সিলেটের বিশ্বনাথে ধর্ষিত হওয়া এক কিশোরীর পরিবারকে দুই লক্ষ টাকা দিয়ে ধর্ষণের ঘটনা আপোষে নিষ্পত্তি করেছেন কথিত মাতুব্বরেরা। এর ফলে জামিনে জেল থেকে বের হয়ে বিদেশে চম্পট দিয়েছে ধর্ষক। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নের কাদিপুর গ্রামে। এ ঘটনায় উপজেলাজুড়ে চলছে তোলপাড়।

জানা গেছে, ১৪ এপ্রিল কাদিপুর গ্রামের দুবাই প্রবাসী আছর আলী ওরফে আফছর একই গ্রামের দিনমজুর তাহির আলীর ১৫ বছর বয়সী কিশোরী মেয়েকে একা ঘরে পেয়ে সম্ভ্রমহানি করে। ঘটনাটি স্থানীয় মাতুব্বরেরা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করেন। কিন্ত থানা পুলিশ ঘটনাটি জানতে পেরে ওইদিন রাতে আফছরকে আটক করে এবং ভিকটিমকে থানায় নিয়ে আসে। কিশোরীর পিতা বাদী হয়ে রাতেই অভিযোগ দায়ের করেন। আফছরকে ছাড়িয়ে নিতে থানার দালালেরা শুরু করে নানা তদবীর। তারা জনৈক পুলিশ কর্মকর্তার উপস্থিতিতে কিশোরীর ইজ্জতের মূল্য দেড় লক্ষ টাকা নির্ধারণ করে ঘটনাটি নিষ্পত্তির জন্যে তার পিতাকে সম্মত করেন। তবে, এর আগেই ঘটনার সংবাদ বিভিন্ন অনলাইনে ছড়িয়ে পড়লে বিপাকে পড়ে যায় পুলিশ ও দালালেরা। বাধ্য হয়ে ১৮ এপ্রিল কিশোরীর পিতার অভিযোগ মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়। এরপর আফছরকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়। কিশোরীকে পাঠানো হয় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসিতে।

একটি সূত্র জানায়, সম্প্রতি আফছরের মামা লন্ডনপ্রবাসী আইয়ূব আলী দেশে ফিরে তার ভাতিজা নুরুল ইসলাম, একই গ্রামের সৌদি আরব প্রবাসী রফিক মিয়া, শ্রীধরপুর গ্রামের শাহজাহান সিরাজ, ইলামেরগাঁও গ্রামের আমিন উল্লাহ ও স্থানীয় ইউপি সদস্য নাছির উদ্দিনের মাধ্যমে আফছরের পরিবারের কাছ থেকে ৫ লক্ষ টাকা নিয়ে কিশোরীর পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা দিয়ে বিষয়টি নিস্পত্তি করেন। এরপর ১৫ মে জামিনে মুক্ত হয়ে এক সপ্তাহ পরেই দুবাইয়ে চম্পট দেয় ধর্ষক আফছর। আপোষের বাকি তিন লক্ষ টাকা জামিনসহ মাতুব্বরদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

বৃহষ্পতিবার বিকেলে স্থানীয় সাংবাদিকেরা সরজমিন কিশোরীর বাড়িতে গেলে তার পিতা তাহির আলী ও সৎমা ৫ লক্ষ টাকায় ঘটনাটি নিষ্পত্তির বিষয়টি অস্বীকার করেন। তারা বলেন, আফছরের মামা লন্ডনপ্রবাসী আইয়ূব আলী কিশোরীকে নিজের টাকার অন্যত্র বিয়ে দেবার প্রতিশ্রতি দেয়ায় তারা আপোষে সম্মত হন।

তবে, কিশোরীর দাদি কাচা বেগম সাংবাদিকদের কাছে দুই লক্ষ টাকা পেয়েছেন বলে স্বীকার করেন। এসময় কথা হলে সম্ভ্রম হারানো কিশোরী সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি টাকা চাই না, যে আমার জীবন নষ্ট করেছে আমি তাকে চাই।’

আফছরের চাচাতো ভাই নুরুল ইসলাম বলেন, আমার চাচা আইয়ূব আলী কিভাবে বিষয়টি নিস্পত্তি করেছেন তা তিনি জানেন। এ ব্যাপারে আমার কিছুই জানা নেই। তবে, শ্রীধরপুর গ্রামের শাহজাহান সিরাজ ও ইলামেরগাঁও গ্রামের আমিন উল্লাহর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাদেরকে পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য নাছির উদ্দিন বলেন, কিভাবে বিষয়টি নিস্পত্তি হয়েছে আমি তা জানি না। একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমাকে রফিক মিয়া (আফছরের মামা) বলেছেন, আদালতে একটি কাগজ দিতে হবে। আর সেই কাগজে আমার স্বাক্ষর লাগবে। তাই আমি স্বাক্ষর দিয়েছি।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বিশ্বনাথ থানার এসআই মিজানুর রহমান বলেন, মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে আদালতে মামলার চার্জশিট দেয়া হবে।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here