টাঙ্গাইলের স্থানীয় একটি নার্সিং হোমে বাচ্চা নষ্ট করার জন্য ভর্তি হয় ধর্ষণের শিকার হওয়া এক কিশোরী (১৩)। শনিবার পেটের ব্যাথা নিয়ে ক্লিনিকে আসে সে। ডাক্তারি পরীক্ষায় তার সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা ধরা পড়ে। এতে মেয়েটির পরিবার বাচ্চাটি নষ্ট করতে চেয়েছিল।

কিন্তু সেখানকার গাইনি ডাক্তার মালেকা শফি মঞ্জু তাদের কোনো কথা শোনেননি। তিনি বাচ্চাটি নষ্ট করেননি, বরং সেটি নষ্ট করতে নিষেধ করেছেন।

জানা যায়, কালিহাতী উপজেলার গিলাবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা এজিপির সাবেক অডিট অফিসার আনছের আলীর (৬০) বাড়িতে পড়াশোনার ফাঁকে কাজ করতো ওই কিশোরী। গরিব পরিবারের মেয়ে হওয়ায় দুবেলা খাবারের জন্য ওই বাড়িতে যেতে হতো তার।

সাবেক ওই কর্মকর্তার স্ত্রী বেশিরভাগ সময় ঢাকায় অবস্থান করতেন। এই সুযোগে ওই ছাত্রীর উপর কুনজর পরে ৬০ বছরের আনছের আলীর। পরে নিজের অজান্তেই কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। তারপরও ভয় দেখিয়ে নিয়মিত চালিয়ে যেতে থাকে যৌনমিলন। কিছুদিন আগে মেয়েটির শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন দেখতে পায় পরিবারের লোকজন। পরে ডাক্তারি পরীক্ষায় অন্তঃসত্ত্বার বিষয়টি ধরা পড়ে।

বিষয়টি আনছের আলী ও তার ছেলে সুমন জানার পর মেয়ের পরিবারকে কাউকে কিছু না বলার জন্য হুমকি দেয়। এরই মধ্যে বাচ্চা নষ্ট করার জন্য মেয়ের পরিবারকে চাপ দেয় আনছের আলী ও তার ছেলে সুমন।

ওই ছাত্রী জানায়, ‘আমাকে টাকা-পয়সা ও বিভিন্ন জিনিসপত্রের লোভ দেখিয়ে নিয়মিত এ কাজ করতো। বিষয়টি আমি যাতে কাউকে না বলি এ জন্য প্রায়ই আমাকে মারতো। আমি ছোট মানুষ কোন কিছু বুঝতে পারিনি। এখন আমার অনেক কষ্ট হচ্ছে।’

মেয়ের বাবা বলেন, ‘আমার বাচ্চা মেয়েটিকে লোভ দেখিয়ে আনছের আলী যে সর্বনাশ করেছে আমি এর উপযুক্ত বিচার চাই।’

এ বিষয়ে কথা বলতে আনছের আলীর ফোনে একাধীকবার যোগাযোগ করা হলে মুঠোফোনটিও বন্ধ পাওয়া যায়।

কালিহাতী থানা ওসি মীর মোসারফ হোসেন বলেন, ঘটনা সম্পর্কে আমার জানা নেই। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here