বাবার কবরেই চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী তাজিন আহমেদ। বুধবার বাদ জোহর নগরীর গুলশান আজাদ মসজিদে জানাজা শেষে বনানী কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

গুলশানের আজাদ মসজিদে বাদ জোহর জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় শোবিজের সিনিয়র ও জুনিয়র অনেক শিল্পী উপস্থিত ছিলেন। তারপর ওখান থেকে বনানী কবরস্থানে তাজিনের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার বাবার কবরেই তাজিনকে সমাহিত করা হয়েছে।

জানাজায় উপস্থিত ছিলেন রামেন্দ্র মজুমদার, অভিনয় শিল্পী সংঘের সভাপতি শহিদুল ইসলাম সাচ্চু, সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব নাসিম, পরিচালক বদরুল আলম সৌদ, অভিনেতা সিদ্দিকুর রহমান, এস এ হক অলিক প্রমুখ।

এ ছাড়া তাজিনকে দেখতে আজাদ মসজিদে গিয়েছিলেন অভিনেত্রী বিপাশা হায়াত, সুবর্ণা মুস্তাফা, আফরোজা বাবু, রোকেয়া প্রাচী, নওশীন, সুইটি, বাঁধন, সোনিয়া, উর্মিলা, বিজরী, নির্মাতা চয়নিকা চৌধুরী প্রমুখ। এসময় উপস্থিত সকলের মাঝে শোকের ছায়া বিরাজ করে।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার দুপুরে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাজিন আহমেদকে দ্রুত নগরীর উত্তরার রিজেন্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তারপর কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে নিবির পরিচর্যা কেন্দ্রে লাইফ সাপোর্টে রাখেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেল আনুমানিক ৪টা ৪০ মিনিটে মৃত্যুবরণ করেন এই অভিনেত্রী। এরপর রাতে তার মরদেহ রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়।

দিলারা ডলি রচিত ও শেখ নিয়ামত আলী পরিচালিত ‘শেষ দেখা শেষ নয়’ নাটকে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে তাজিন আহমেদের অভিনয়যাত্রা শুরু। নাটকটি ১৯৯৬ সালে বিটিভিতে প্রচার হয়েছিল। এরপর অসংখ্য নাটক-টেলিফিল্মে কাজ করেছে তিনি। ‘শেষ দেখা শেষ নয়’ নাটকের আগে ১৯৯১ সালে বিটিভিতে প্রচারিত ‘চেতনা’ নামের অনুষ্ঠান উপস্থাপনার মাধ্যমে উপস্থাপনা ক্যারিয়ার শুরু করেন তিনি। তার অভিনীত ‘আঁধারে ধবল দৃপ্তি’ নাটকটি বেশ সাড়া জাগিয়েছিল। এটিও বিটিভিতে প্রচারিত হয়েছিল।

১৯৯৭ সালে থিয়েটার আরামবাগে যোগ দেন। এরপর নাট্যজন থিয়েটারের হয়ে বেশ কিছু নাটকে অভিনয় করেন। পরবর্তী সময়ে আরণ্যক নাট্যদলের ‘ময়ূর সিংহাসন’ নাটকে অভিনয় করেন। এটি তার অভিনীত সর্বশেষ মঞ্চনাটক। তার সর্বশেষ অভিনীত ধারাবাহিক নাটক ‘বিদেশি পাড়া’।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here