বিরল শারীরিক ত্রুটি নিয়ে জন্ম। তবে পৃথিবীর আলো দেখতে অপেক্ষা করলো মাত্র ১৫ মিনিট। তারপর চলে গেল যেখান থেকে এসেছিল‚ সেখানেই। সম্প্রতি ভারতের মহারাষ্ট্রের এক গ্রামীণ হাসপাতালে পায়ের পাতা জোড়া লাগানো এক শিশুর জন্ম হয়। তবে জন্মের কিছুক্ষণ পরই মারা যায় সে।

চিকিৎসকরা বলছেন, পায়ের পাতা জোড়া লাগানো থাকায় শিশুটির কোমর থেকে নিচের দিকটা দেখতে মাছের লেজের মতো। তাই জন্মের পরপরই অনেকে তাকে রূপকথার মৎসকন্যা ভাবতে শুরু করেছিল। কিন্তু আসলে এটি এক ধরনের শারীরিক ত্রুটি। চিকিৎসাশাস্ত্রে এর নাম ‘সিরিনোমিলিয়া’।

জানা যায়, শিশুটিকে জন্ম দেন ২৫ বছর বয়সী দীক্ষা কাম্বলি। সদ্যোজাতর ওজন ছিল ১ কেজি ৮০০ গ্রাম ।

শুধু মাছের লেজের মতো পাই নয়। মারমেইড-সিনড্রোমের শিকার নবজাতকের দুটি হাতও স্বাভাবিক ছিল না। মাছের পাখনার মতো পাতলা চামড়া দিয়ে তা জোড়া ছিল । দেহের উপরের অংশ সক্রিয় ছিল ঠিকই। কিন্তু নিম্নাঙ্গ সম্পূর্ণ অসাড়। গঠন সম্পূর্ণ হয়নি বলে বোঝাও যায়নি নবজাতক ছেলে না মেয়ে।

মৎস্যশিশুকে ভূমিষ্ঠ করা দীক্ষা কাম্বলি অবশ্য এখন সুস্থ আছেন। তিনি এবং তার স্বামী পেশায় দিনমজুর। কাজ করেন আখের খেতে। গর্ভাবস্থার আট মাসের মাথায় তার আল্ট্রা সোনোগ্রাফি হয়েছিল। তবে তিনি অন্তঃসত্বা থাকাকালীন কোনও ওষুধ খাননি ।

অতি বিরল জিনগত ত্রুটি সিরেনোমেলিয়া বা সাইরেনোমেলিয়া ঘটে এক লাখের মধ্যে মাত্র এক জন সদ্যোজাতর ক্ষেত্রে। গর্ভবতী মায়ের অসুস্থতার কারণেও এই জটিলতা দেখা দেয় ।

বছর দুয়েক আগে উত্তরপ্রদেশের সাহারনপুরে এমনই এক শিশুর জন্ম হয়েছিল। তার দেহে কোমরের নিচ থেকে পুরোটাই ছিল জোড়া‚ মাছের লেজের মতো। হাতদুটো দেখতে লাগছিল মাছের পাখনার মতো। এতটাই বিকৃত ছিল গঠন‚ বোঝাই যায়নি সেটি ছেলে না মেয়েশিশু।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here