বাংলাদেশে অবৈধ মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে পুলিশ র‌্যাবের অভিযানে শুক্রবার ভোর থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত নয় জেলায় কথিত বন্দুকযুদ্ধে কমপক্ষে ১১ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এই অভিযানে গত তিন সপ্তাহে নিহতের সংখ্যা ৭০ জনে ছাড়াল। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, এই অভিযান কি কোনো তালিকার ভিত্তিতে হচ্ছে? সে তালিকা কার করা?

এ প্রশ্নে পাওয়া যাচ্ছে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য। পুলিশ এবং র‌্যাবের সূত্রগুলো বলছে, তারা তাদের স্ব স্ব বাহিনীর তালিকা নিয়ে মাদক ব্যবসায়ীদের টার্গেট করে অভিযান চালাচ্ছে। কিন্তু স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা দাবি করেছেন, সমন্বিত তালিকার মাধ্যমেই অভিযান চলছে।

দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিনই নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটছে। এ পর্যন্ত নিহতদের দু’একজনের পরিবার ঘটনার প্রতিবাদ করে সাংবাদিকদের কাছে বক্তব্য তুলে ধরেছে। এর মধ্যে একজন – চট্টগ্রামের পটিয়া এলাকার হাবিবুর রহমান মাদকবিরোধী অভিযানে নিহত হওয়ার পর তার পরিবার সংবাদ সম্মেলন করেছে।

তার মেয়ে তানজিদা রহমান বলেন, তার বাবা স্থানীয় কোন গোষ্ঠির ষড়যন্ত্রের শিকার বলে তারা বিশ্বাস করেন। আমার আব্বুকে ওরা কোথায় নিয়ে গেছে, আমরা জানতাম না। পরে বরিশাল কলোনির দুই জনের লাশ টেলিভিশনের খবরে দেখাচ্ছে। তখন দেখলাম আমার আব্বুর লাশ এবং তার হাতে সিগারেট। কিন্তু তিনি কোনদিন সিগারেট খেতেন না।

‘আমার আব্বু মাদকের সাথে জড়িত ছিল না। কারণ আমার আব্বু বিদেশে ছিল কিছুদিন। বিদেশ থেকে আসার পর আব্বু কোর্ট বিল্ডিংয়ের কাছে নাস্তা বিক্রির দোকান করেছিল।’

দু’দিন আগে অভিযানে নিহত হয়েছেন রাজশাহীর পুঠিয়া এলাকায় বাসিন্দা লিয়াকত আলী মন্ডল। তার স্ত্রী মেহের বানু বলেন, তার স্বামী আগে মাদকের ব্যবসা করলেও তিনি সেই পথ ছেড়ে এসেছিলেন। এখন তাহলে কী কারণে তার স্বামীর এই পরিণতি হলো, সেই প্রশ্ন তুলছেন মেহের বানু।

‘মানুষ খারাপ থেকে ভাল হয় না? ভাল হতে পারে। আমার স্বামী দোকান দিছে। এছাড়া গরু ব্যবসা করতো। ওয়ার্ড আওয়ামী লীগেরও সভাপতি ছিল সে। র‌্যাবের দু’জন এসে বলছে, তারা একটা গরু কিনবে, সেটা দেখে তাকে কিনে দিতে হবে। এই বলে আমার স্বামীকে নিয়ে যাওয়ার পর তার লাশ পাইছি। আমার স্বামীকে যে ষড়যন্ত্র করি নিয়া যায়া মারলো, এর কি বিচার হবে না?’

নিহতদের সম্পর্কে মানবাধিকার সংগঠনগুলোও তথ্য যাচাই করতে পারছে না। কারণ পরিবারগুলো ভয়ের মধ্যে আছে। বেশিরভাগ ঘটনার ক্ষেত্রে স্থানীয় লোকজনও মুখ খুলছে না। মানবাধিকার কর্মী নূর খান লিটন বলেন, ‘অভিযানে কতটা যাচাই বাছাই করা হচ্ছে, তা নিয়ে তাদের মনে অনেক প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে। কোন সমন্বিত তালিকা ছাড়াই পুলিশ র‌্যাবসহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীগুলো নিজেদের মতো করে অভিযান চালাচ্ছে। নিহতদের পরিবারের কেউ কেউ দাবি করছেন, তাদের বাড়ি থেকে উঠিয়ে নেওয়া হচ্ছে, এরপর কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হচ্ছে। আবার কমপক্ষে দু’টি পরিবার দাবি করেছে, তাদের স্বজনকে উঠিয়ে নেয়ার আগে এবং পরে আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের কাছে টাকা দাবি করেছিল। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে দেখলাম, গাজীপুরে এমন একটি অভিযোগ তদন্তে গিয়েছিল।’

তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দীন দাবি করেছেন, সমন্বিত তালিকার ভিত্তিতেই এই অভিযান চলছে। তিনি বলেন, ‘একটা কমবাইন্ড তালিকা তো আছেই। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা থেকে যে তালিকা পাওয়া যাচ্ছে,সেগুলো সব মিলিয়ে এবং মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তালিকা মিলিয়েই কমবাইন্ড তালিকা করা হয়েছে।’ খবর বিবিসির।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here