সারিবদ্ধভাবে পায়ে হেঁটে অগ্রসর একদল পুলিশ। পেছনে পেছনে ধীরগতিতে পুলিশের পিকআপ ভ্যান। তার ভেতর থেকে উচ্চস্বরে মাইকে চলছিল মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক প্রচারণা। রাস্তার দুধারে দাঁড়িয়ে এমন দৃশ্য দেখছেন উৎসুক জনতা, বাসাবাড়ির জানালায় নারী-শিশু।

এভাবেই মিনিট দশেক শেষ। পুলিশ সদস্যরা ততক্ষণে পৌঁছে গেলেন কাক্ষিত এলাকায়। অভিযান শুরু। যাকে সামনে পেল, তাকেই আটক করল পুলিশ। গতকাল সকালে হাজারীবাগের গণকটুলীতে পুলিশ এভাবেই মাদকবিরোধী অভিযান শুরু করে।

একইভাবে অভিযান চালানো হয় মাদকের হাট কারওয়ান বাজারের রেলওয়ে বস্তি ও সেগুনবাগিচায়। অভিযান শুরুর আগেভাগেই কারওয়ান বাজারে খবর হয়ে যায়। ফলে অনেকেই ঝুঁপড়ি ঘর ছেড়ে নিরাপদে সঁটকে পড়ে। এরপরও গতকালের অভিযানে ১১৬ মাদক বিক্রেতা ও সেবনকারীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

হাজারীবাগের অভিযান শেষে গ্রেপ্তারকৃতদের লেদার কলেজের সামনে হাঁটিয়ে নেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, প্রকৃত মাদক ব্যবসায়ীদের ধরতে না পারলেও যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই ধরে নিয়ে গেছে পুলিশ। তবে আওয়াজ দিয়ে এমন অভিযান পরিচালনা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে নানা প্রশ্ন। স্থানীয়রা বলছেন, গত কয়েকদিনে সারা দেশে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান আর বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় এমনিতেই চোরাচালানী ও মাদক ব্যবসায়ীরা সতর্ক। এ কদিনে অনেকে মাদকের বেচাকেনাও বন্ধ করে দিয়েছে। আর যারা বাসাবাড়িতে মাদক রেখেছে তারা কী পুলিশের এই ঢাকঢোল বাজানো অভিযানের পরও ঘরে বসে থাকবে?

পুলিশের রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার মারুফ হোসেন সরদার বলেন, ‘চলমান মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে গণকটুলি এলাকায় অভিযান চালিয়ে শতাধিক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। যাচাই-বাছাইয়ের পর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।’

ডিএমপির তথ্য মতে, গ্রেপ্তারকৃতদের হেফাজত থেকে ৬ হাজার ৭১৪ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ১ কেজি ৬৫৫ গ্রাম ও ১ হাজার ৭৩৩ পুরিয়া হেরোইন, ২ কেজি ৩১০ গ্রাম গাঁজা, ৮৬ বোতল ফেনসিডিল, ১৫ লিটার দেশি মদ এবং ৫০টি নেশাজাতীয় ইনজেকশন উদ্ধার করা হয়। এসব ঘটনায় ৭০টি মামলা হয়েছে।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here