মুক্তামণির শতভাগ আরোগ্য সম্ভব নয় বলে আগেই জানিয়েছিলেন চিকিৎসকরা। তার হাতে ওই বিরল রোগের পাশাপাশি ফুসফুস ও লিভারেও সমস্যা ছিল বলে জানা গেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশেই তার চিকিৎসা চলছিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। কিন্তু সবকিছুকে হার মানিয়ে সে ২৩ মে সকালে চলে যায় না ফেরার দেশে।

আর এতেই প্রধানমন্ত্রীর আক্ষেপ। এতো কাছে থাকার পরও মুক্তামণিকে দেখতে হাসপাতালে যেতে না পারার মনোকষ্ট তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে তাকে। সোমবার পেশাজীবীদের সম্মানে গণভবনে ইফতার মাহফিলে ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটের জাতীয় সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেনকে দেখামাত্রই প্রধানমন্ত্রী মুক্তামণির প্রসঙ্গ টেনে আনেন। বলেন, ‘মেয়েটা চলে গেল, দেখতে যেতে পারলাম না, আমার খুব কষ্ট লেগেছে।’

এ বিষয়ে ডা. সামন্ত লাল সেন পরে সাংবাদিকদের বলেন, ‘ছোট্ট এই শিশুটির মৃত্যুতে হৃদয়বান প্রধানমন্ত্রী মনে কষ্ট পেয়েছেন। এর আগে মুক্তামণির মৃত্যুর পরও তিনি শোকবার্তা জানিয়েছিলেন।’

তিনি বলেন, ‘শেষ দিকে মুক্তামণির শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। শুনেছি তার হাত অনেক ফুলে গিয়েছিল, ক্ষতস্থান থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল, পোকা বের হচ্ছিল। আর হাতের ওই পচন শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ছিল। এই কয়দিন মেয়েটিকে অসহনীয় যন্ত্রণা সহ্য করতে হয়েছে।’

সংবাদ মাধ্যমে খবর দেখে মুক্তামণির হাতের ছবি পাঠানোর পাশাপাশি ডা. সেন প্রয়োজনে মেয়েটিকে ঢাকায় নিয়ে আসার কথাও বলেন তার পরিবারকে। কিন্তু মুক্তামণি কোনো অবস্থায় ঢাকায় আসতে রাজি হচ্ছিল না বলে জানিয়েছিলেন তার বাবা ইব্রাহিম হোসেন।

দেড় বছর বয়স থেকে রক্তনালীতে টিউমার বা হেমানজিওমা নামে এই বিরল রোগে আক্রান্ত হয় শিশু মুক্তামণি। ছয়মাস ধরে ঢাকায় চিকিৎসা শেষে গত ডিসেম্বর তারা গ্রামের বাড়ি ফিরে যায়। গত ২৩ মে সকাল ৮টার দিকে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কামারবায়সা গ্রামের নিজ বাড়িতেই মৃত্যু হয় ১২ বছর বয়সী আলোচিত এই শিশুর।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here