ঈদসহ বিভিন্ন বড় উৎসব এলই দৌরাত্ম বেড়ে যায় অজ্ঞান পার্টির। এবারো তার ব্যতিক্রম হয়নি। গত কিছুদিন ধরে রাজধানীর অনেক জায়গায় বেশ কয়েকজন এই চক্রের খপ্পরে পড়েছেন বলে জানা গেছে। এরপর গত শনিবার অভিযান চালিয়ে পুলিশ রাজধানীর শ্যমলী, জুরাইন, কমলাপুর ও নিউমার্কেট এলাকা থেকে অজ্ঞান পার্টির ৩২ জনকে গ্রেফতার করেছে। একই রাতে ডিবির সিরিয়াস ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন বিভাগের কয়েকটি টিম অভিযান চালিয়ে গুলিস্তান, নিউমার্কেট ও শাহবাগ এলাকা থেকে ছিনতাইকারী চক্রের ২৯ জন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে।

এ সময় তাদের কাছে থেকে ৯২টি লেক্সোটেনিল, ৪০টি লুজিকাম চেতনানাশক ট্যাবলেট ও ২টি সেণ্ডিবামসহ একাধিক মলমের কৌটা উদ্ধার করা হয়। বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৬১ জনকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

গতকাল ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে গ্রেফতারকৃত সর্ম্পকে বিভিন্ন তথ্য জানান গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার দেবদাস ভট্টাচার্য।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গ্রেফতারকৃতরা ছিনতাইকারী ও অজ্ঞান পার্টির সঙ্গে জড়িত। রোজাদার ব্যক্তিদের চেতনানাশক ওষুধ মেশানো ইফতারি খাইয়ে টাকাসহ সবকিছু লুট করতো তারা।

শনিবার গ্রেফতারকৃত কয়েকজন

দেবদাস ভট্টাচার্য বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, এই চক্রের সদস্যরা রাজধানীর বিভিন্ন সহজ-সরল ও নিরীহ যাত্রীদের টার্গেট করে তাদের সাথে কৌশলে আলাপচারিতার মাধ্যমে স্বল্প সময়ের মধ্যে একটা ভালো সম্পর্ক গড়ে তোলে। এরপর তাদেরকে চা, ডাব, পানীয় জুসসহ বিভিন্ন খাবার খেতে দেয়। সেই খাবার খেয়ে যাত্রীরা যখন অজ্ঞান হয়ে যায়, তখন তার সঙ্গে থাকা টাকাপয়সা ও অন্যান্য মূল্যবান জিনিস নিয়ে পালিয়ে যায় তারা। এছাড়াও তারা কাউকে কিছু খাওয়াতে ব্যর্থ হলে কৌশলে সেই ব্যক্তির নাকে ও মুখে চেতনানাশক মলম লাগিয়ে সঙ্গে থাকা মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেয়।’

এই পুলিশ কর্মকর্তা আরো বলেন, ‘এখন যেহেতু রমজান মাস চলছে। তাই এই চক্রের সদস্যদের মূল টার্গেট থাকে ইফতারে। তারা বিভিন্ন ব্যস্ততম এলাকা ও লোকাল বাসে থাকা যাত্রীদের কৌশলে ইফতার খাওয়ানোর নামে চেতনানাশক ট্যাবলেট মিশ্রিত খাবার খাওয়ায়। এরপর তারা ওই ব্যক্তির সব কিছু লুট করে নিয়ে পালিয়ে যায়। কৌশল হিসেবে তারা বাসের মধ্যে ইফতারের ঠিক আগের মুহূর্তে ইফতারি বিক্রেতা সেজে উঠে পড়েন। সে সময় তাদের চক্রের সদস্যরা আগে থেকেই বাসের মধ্যে যাত্রী সেজে অন্য যাত্রীর পাশে বসে থাকেন। তখন তাদের ওই সদস্য নিজেও ইফতার কেনেন এবং অন্যকেও কিনতে উৎসাহিত করেন। যদি কেউ না কেনেন, তবে নিজের কেনা ইফতারিই তাকে খাওয়ানোর চেষ্টা করেন। আর কেউ যদি না বুঝতে পেরে তা খেয়ে ফেলে, তবেই পড়ে যায় বিপদের মুখে।’

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে যে অভিযান চালানো হচ্ছে, তা চলমান থাকবে। গত চার মাসে ডিএমপির বিভিন্ন থানায় মাদক সংক্রান্ত ৫ হাজার ১০৫টি মামলা হয়েছে।’

কোনো পুলিশ সদস্য যদি নিরীহ কাউকে হয়রানি করে, তবে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে অনুরোধ জানিয়েছেন দেবদাস ভট্টাচার্য বলেন, ‘পুলিশের কোনো সদস্যদের বিরুদ্ধে যদি অভিযোগ পাওয়া যায়, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here