প্রতি বছরই ঈদের আগে পোশাক শ্রমিকরা বেতন বোনাসের দাবিতে আন্দোলনে নামেন। এবার ঈদের বেশ কিছুদিন আগেই বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিকদের আন্দোলন শুরু হয়েছে। তবে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের ইঙ্গিত দিয়েছেন বিজিএমইএ সভাপতি।

সম্প্রতি একটি গোয়েন্দা সংস্থা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন দিয়ে বলেছে, প্রতি বছরের মতো এবারও ঈদের আগে রাজধানীর আশেপাশেসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার বেশ কিছু পোশাক কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষের আশঙ্কা রয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে এ বছর আগেভাগেই তা আমলে নিয়েছে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষ। ইতিমধ্যেই তৈরি পোশাক কারখানা অধ্যুষিত এলাকা বলে খ্যাত ঢাকার আশুলিয়া, টঙ্গী, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, চট্টগ্রামে বাড়ানো হয়েছে নজরদারী।

গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক জলি তালুকদার জানান, এবার পরিস্থিতি একটু ভিন্ন। এখনই অনেক গার্মেন্টসে শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। আজ গাজীপুরে একটি গার্মেন্টসে বোনাসের জন্য শ্রমিকরা আন্দোলনে নেমেছেন। এবার শ্রমিকদের মজুরি কাঠামো নির্ধারণের জন্য যে কমিটি করা হয়েছে ওই কমিটি বৈঠকই করতে পারছে না। তারিখ ঠিক হলেও বিজিএমইএ সভাপতি বিদেশে চলে যান। মালিক পক্ষের অসহযোগিতার কারণে ওই বৈঠকগুলো হচ্ছে না। এবার ঈদে বেতন-বোনাসের সঙ্গে এই ইস্যুটা যুক্ত হতে পারে। ফলে শ্রমিক আন্দোলনের আশংকা আছে।

তবে বিজিএমইএ সভাপতি এই ধরনের আশঙ্কা আমলে নিতে রাজি নন। তিনি বলেন, ‘এবার পরিস্থিতি একটু ভিন্ন। কারণ মাসের মাঝামাঝিতে ঈদ পড়েছে। ফলে একটা সংকট তো হতেই পারে। কারণ বেতন দিতে হবে, বোনাস দিতে হবে। সবগুলো একসঙ্গে দিতে গেলে মালিকরা তো একটু চাপে পড়বেন। তবে আমরা আলোচনা করে সব সমস্যার সামাধান করে ফেলবো। আর শ্রমিকরা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেই সমস্যা সমাধান করতে পারে। শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনার কিছু নেই।’

‘মাসের মাঝামাঝিতে ঈদ পড়েছে। ফলে একটা সংকট তো হতেই পারে।’

ঈদের আগে শ্রমিকরা যাতে সুষ্ঠুভাবে বেতন ভাতা পায় সেজন্য ব্যবস্থা নিতে সরকারের পক্ষ থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এর জন্য অন্যান্য বছরের মতো এবারও কেন্দ্রীয়ভাবে ক্রাইসিস কন্ট্রোল রুম কাজ করছে। এর বাইরে আঞ্চলিক ক্রাইসিস কমিটি রয়েছে।

গাজীপুরের পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদ বলেন, ‘আমরা বিষয়টার দিকে নজর রাখছি। মালিকদের ইতিমধ্যে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। কোন মালিক নির্দেশনা না মানলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঈদের বেতন বোনাসকে কেন্দ্র করে কোন ধরনের বিশৃঙ্খলা ঘটার সুযোগ আমরা দেব না। শ্রমিকদের বেতন বোনাস দিতে হবে। মালিকদের বলেছি, রেশনিং করে শ্রমিকদের ছুটির ব্যবস্থা করতে।’

বিজিএমইএ সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, কারখানা মালিকদেরকে আগামী জুন মাসে একসঙ্গে প্রায় তিন মাসের বেতন পরিশোধ করতে হবে। জুন মাসেই পরিশোধ করতে হবে মে মাসের বেতন। এর পর দিতে হবে ঈদের বোনাস। একই সঙ্গে জুন মাসের পুরোটা না হলেও আংশিক বেতন দিতে হতে পারে। এর ফলে মালিকদের ওপর এক ধরনের অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে উৎপাদনে নেই দেড় হাজারেরও বেশি রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানা। এর মধ্যে কিছু কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। কিছু কারখানায় নেই রপ্তানি আদেশ। কাজ না থাকায় এসব কারখানাও বন্ধ হওয়ার পথে। ফলে এসব কারখানার শ্রমিকদের বেতন-বোনাস কীভাবে হবে তা নিয়ে আছে শংকা।

এত কারখানা বন্ধ হওয়ায় পোশাক খাত যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তেমনি মালিক এবং শ্রমিক উভয় শ্রেণিই বিপদে পড়েছে। জানা গেছে, ২০১৩ সালে রানা প্লাজা ধসের পর নিয়মিত উৎপাদনে না থাকাসহ অন্যান্য কারণে ৫৫০ কারখানার সদস্যপদ বাতিল করেছে বিজিএমইএ। আয়-ব্যয়ের সঙ্গে তাল মেলাতে না পারায় ৩০০ কারখানা নিজেরাই বন্ধ করে দিয়েছে মালিক পক্ষ। নিয়মিত উৎপাদনে না থাকার কারণে ১৮০ কারখানার সদস্যপদ বাতিল করেছে বিকেএমইএ। বিকেএমইএ ভুক্ত ২০০ কারখানা নিজেরাই বন্ধ করে দিয়েছেন মালিকরা। সংস্কার কার্যক্রমে অগ্রগতি দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় এ পর্যন্ত ক্রেতাজোট অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্সের তালিকা থেকে বাদ পড়েছে ২৩২ কারখানা। এসব কারখানার সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন ক্রেতারা। এ কারখানাগুলো দুই জোটের কোনো ক্রেতার রপ্তানি আদেশ পাচ্ছে না। কার্যত এসব কারখানা এখন বন্ধ। খবর ডয়চে ভেলের।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here