জীবনে অনেক কাজ করেছেন হালের জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী আঁখি আলমগীর। বাবা নায়ক আলমগীরের হাত ধরে শিশু বয়সে অভিনয়ে নাম লেখালেও সঙ্গীতেই মনপ্রাণ ঢেলে দিয়েছেন। আর এই সঙ্গীত দিয়ে মানুষকে মুগ্ধ ও হৃদয় জয় করার পাশাপাশি অসহায় মানুষের পাশে এসে দাঁড়াতেও এতটুকু কার্পণ্য করেন না তিনি। আর সে কাজটাই তাকে বেশি তৃপ্ত করে।

সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টারে ১৩ মে একটি অনুষ্ঠানে গান গাইতে গিয়েছিলেন আঁখি আলমগীর। অনুষ্ঠানটির উদ্দেশ্য ছিল মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের সাহায্যের জন্য তহবিল সংগ্রহ। সেদিন একটানা তিন ঘণ্টা নেচে-গেয়ে উপস্থিত দর্শক-শ্রোতাদের মাতিয়ে রাখেন এই শিল্পী। অনুষ্ঠানের আয়োজক ইকবাল আহমেদ ও আঁখি আলমগীর দর্শকদের কাছ থেকে অনুদান সংগ্রহ করেন। আর সে টাকা দিয়েই কিছুটা সময়ের জন্য হলেও অসহায় রোহিঙ্গাদের মুখে হাসি ফুটিয়েছেন।

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘুরে এসে আঁখি আলমগীর বাস্তব অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন নিজের ফেসবুক পেজে। শেয়ার করেছেন ৫ মিনিটের একটা ভিডিও শেয়ার করেছেন। কোনো পরিমার্জন ছাড়াই আঁখি আলমগীরের লেখাটি হুবহু তুলে ধরা হলো-

গত ১৩ ই মে ম্যানচেস্টারে ইকবাল ব্রাদারস ফাউন্ডেশন রোহিঙ্গাদের জন্যে ফান্ড রেইজিং করতে একটি অনুষ্ঠানে আমাকে গান গাইতে আমন্ত্রণ করে…আমরা রাজি হই, সফল একটি প্রগ্রাম হয়।চ্যারিটি শো আগেও করেছি তবে ফান্ড রেইজিং ব্যাপারটা ভিন্ন যা এই প্রথম দেখলাম।উচ্চবিত্তরা প্রোগ্রামে আসেন এবং ইচ্ছেমত ডোনেশন ঘোষনা করেন সর্ব সম্মুখে,পশ্চিমী দেশগুলোতে বিত্তবানরা এভাবেই “good cause” গুলোয় এগিয়ে আসে।তো যে অনুষ্ঠানে আমি গান করলাম এবং অবশ্যই সবাইকে সাহায্যের হাত বাড়াতে উৎসাহিত করলাম,সেখানে বেশ মোটা অঙ্কের অর্থ জমা হলো।আমার কাজ এখানেই শেষ করা যেতো…কিন্তু শেষ হলো না, বরং শুরু হলো…….. ফাউন্ডেশন টি চাইলো এই কাজে আমাকে সাথে রাখতে। (এখানে বলে রাখি এটি কিন্তু uk based একটি সংগঠন।) দিন ক্ষন অনেক আগেই বুক করা ছিলো কারন উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প এর দায়িত্বে এখন বাংলাদেশ আর্মি নিয়োজিত, কাজেই তাদের সহযোগিতা ছাড়া কারো পক্ষে ওখানে যাওয়া সম্ভব না।

কিছু মিটিং, পরিকল্পনা শেষে আমরা আজ ভোরে উখিয়া যাই,ফাউন্ডেশন এর চেয়ার পার্সন ইকবাল আহমেদ,উনার পরিবার,আর্মি ওফিসার্স, দোভাষী, আমিসহ আরো অনেকে।চাল ডাল শুকনা খাবার শান্তিপূর্ণ ভাবে বিতরন করা হয়। আরো কয়েক দফা করা হবে।রোজা রেখে রোদের নীচে ৪/৫ ঘন্টা ধরে দাড়িয়ে আমরা কাজ শেষ করি।আমরা তাদের ঘর গুলো ঘুরে দেখি।কথা বলি,বাচ্চাদের আদর করি।তারা কিন্তু মুলত চাটগাঁর ভাষায় কথা বলে যা আমাকে অবাক করেছে।

