‘আমাকে সৌদির রিয়াদের একটি ঘরে আটকে রেখে পাশবিক নির্যাতন চালানো হতো। আমার সঙ্গে আরও ৪০ নারী ছিলেন। তাদের রাতে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হতো। অনেক সময় পর ওই রাতেই আবার ঘরে এনে মারধর করা হতো। সেখানে একবেলা শুধু লবণ দিয়ে খাবার দিত।’ কথাগুলো বলছিলেন টাঙ্গাইলের মাজেদা বেগমকে। যিনি সৌদি আরব থেকে তিনদিন আগে দেশে ফিরেছেন।

এক বিভীষিকাময় পরিস্থিতির শিকার মাজেদা বহু আশা নিয়ে পাড়ি জমিয়েছিলেন সৌদি আরবে। ইচ্ছা ছিল পরিবারের স্বচ্ছলতা ফেরানো। কিন্তু একটি চক্র ওই দেশে নিয়ে মুক্তিপণের দাবিতে তাকে আটকে রাখে। অবশেষে নিজ চেষ্টায়, বহু প্রতীক্ষার পর বৃহস্পতিবার দেশে ফিরে আসতে সক্ষম হন এই হতভাগিনী।

দেশে ফিরেও তার ভয় কাটেনি। তাই নিজ বাড়িতে না উঠে উপজেলার হলুদিয়াচালা গ্রামের ভগ্নিপতি আশ্রফ আলীর বাড়িতে উঠেছেন মাজেদা। সেখানেই তার সঙ্গে কথা হয়। তিনি জানান, ঢাকার নয়াপল্টনের বি.এ অ্যাসোসিয়েটস নামের একটি এজেন্সির মাধ্যমে টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার বানিয়ারছিট গ্রামের স্থানীয় দালাল সাইফুল ইসলাম তাকে সৌদি আরব পাঠায়।

কথা ছিল সব মিলিয়ে ৬০ হাজার টাকা দেওয়া হবে। ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে সাইফুল দালালকে নগদ ৩৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়। আর বাকি টাকা কেটে নেওয়া হবে বেতন থেকে। কিন্তু সৌদি নিয়ে সাইফুল দালালের লোকজন তাকে আটকে রাখে। দেশে ফেরত আনতে এক লাখ ৬০ হাজার টাকাও দাবি করেছিল ওই দালাল।

মাজেদা বেগমের মেয়ে শম্পা বলেন, ‘সৌদি পাঠানোর প্রায় ১৫ দিন পরও মার কোনো খবর পাচ্ছিলাম না। হঠাৎ একদিন বাড়িতে মাজেদা বেগম ফোন দিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বলেন- আমাকে দেশে ফেরত নিয়ে যাও। আমাকে রিয়াদ শহরের একটি ঘরে আটকে রেখে মারধর করছে ওরা। আমার সঙ্গে আরও বেশ কয়েকজন নারীকেও এখানে আটকে রেখে নির্যাতন করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘সাইফুলের সঙ্গে এ বিষয়ে দেখা করলে সে কয়েকদিন আগে বি.এ অ্যাসোসিয়েটসে নিয়ে যায়। সেখানেও এক লাখ ৬০ হাজার টাকা দাবি করা হয়।’

তবে অভিযুক্ত স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম মুক্তিপণ হিসেবে এক লাখ ৬০ হাজার টাকা চাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করলেও মাজেদার ওপর নির্যাতনের কথা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘বি.এ অ্যাসোসিয়েটসের মাধ্যমে মাজেদা বেগমকে সৌদি আরবে পাঠানো হয়েছে। জেনেছি সেখানে তার ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে। মাজেদা বেগম সৌদি থেকে দেশে বৃহস্পতিবার ফেরতও এসেছেন।’

এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি সদস্য কিসমত আলী জানান, মাজেদার পরিবারটি খুবই দরিদ্র। তার স্বামী দিনমজুর খাটতো, এখন অসুস্থ। সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম তুহীন বলেন, ‘এ বিষয়ে নির্যাতিতা নারী অভিযোগ দিলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here