অস্ট্রেলিয়ায় সম্প্রতি সমকামী বিয়ের স্বীকৃতির পর সমকামীদের অনেকে ঘটা করে বিয়ে করছেন। কিন্তু দেশটির যেসব সমকামী নিজেদের মুসলিম হিসেবে পরিচয় দেন অথবা যারা মুসলিম পরিবারে জন্ম নিয়েছেন, তারা ধর্মীয় নেতা এবং তাদের সমাজে জীবনের হুমকিসহ বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন।

অস্ট্রেলিয়ায় একটি মসজিদে ইমাম ছিলেন নূর ওয়াসামে। তিনি সমকামী, সেটা জানাজানি হওয়ার পর তিনি তার মুসলিম সমাজে নানা সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন।

তিনি বলছিলেন, তার জীবনের চাহিদাকে কেউ বুঝতে পারে না। ‘আমার বিশ্বাস, অন্য ইমামরা কেউ সমকামিতা নিয়ে বা এর পক্ষে কেউ কথা বলবে না। তবে আমি বেডরুমে কি করছি, তা প্রকাশ্যে নিয়ে এসে আলোচনা করাটা ঠিক নয়।’

যদিও সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ায় সমকামী বিয়ের স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। কিন্তু সেখানে মুসলিম সমাজে তা এখনো গ্রহণযোগ্য নয়।

নূর ওয়াসামে সমকামী হিসেবে পরিচিতি পাওয়ার পর মসজিদে নামাজ পড়ানো বা ইমামতির কাজ হারিয়েছেন।

‘প্রথম বিষয়টিই ছিল, আমি আমার মসজিদ হারিয়েছি। আমাকে নামাজ পড়াতে বা ইমামতি করতে দেয়া হয়নি। এটি আমার হৃদয়ে খুব আঘাত করেছে।’

পাঁচ বছর আগে মসজিদে নামাজের বাইরে একদল তরুণ একটি প্রার্থনা গ্রুপ তৈরি করেছিল। নূর ওয়াসামে সেই তরুণদের সাহায্য করতেন।

‘যে তরুণদের মসজিদে নামাজ পড়ার অনুমতি ছিল না। এই প্রার্থনা গ্রুপটি ছিল তাদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা। আমি তাদের বলতাম, আমি তোমাদের সাথে থেকে লড়াই করবো।’

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে মুসলিম পরিবার থেকে আসা তরুণ হোসেন ওয়ালি’র সমস্যা ভিন্ন ধরনের। তার শরীরের গঠন এবং নারী সুলভ স্বভাব তাকে চলতে ফিরতে সব জায়গায় সমস্যায় ফেলতো। অনেক সময় তা হয়রানির পর্যায়ে চলে যেতো।

‘আমি শারীরিকভাবে হয়রানির শিকার হয়েছিলাম, যখন আমার বয়স ছিল পাঁচ বছর। এরপরও অনেকবার আমি যৌন হয়রানির শিকার হই। আমাকে অনেকে বিভিন্ন সময় মানসিকভাবে হয়রানি করেছে। আমি কয়েকবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলাম।’

অস্ট্রেলিয়ার ইমাম ইমাম নূর ওয়াসামে

হোসেন ওয়ালির পরিবার তার জন্য ধর্মকেও ব্যবহার করেছে। তার পরিবারের সদস্যরা ভেবেছিল, বিভিন্ন সময় যৌনহয়রানির শিকার হওয়ায় তিনি সমকামীতে আসক্ত হয়ে থাকতে পারেন। সেজন্য তাকে মসজিদেও পাঠানো হতো। কিন্তু তার শরীর এবং মনের পরিবর্তনকে সম্মান করা হয়নি।

‘আমাকে জোর করে মসজিদে নেয়া হতো। বিশেষ করে ইসলাম ধর্মের বিভিন্ন বিশেষ দিনে বা অনুষ্ঠানে আমাকে মসজিদে যেতে হতো। এর মধ্য দিয়ে আমার আচরণ পরিবর্তন হতে পারে, পরিবার এমন আশা করেছিল।’

অস্ট্র্রেলিয়ায় এ ধরনের অনেকে ধর্ম এবং পরিবারের দিক থেকে নানান সমস্যার মধ্যে নিজেকে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন।
নূর ওয়াসামে বলেছেন, অনেক সময় ভয়াবহ পরিস্থিতির জন্যও প্রস্তুত থাকতে হয়।

‘ধর্মীয় নেতা যারা আছেন,তাদের ক্ষমতা অবিশ্বাস্য। তারা একটি শব্দ বা একটি বাক্য ব্যবহার করে তোমার জীবন ধ্বংস করে দিতে পারেন অথবা তোমার জীবন গড়ে দিতে পারেন।’

অস্ট্র্রেলিয়ার সরকার সমকামী বিয়ের স্বীকৃতি দিয়েছে ঠিকই। কিন্তু সেখানকার জাতীয় ইমাম কাউন্সিল কিছুদিন আগে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে ঘোষণা করেছে, ইসলামে সমকামিতা গ্রহণযোগ্য নয়। ইসলামি আইনে এর শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।

নূর ওয়াসামের প্রাননাশের হুমকি আসায় তাকে এখন পুলিশি পাহারায় থাকতে হয়। তিনি স্বাধীনভাবে ঘোরাফেরা করতে পারেন না।

সেজন্য এখন তিনি সামাজিক নেটওয়ার্কে অস্ট্রেলিয়া এবং এর বাইরে অনেক অনুসারী তৈরি করেছেন।

‘সামাজিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে আমি মিশরের একজনের সাথে কথা বলছি। তার ছেলে সমকামী। ছেলেকে নিয়ে বাবা খুব চিন্তিত। তিনি আমাকে বলছেন, তার ছেলের এই অসুস্থতা কিভাবে সারানো যায়? আমি তাকে বলেছি, এটি তার ছেলের কোন ভুল বা দোষ নয়। এটি সহনশীল দৃষ্টিতে দেখা উচিত। আমার কথা শুনে ছেলেটির বাবা খুব হেসেছিল।’

নূর ওয়াসামে মনে করেন, সমকামীরাও মানুষ, তাদেরও ধর্ম পালনের অধিকার আছে।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here