শান্তিনিকেতনে বাংলাদেশ ভবন উদ্বোধনের জন্য বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পশ্চিমবঙ্গসফরে রয়েছেন। এই সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের সঙ্গে তার আলাদা আলাদা বৈঠক হবে। তাই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও বহু আকাঙ্খিত তিস্তা চুক্তির মতো বিষয়গুলো এসব বৈঠকে উঠবে কি না এ নিয়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। তবে এরইমধ্যে পশ্চিমবঙ্গের আনন্দবাজার পত্রিকা জানিয়েছে, আগামীকাল শেখ হাসিনার সঙ্গে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের আলাদা বৈঠক হলেও সেখানে তিস্তা প্রসঙ্গ উঠবে না।

খবরে বলা হয়, শেখ হাসিনার চলতি সফরে তার সঙ্গে আলাদা বৈঠক হবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। এমনকি শুক্রবার বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনের পরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোনির সঙ্গে শেখ হাসিনার বৈঠকেও যোগ দিতে পারেন মমতা।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শান্তিনিকেতনে পৌঁছে মমতা নিজেই বলেছেন, বাংলাদেশ ভবনের উদ্বোধন আছে। বাংলাদেশ থেকে আমাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। দুই প্রধানমন্ত্রী থাকবেন। আমিও থাকব। কথা হবে। ওদের বিদায়ও জানাব। পরের দিন শেখ হাসিনার সঙ্গে আলাদা করেও কথা হবে।

জানা গেছে, আজ প্রথমে বিশ্বভারতি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন, তারপরে বাংলাদেশ ভবনের উদ্বোধন সেরে বৈঠকে বসার কথা হাসিনা-মোদির। এক ঘণ্টার সেই বৈঠক একেবারেই একান্ত হবে বলে নির্ধারিত আছে। এমনকি বৈঠকে দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারাও থাকবেন না। কিন্তু দু’দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গ এতটাই জড়িত যে, ছকের বাইরে হেঁটে তাই মমতাকে ডেকে নেওয়া হতে পারে বলে মনে করছিলেন কূটনীতিকদের একাংশ। মমতার এ দিনের ঘোষণার পরে সেই সম্ভাবনা আরও জোরালো হল।

হাসিনা-মোদি বৈঠকে কী হবে জানা নেই, তবে শেখ হাসিনার সঙ্গে তার পৃথক বৈঠকে তিস্তা প্রসঙ্গ উঠবে না বলেই মনে করেন মমতা। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রের খবর, শনিবার শেখ হাসিনা কলকাতায় ফেরার পরে তার হোটেলে গিয়ে দেখা করতে চেয়েছেন মমতা। আসানসোলে কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্মানসূচক ডি-লিট নেওয়ার পরে কলকাতায় ফিরে নেতাজি ভবনে যাওয়ার কথা শেখ হাসিনার। সেখান থেকে ফিরে তিনি মমতার সঙ্গে কথা বলবেন। তারপরে বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হবেন।

এ দিন মমতা বলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে আমার সম্পর্ক সব সময় ভাল। হাসিনা যখন বিরোধী নেত্রী, তখন থেকে যোগাযোগ। দেখা হবে, ভাল লাগছে।’ কী কথা হবে হাসিনার সঙ্গে? তিস্তার পানিবণ্টন নিয়ে কথা হবে কি? মমতার জবাব, ‘মনে হয় সে প্রসঙ্গ উঠবে না।’

ভারতের বর্ষীয়ান এক কূটনীতিক জানান, বেশ কয়েক বছর আগে শেখ হাসিনার দিল্লি সফরের সময়েও রাতে তার হোটেলে গিয়েছিলেন মমতা। তিনি তখন সংসদ সদস্য। হাসিনার সঙ্গে ছিলেন তার বোন রেহানা ও বান্ধবি বেবী মওদুদ। খোলামেলা আড্ডা চলেছিল অনেক রাত পর্যন্ত। রেহানা এ বারও আসছেন। কিন্তু বেবী মওদুদ প্রয়াত। আর সেই আড্ডার সময়-সুযোগ এবার নেই।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here