রোহিঙ্গা শিশুদের সঙ্গে শিল্পী আঁখি আলমগীর
রোহিঙ্গা শিশুদের সঙ্গে শিল্পী আঁখি আলমগীর

এবার আসি আসল প্রসঙ্গে।রোহিঙ্গা দের উপরে বর্বরোচিত হামলার কথা আমরা সবাই জানি। ছোট ছোট শিশুদের সামনে তাদের বাবাকে পুড়িয়ে হত্যার ভিডিও কম বেশী সবাই দেখেছি। আমরা জানি ওদের মা বোনদের ওদের সামনেই ধর্ষন করা হয়েছে। কেউ মৃত কেউ জীবন্মৃত। চারদিকে অনেক অন্তঃসত্ত্বা মহিলা দেখেছি আজ। মাইলের পর মাইল হেটে এসেছে একটু চাল ডালের জন্যে। ডায়রিয়া চর্মরোগ হচ্ছে অনেকেরই। মেডিসিন দেয়া হয় কিন্তু কত? আর মায়ানমারে বাচ্চাগুলো নৃশংসতা তো দেখেছেই সেই সাথে যোগ হচ্ছে অশিক্ষা। মানে আমাদের দেশে আবস্থানরত ১২ লক্ষ (আর্মিদের দেয়া তথ্য) রোহিঙ্গার প্রায় সাড়ে ছয় লাখ শিশু বেড়ে উঠছে ভয়ংকর এক মনস্তত্ত্ব নিয়ে যারা কিনা চেনে শুধুমাত্র নৃশংষতা, যারা কোন কাজ বা পড়াশোনার কিছুই শিখতে পারছে না। আর এই সংখ্যা তো বাড়বেই আরো।

আমার বা আমাদের মূল লক্ষ সেখানেই। খাদ্য বা মাথা গোঁজার ঠাঁই এখন তাদের দেয়া হলেও মূল সমস্যার সমাধান করতে হবে তাদেরকে পূনর্বাসন করে। এই জনবহুল দেশে তাদের আসলে আমরা কিছুই দিতে পারবো না। আমাদের নিজেদেরও অনেক সমস্যা আছে। তবে অনেক পশ্চিমা দেশ আছে যাদের আয়োতনের এবং resource এর চেয়ে জনসংখ্যা কম। সেই দেশ গুলোর প্রতি আবেদন করা, সবাইকে সচেতন করা এবং সমাধানের আগ পর্যন্ত সাহায্য করাই আমাদের সবার দায়িত্ব। awareness জাগানো টা জরুরী কারন এটি একটি বড় থেকে গুরুতর সমস্যা হতে পারে ভবিষ্যতে।

খুব গুছিয়ে লিখতে পারলাম না হয়তো। ৫ মিনিটের একটা ভিডিও শেয়ার করলাম। সেখানেও গুছিয়ে বলতে পারিনি কারন রোদের তাপ, তৃষ্না আর পাহাড়ে উঠে সব দেখে বড় ক্লান্ত ছিলাম। ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিত্ দেখবেন। আজ বর্তমানের কষ্টের সাথে ভবিষ্যতের অজানা ভয় আমাকে নাড়া দিয়েছে কারন সবার উর্ধে আমি আমার দেশকেই ভালবাসি। রোহিঙ্গাদের শীঘ্রই পূনর্বাসন বা স্হানান্তর করা হোক। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মানবতার উজ্জল দৃষ্টান্ত রেখেছেন। উনাকে স্যালুট জানাই। তবে পশ্চিমা দেশগুলোর এগিয়ে আসা এখন সময়ের চাহিদা মাত্র। সোচ্চার হতেই হবে। সর্বশেষে আমি আল্লাহ তায়ালাকে শুকরিয়া জানাই ভালো কাজটিতে আমাকে কাজ করার তৌফিক দেয়ার জন্যে এবং ইকবাল ব্রাদার্স ফাউন্ডেশন কে অসংখ্য ধন্যবাদ সব সময়ই কোন না কোন ইস্যু তে বিদেশে থেকেও দেশকে স্মরণ করার জন্য।

Let’s not forget every human being,no matter what, deserves a normal life and every child needs love, education, guidance, compassion. No child should have to wake up worrying about food and their homes.

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here