সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান একের পর এক চমক দেখিয়েই চলেছেন। রক্ষণশীল সৌদি সমাজব্যবস্থাকে পাল্টানোর অংশ হিসেবে এবার দেশটির নারীদের ফ্যাশন শোতে অংশগ্রহণের অনুমতি দিয়েছেন তিনি। তাও এর নতেৃত্বে থাকবেন স্বয়ং সৌদি রাজকন্যা নওরা বিনতে ফয়সাল আল সৌদ।

গত ডিসেম্বরে ৩০ বছর বয়সী রাজকন্যা নওরাকে আরব ফ্যাশন কাউন্সিলের অনারারি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর পর গত মাসে সৌদি আরবে প্রথমবারের মতো ‘আরব ফ্যাশন উইক’ নামে একটি ফ্যাশন শোর আয়োজন করা হয়। সেই আয়োজনে ভালোভাবেই যুক্ত ছিলেন রাজকন্যা নওরা।

সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠাতা আবদুল আজিজ আল সৌদ ছিলেন রাজকন্যা নওরার দাদার বাবা। জাপানের একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করা এই রাজকন্যা ফ্যাশন সম্পর্কে ভালোই ধারণা রাখেন।

সৌদি ফ্যাশন শো

আয়োজনের সঙ্গে রাজকন্যা নওরা জড়িত থাকলেও নানা কারণে ‘আরব ফ্যাশন উইক’ শুরু হয় নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দুই সপ্তাহ দেরিতে। সৌদি আরবে প্রথমবারের মতো এই আয়োজন বলে অনেকের নজর ছিল এই ফ্যাশনের দিকে। তবে এই আয়োজনে প্রবেশাধিকার ছিল সংরক্ষিত। শুধু আমন্ত্রিত নারীরাই তাতে উপস্থিত থাকতে পেরেছিলেন। এমনকি অনুষ্ঠানে ছবি তোলাও ছিল নিষিদ্ধ। আরব ফ্যাশন কাউন্সিল অবশ্য ওই অনুষ্ঠানের ছবি তুলেছে। সৌদি আরবের বিনোদন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে অনুষ্ঠানের কিছু ছবি প্রকাশও করা হয়েছে।

ফ্যাশন শোতে এক সৌদি নারী

সেই আয়োজন নিয়ে রাজকন্যা নওরা বলেন, ‘এমন আয়োজনে প্রবেশাধিকার সীমিত করার বিষয়টি আমাদের সংস্কৃতির অংশ। যে নারীরা এই অনুষ্ঠানে এসেছিলেন, তারা যেন এটা ভেবে উদ্বিগ্ন না হন যে কেউ তার ছবি তুলছে। আমরা চেয়েছি উপস্থিত নারীরা দেশে প্রথমবারের মতো আয়োজিত এই অনুষ্ঠান উপভোগ করুক।’

সার্বিক বিষয়ে রাজকন্যা নওরা বলেন, ‘সৌদি আরবের নারী হিসেবে এই সংস্কৃতি ও ধর্মের প্রতি আমার শ্রদ্ধাবোধ আছে। পোশাকের কারণে কেউ আমাদের রক্ষণশীল ভাবতে পারে… কিন্তু এটাই আমাদের সংস্কৃতির অংশ।’

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here