বিধবা বিয়েতে উৎসাহ দিতে একটি প্রকল্প চালু করেছে ভারতের মধ্যপ্রদেশ সরকার। আর তা হলো, কোনো বিধবা নারীকে বিয়ে করলেই ওই স্বামীকে ২ লাখ রুপি দেওয়া হবে। রাজ্য সরকারের আশা, বছরে এক হাজার বিধবা নারীর পুনর্বিবাহ সম্ভব এ উদ্যোগের ফলে।

তবে বিধবা বিবাহের এই প্রকল্পে একটি শর্তও আরোপ করেছে সরকার। ঘোষণানুযায়ী, রাজ্যের ১৮ থেকে ৪৫ বছর বয়সী কোনও বিধবা নারীকে বিয়ে করতে হবে। পাত্রীর বয়স ৪৫ বছরের অধিক কিংবা ১৮ বছরের কম হলে সরকারি এই ‘উপহার’ মিলবে না। একইসঙ্গে পাত্রের এটাই প্রথম বিয়ে হতে হবে।

যদিও বিজ্ঞপ্তি জারি হতেই বিধবা বিবাহের এমন ধুম পড়ছে যে, সরকারের কাছে এর পরিসংখ্যান নিয়ে কোনো তথ্যই নেই। তাই টাকা পাওয়ার লোভে যাতে কোনো ধরনের দুর্নীতি না হয়, সেটা নিয়েও সতর্ক সরকার। জালিয়াতি রুখতে জেলা কর্মকর্তার অফিসে গিয়ে নবদম্পতিকে তাদের বিয়ে নথিভুক্ত করতে হবে। গ্রাম পঞ্চায়েত বা অন্য কোনও সরকারি সংস্থার দেওয়া প্রমাণপত্র গ্রাহ্য হবে না।

মূলত ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারকে বিধবা বিবাহে উৎসাহ দিতে নীতি নির্ধারণের পরামর্শ দিয়েছিলেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। কিন্তু কেন্দ্রর পরিবর্তে মধ্যপ্রদেশ সরকার আগে এই উদ্যোগ হাতে নেয়। সেই সঙ্গে তার জন্য আর্থিক প্যাকেজ দেওয়ার কথা ঘোষণা করে।

ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগরের উদ্যোগে ১৮৫৬ সালেই আইন পাস করে বিধবা বিবাহ বৈধ হয়। তার প্রচেষ্টায় ব্রিটিশ আমলে তৈরি হয় বিধবা বিবাহ আইন। দেশের স্বামী হারা অগণিত নিরীহ নাবালিকাদের ভবিষ্যতের কথা ভেবেই এটি চালু করতে উদ্যোগী হয়েছিলেন তিনি।

এই প্রথায় তৎকালীন সমাজকে উৎসাহিত করতে নিজের ছেলের সঙ্গেও একজন বিধবা নারীর বিয়ে দিয়েছিলেন বিদ্যাসাগর। তার ১৫২ বছর পরে বিধবা বিবাহে জোর দিতে মধ্যপ্রদেশ সরকার হাতে নিলো এই অভিনব প্রকল্প।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here