তিন সন্তানের বাবা রিকশাচালক সাজিদ (২৯)। বিয়ের পর থেকেই তিনি শ্বশুরবাড়িতে আছেন। যা আয় করেন মাদকের পেছনেই সব শেষ করেন। নেশাগ্রস্ত শরীর নিয়ে নিয়মিত রিকশা চালাতেন না। দুমুঠো ভাত জোগাতে স্ত্রী রুবিয়া (২৯) ভিক্ষা করেন। স্ত্রীর ভিক্ষা করা টাকাও তিনি ছিনিয়ে নিতেন। পরিবারের সন্তানসহ প্রায় দিনই কাটতো অনাহারে।

জামাইয়ের এ আসক্তিতে বৃদ্ধ শ্বশুর ওমর আলী হতাশ। কেউ তাকে ফেরাতে পারছে না। নেশার জগতে নিজেকে হারিয়ে তিনি প্রায় উম্মাদ। দুনিয়ায় আর যাই ঘটুক, প্রতিদিন তার নেশা চাই।

সম্প্রতি পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতিতে মাদকবিরোধী অভিযানে ব্যাপক গ্রেফতার ও বন্দুকযুদ্ধে মাদক ব্যবসায়ী নিহতের ঘটনায় সকল মাদক ব্যবসায়ীরা গা-ঢাকা দেয়। এতে সাজিদের মতো নেশাকারীরা অস্থির হয়ে পড়েছেন।

বুধবার রাত সাড়ে ১০ টায় সরেজমিনে ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, মাদকাসক্ত সাজিদ মাদক না পেয়ে নিজেকে ঠিক রাখতে পারছেন না। বাড়ির পাশের রেললাইনে বারবার আত্মহত্যার জন্য যাচ্ছে। প্রতিবেশীরা তাকে বারবার ফিরিয়ে আনছে।

সাজিদ জানায়, তিনি উত্তরা আবাসন থেকে মাদক সংগ্রহ করে নিয়মিত সেবন করতেন। তবে এখন শহরের কোথাও কোন বিক্রেতা নেই। তাই এ অবস্থা হয়েছে তার।

শহিদুল (৫৫) নামে এক মাদকসেবী বলেন, ‘দীর্ঘ ২০ বছর ধরে নিয়মিত গাঁজা খাইতাম। এখন পাচ্ছি না। এতে খুবই কষ্ট হচ্ছে। শারীরিক সমস্যা দেখা দিয়েছে।’

নান্টু (২৪) নামে এক কলেজ ছাত্র জানান, মাদকের বিরুদ্ধে সম্প্রতি পুলিশের এমন তৎপরতা অব্যাহত থাকলে মাদকসেবীরা এ পথ ছেড়ে আলোর পথে আসতে বাধ্য হবে। তাই সুস্থদের সাথে মাদকাসক্তরাও এমন মন্তব্য করেন।

সৈয়দপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অশোক কুমার পাল বলেন, ‘সাজিদের পরিবার চাইলে চিকিৎসার জন্য সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে। মাদক বিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here