টেকনাফ পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. একরামুল হক (৪৬) গতকাল রাতে র‌্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন। জনপ্রতিনিধি হয়েও তার বিরুদ্ধে বেশকিছুদিন ধরে মাদক ব্যবসার অভিযোগ ছিল। র‌্যাবও বলছে, একরামুল হক পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী ছিলেন।

র‌্যাব-৭ এর কোম্পানি কমান্ডার (সিপিসি-২) মেজর রুহুল আমিন জানান, ‘গতকাল রাত সাড়ে ১২ টার দিকে টেকনাফের নোয়াখালীপাড়া এলাকায় মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে র‌্যাবের গোলাগুলি হয়। পরে সেখান থেকে তালিকাভুক্ত শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী ও টেকনাফের ওয়ার্ড কাউন্সিলর একরামুল হকের মরদেহ উদ্ধার হয়। এর আগে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাবের একটি দল নিহত একরামুল হকের অবস্থান জানতে পারে। অভিযান শুরু করলে র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে একদল মাদক ব্যবসায়ী র‌্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। র‌্যাবও পাল্টা গুলি চালায়। একপর্যায়ে মাদক ব্যবসায়ীরা পিছু হটে। পরে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে এক ব্যক্তির মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। সকালে স্থানীয়রা টেকনাফ পৌরসভার তিন নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো.একরামুল হক বলে শনাক্ত করেন। মৃতদেহটি টেকনাফ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের তালিকাভুক্ত শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী ও টেকনাফ পৌরসভার তিন নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর একরামুল হকের গুলিবিদ্ধ মরদেহ ছাড়াও ঘটনাস্থল থেকে ১০ হাজার ইয়াবা, একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ওয়ান শুটার গান, ছয় রাউন্ড গুলি ও গুলির পাঁচটি খালি খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। একরামুল হকের বিরুদ্ধে থানায় মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে।

টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রনজিত কুমার বড়ুয়া বলেন, ‘র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত একরামুল হকের মৃতদেহ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে র‌্যাব। সকালে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে কক্সবাজার ছাড়াও গত রাতে দেশের বিভিন্ন জায়গায় পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে আরো ৭ জন নিহত হয়েছে। এরমধ্যে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার গুলিয়াখালীতে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মারা গেছে মো. রায়হান (৩৮) নামে এক মাদক ব্যবসায়ী। কুষ্টিয়ায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মারা গেছে মাদক কারবারি হালিম মন্ডল (৩৫)। মেহেরপুরের গাংনীতে হাফিজুর রহমান হাফি (৪৮) নামের এক মাদক ব্যবসায়ীর গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

এছাড়া য়াখালীর সোনাইমুড়ীতে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মাদক ব্যবসায়ী হাসান ওরফে ইয়াবা হাসান নিহত হয়েছেন। ঝিনাইদহের শৈলকুপায় দু’দল মাদক ব্যবসায়ীর গোলাগুলিতে রফিকুল ইসলাম লিটন (৩৬) নামে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হন। চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মারা গেছে সেলিম নামে আরেকজন। ময়মনসিংহে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মারা গেছে অজ্ঞাত আরেকজন।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here