কবিগুরুর স্মৃতিবিজরিত শান্তিনিকেতনে বাংলাদেশ ভবন উদ্বোধন শেষে আজ এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। উভয় প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে এই বৈঠক এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে এর দিকে নাকি চোখ রেখেছে গোটা এশিয়া। ভারতীয় গণমাধ্যমের দাবি, বিশেষ করে হাসিনা-মোদি বৈঠকের দিকে কড়া নজর রাখছে চীন ও মিয়ানমার।

জানা গেছে, হাসিনা ও মোদির মধ্যকার আলোচনার জন্য প্রাথমিকভাবে ৫০ মিনিট সময় ধার্য করা হয়েছিল। পরিস্থিতি অনুধাবন করে সেই বৈঠকের সময় ৬০ মিনিট পর্যন্ত বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

ঢাকার কূটনৈতিক মহল মনে করছে, হাসিনা-মোদির বৈঠকে রোহিঙ্গা ইস্যু, তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি বিশেষ গুরুত্ব পাবে। পাশাপাশি, সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় নয়াদিল্লি ও ঢাকার যৌথ পদক্ষেপ আরও কতটা শক্তিশালী করা যায় সেই সংক্রান্ত কিছু বিষয় থাকতে পারে আলোচনায়। ফলে কবিগুরুর শান্তিনিকেতন কয়েক ঘণ্টার জন্য আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রভূমি।

উভয় প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে বৈঠকে কী কী আলোচনা ও সিদ্ধান্ত হয়, সেই দিকে তাকিয়ে রয়েছে চীন-মিয়ানমারও। এর মধ্যে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে বন্দিত। আবার ৬ লক্ষাধিক রোহিঙ্গাকে চাপে হিমশিম খাচ্ছে ঢাকা। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্ট, মিয়ানমার সরকারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গাদের ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে জঙ্গি সংগঠনগুলো ভারত ও বাংলাদেশে নাশকতা ছড়াতে তৎপর। তাই রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভারতের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, সেখানেও হচ্ছে অনুপ্রবেশ।

রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার সরকারের উপর আরও আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টির জন্য ভারতকে আহ্বান জানাতে পারেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ফলে এ বৈঠকের দিকে তাকিয়ে মিয়ানমার সরকার।

সম্প্রতি চীন-বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্ক ঘিরে কিছুটা উদ্বিগ্ন হয়েছে নয়াদিল্লি। পরে ঢাকার তরফে জানানো হয়, চীনকে নিয়ে চিন্তার কোনও কারণ নেই, কারণ ভারতই বাংলাদেশের বড়বন্ধু।

বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে খবর, চীন থেকে বাংলাদেশের সাবমেরিন ক্রয়, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের শেয়ার ক্রয়, বাংলাদেশে চীনের বিনিয়োগ নিয়েও আলোচনা হবে হাসিনা-মোদির। স্বাভাবিকভাবেই চীনও নজর রাখছে বৈঠকে।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here