গাপুরের ডাক্তাররা যখন হাল ছেড়ে দিয়েছিল আমাদের ডাক্তাররা সব চেষ্টা করেছেন। প্রধানমন্ত্রীও খোঁজ রাখতেন নিয়মিত। তবু বাঁচানো গেল না তাকে। বিরল রোগ হেমানজিওমায় আক্রান্ত সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কামারবায়সা গ্রামের ১২ বছরের কিশোরী মুক্তামনি অবশেষে না ফেরার দেশেই। বুধবার সকাল ৬টার দিকে নিজ বাড়িতেই মারা যায় সে।

মুক্তামনির বাবা ইব্রাহিম হোসেন ফোনে বলেন, ‘কয়েক দিন ধরে জ্বর ও শ্বাসকষ্ট বেড়ে গিয়েছিল মুক্তামনির। এ জন্য ওষুধ খাওয়ানো হচ্ছিলো। আজ সকালে মুক্তা আমাকে ডেকে বলে আব্বু আমি একটু পানি খাবো। তারপর হাঠাৎ সে মারা যায়।’

এর আগে তিনি জানান, কয়েক দিন ধরে তার অবস্থার অবনতি হচ্ছিল। বিষয়টি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের ডাক্তার সামন্তলাল সেনকে জানানো হয়েছিল।

ফোন করে মুক্তমনির খোঁজখবর নিয়ে তিনি রোজার পরে আবারও মুক্তামনিকে ঢাকায় নিয়ে আরও কিছু পরীক্ষার-নিরীক্ষা করার কথা জানিয়েছিলেন।

২০১৭ সালের জুলাই মাসে বিরল রোগে আক্রান্ত সাতক্ষীরার মুক্তামণিকে নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদন প্রকাশের পর এই শিশুর চিকিৎসার দায়িত্ব নেন স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগের সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম।

পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার চিকিৎসার দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। এরপর ১১ জুলাই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয় তাকে। সেখানে মুক্তামনির চিকিৎসায় গঠিত হয় বোর্ড। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ধরা পড়ে মুক্তামনির হাত রক্তনালীর টিউমারে হেমানজিওমায় আক্রান্ত। তারপর মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কয়েক দফা অস্ত্রোপচার করে অপসারণ করা হয় তার হাতের অতিরিক্ত মাংসপিণ্ড।

গত বছরের ২২ ডিসেম্বর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে এক মাসের জন্য বাড়ি আনা হয় মুক্তামনিকে। এরপর আর হাসপাতালে যেতে রাজি হয়নি মুক্তামনি। বাড়িতেই কোনমতে চলছিল তার চিকিৎসা।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here