কদিন পরই পুরো বিশ্ব কাঁপবে ফুটবল-জ্বরে। ৩২টি দেশের সমাবেশ ঘটতে যাচ্ছে লেলিনের দেশ রাশিয়া। মাঠের লড়াইয়ে বাংলাদেশ নেই, কিন্তু এদেশের তৈরি জার্সি থাকবে বিভিন্ন দেশের খেলোয়াড়দের গায়ে। শুধু জার্সিই নয়, গেঞ্জি, হাফপ্যান্টসহ নানা ধরনের পণ্য তৈরি করে সরবরাহ করছে। বিশ্বকাপ ফুটবলের আয়োজক সংস্থা ফিফার কার্যাদেশের ভিত্তিতে বিভিন্ন দেশের খ্যাতিমান ব্র্যান্ড এসব পণ্য আমদানি করছে।

চলতি বছরে বিশ্বকাপ ফুটবলের আসরে ব্যবহারের জন্য বাংলাদেশ প্রায় ১০০ কোটি ডলার বা ৮ হাজার ৬০০ কোটি টাকার পণ্য রপ্তানি করেছে। এর আগে ২০১৪ সালের বিশ্বকাপে রপ্তানি করেছিল প্রায় ৭০ কোটি ডলারের পণ্য। সেতুলনায় এবার ৩০ কোটি ডলারের পণ্য বেশি পাঠাতে পেরেছে।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) জানিয়েছে, বিশ্বকাপ ফুটবল উপলক্ষে এ বছর বাংলাদেশ থেকে পোশাক রপ্তানি আগেরবারের তুলনায় ১১ দশমিক ৪৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। শুধু বিশ্বকাপ ফুটবলের আসরেই নয়, অন্য সময়ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন পণ্য আমদানি করে। এবার সবচেয়ে বেশি রপ্তানি হয়েছে খেলোয়াড়দের জার্সি, গেঞ্জি, হাফপ্যান্ট, শীতের পোশাক, ট্রাউজার, অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর জাতীয় পতাকা।

রপ্তানিকারকরা জানিয়েছেন, সারা বছরই খেলার সামগ্রী তৈরি হয় দেশের শতাধিক নিট পোশাক কারখানায়। বহুজাতিক খ্যাতিমান ব্র্যান্ডগুলো এসব আমদানি করে বাজারে ছাড়ে। এবার ফিফার কার্যাদেশের ভিত্তিতে নেয়া হচ্ছে। বিশ্বকাপ আয়োজনে রিবক, নাইকি, অ্যাডিডাস, পুমা, কেরিফোর, সিঅ্যান্ডএ, এইচঅ্যান্ডএমসহ বিভিন্ন খ্যাতিমান ব্র্যান্ড কোম্পানি এসব পণ্য সরবরাহ করছে। এদের অনেকেই বাংলাদেশ থেকে পণ্য নিয়ে বিদেশের বাজারে বিক্রি করে। ফিফার কার্যাদেশের বাইরেও ফুটবলপ্রেমীদের চাহিদা মেটাতে বিভিন্ন দেশের পতাকা বা জার্সির রংয়ে বিভিন্ন পোশাক তৈরি করে রপ্তানি করছে দেশীয় কোম্পানিগুলো। এগুলো মূলত ফুটবল প্রেমীদের কাছে বিক্রি করা হয়। বিশ্বকাপকে ঘিরে এসবের চাহিদাও থাকে তুঙ্গে।

এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইএবি) সভাপতি ও বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী বলেন, ‘বিশ্বকাপ ফুটবলে না খেলতে পারলেও এক অর্থে বাংলাদেশ ঠিকই অংশ নিচ্ছে। গ্যালারির দর্শকদের জার্সি, মাফলার, পতাকাসহ অন্যান্য সামগ্রীর অনেক কিছুই বাংলাদেশের পোশাক কারখানায় তৈরি। এ ছাড়া খেলোয়াড়দের জার্সিসহ নানা পোশাকও বাংলাদেশ থেকে যাচ্ছে। ইউরোপের ব্র্যান্ডগুলো বাংলাদেশ থেকে সবচেয়ে বেশি খেলার সামগ্রী তৈরি করিয়ে নেয়। এসব পণ্যের গায়ে লেখা থাকেব- মেড ইন বাংলাদেশ।’

বিকেএমইএর সহ-সভাপতি মনসুর আহমেদ জানান, বিশ্ববিখ্যাত ব্র্যান্ড কোম্পানি এডিডাস, পুমার মতো প্রতিষ্ঠানের ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট পোশাক বাংলাদেশ বানিয়ে থাকে। এ বছর বিশ্বকাপে অংশ নেয়া ৩২টি দেশের খেলোয়াড় ও ভক্তদের জন্য জার্সি বানানো হয়েছে এদেশ থেকেই। মূলত স্বল্পমূল্যের জন্যই বাংলাদেশ এ খাতে উন্নতি করেছে।

তিনি জানান, তিন ধরনের জার্সি বানাচ্ছে পোশাক কারখানাগুলো। এর মধ্যে রয়েছে প্লেয়ার জার্সি, ফ্যান জার্সি ও কান্ট্রি জার্সি। এগুলোর বেশির ভাগই ব্রাজিল, জার্মানি, ফ্রান্স, স্পেন, বেলজিয়াম, ইতালি, আর্জেন্টিনা ও পর্তুগাল ভক্তদের জন্য তৈরি।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here