ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার আমতলী এলাকায় মহাসড়ক। প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে হাজারো মানুষের আসা যাওয়া। শনিবার বিকেলেও একইভাবে লোকজন সে পথে যাতায়াত করছিল ঠিকই, কিন্তু রাস্তার পাশে পরে থাকা এক পাগলির আতর্নাদ কানে তুলছিলেন না কেউই। কিন্তু এক পর্যায়ে তার আর্তনাদ আর চিৎকারের মাত্রা যখন বাড়ে, তখন দেখা যায় পাগলিটি আসলে গর্ভবতী। কিছুক্ষণের মধ্যেই হয়তো সে সন্তান প্রসব করবে। কিন্তু কার না কার পাপের ফসল ওই সন্তানকে কে ধরবে?

তারপরও স্থানীয় ৩-৪ জন নারী তার সাহায্যে এগিয়ে আসেন এবং ওই পাগলির সন্তান প্রসব করান। পৃথিবীর আলো দেখে ফুটফুটে এক কন্যাশিশু। এরইমধ্যে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন ময়নামতি ক্যান্টনমেন্ট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শেখ মাহমুদুল হাসান রুবেল। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তার নির্দেশে পুলিশ মা ও সেই নবজাতককে ভর্তি করেন পার্শ্ববর্তী ময়নামতি জেনারেল হাসপাতালে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মানসিক ভারসাম্যহীন ওই তরুণী দীর্ঘদিন ধরে ময়নামতি ও আমতলীসহ আশপাশের এলাকায় থাকত। স্থানীয়রা অনেকেই তাকে ‘পাগলি’ বলে ডাকতো। শনিবার বিকেলে জেলার আদর্শ সদর উপজেলার দুর্গাপুর উত্তর ইউনিয়নের আমতলী এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লাগামী অংশে এ্যাপোলো ট্রেডার্স নামের একটি রড-সিমেন্টের দোকানের সামনে তার প্রসব বেদনা শুরু হয়। খবর পেয়ে স্থানীয় মিনুয়ারা, আনোয়ারা, কুলসুমসহ আরও কয়েকজন নারী এগিয়ে আসেন। পরে রাস্তার পাশেই নিরাপদে একটি কন্যা সন্তান প্রসব করান।

হাসপাতালে নবজাতক ও মা

খবর পেয়ে ময়নামতি ক্যান্টনমেন্ট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক শেখ মাহমুদুল হাসান রুবেল, এসআই দয়াল হরি, এএসআই রাজু ও নুর আলমসহ পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে ওই পাগলি কিশোরী ও তার নবজাতককে অ্যাম্বুলেন্সযোগে ময়নামতি সেনানিবাস এলাকায় ময়নামতি জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হয়।

স্থানীয় ২নং দুর্গাপুর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের সদস্য খোরশেদ আলম কালু ও আমতলী এ্যাপোলো ট্রেডার্সের মালিক স্বপন জানান, মানবিক দৃষ্টিকোন থেকে আমরা এগিয়ে এসেছি। আমাদের নষ্ট সমাজের এ পাপের জন্য তো শিশুটি দায়ী নয়, তাই মা ও নবজাতকের চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহযোগিতা করছি।

এ বিষয়ে পুলিশ পরিদর্শক শেখ মাহমুদুল হাসান রুবেল জানান, ওই তরুণী মানসিক ভারসাম্যহীন। সে তার নাম ঠিকানা ও পরিচয় বলতে পারে না।

তিনি বলেন, এই নবজাতক তো নিষ্পাপ। ওই কিশোরীর পক্ষে নবজাতককে লালন-পালন করা সম্ভব নয়। তাই কেউ শিশুটিকে দত্তক নিতে চাইলে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে দত্তক দেয়ার বিষয়টি আমরা চিন্তা-ভাবনা করছি। বর্তমানে মা ও নবজাতক সুস্থ আছে। তাদের চিকিৎসার জন্য পুলিশ ও স্থানীয়রা প্রয়োজনীয় যা যা করা দরকার সবই করছে।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here