মাদকের হাট কারওয়ানবাজারের রেলওয়ে বস্তিতে রোববার মাদকবিরোধী অভিযান চালায় তেজগাঁও থানা, তেঁজগাও শিল্পাঞ্চল থানা ও মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক দল। রেললাইনের চারপাশ ঘিরে রেখে পুলিশ বিভিন্ন খুপড়ি ঘরে মাদকের খোঁজ করে। কোনো নারী-পুরুষ ওই এলাকায় ঢুকতে বা বেরোতে চাইলে তল্লাশির মুখোমুখি হচ্ছে।

বেলা ৩টার দিকে রেললাইনের পাশের একটি ঘরের সামনে তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম তার থানার ১০ পুলিশ সদস্য নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। কিছুক্ষণ পর এক নারী পুলিশ কনস্টেবল ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধাকে ঘর থেকে বের করে আনেন। হাজেরা মমতাজ নামের ওই নারী বস্তিতে ‘হারুনের মা’ বলে পরিচিত।

সাংবাদিকরা কাছে যেতেই ওসি মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘হারুনের মা কারওয়ানবাজারের সবচেয়ে বড় মাদক ব্যবসায়ী। এই বয়সেও তার প্রতিদিন দুইটা বিয়ার খেতে হয়। কারওয়ানবাজারে কোনো মাদক ব্যবসায়ী থাকতে পারবে না। এখানে অবৈধ কিছু চলবে না।’

এরপর ওই বৃদ্ধাকে আটক করে থানায় নেওয়ার সময় ওসি মাজহারুল ইসলামকে হাজেরা মমতাজ বলেন, ‘স্যার, আপনি দুই দিন আগে আমাদের কারওয়ানবাজার ছেড়ে চলে যাইতে বলছিলেন। সবাই চইলা গেছে। আমি ব্যাগ রেডি করছি। এখনই এলাকা ছাইড়া চইলা যামু। আমারে আইজ নিয়েন না।’ তারপরও নিয়ে যাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘স্যার, এইখানে সব ঘরে মাদক বেচাকেনা হয়। আপনে শুধু আমারে নিয়া যান ক্যান?’

ওসি মাজহারুল ইসলাম তখন মাদক ব্যবসায়ীদের নাম জানতে চাইলে হাজেরা মমতাজ বলেন, ‘আমি নাম কমু না। নাম কইলে আমার পোলাগো ট্রেনের নিচে ফা্লাইয়া মারব।’

তবে কারওয়ানবাজারে পুলিশের এ অভিযান নিয়ে অনেকের মধ্যেই প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। কারণ অভিযান শুরুর আগেভাগেই পুলিশ আসার খবর হয়ে যায়। ফলে অনেকেই ঝুপড়ি ঘর ছেড়ে সবকিছু নিয়ে নিরাপদে সটকে পড়ে। মমতাজ ভেবেছিলেন তিনি বৃদ্ধা, তাকে কেউ কিছুই বলবে না।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here