দেশের রাজনীতিতে হঠাৎ করেই তুমুল আলোচনা শুরু হয়েছে দেশের সেরা দুই ক্রিকেটার মাশরাফি বিন মুর্তজা ওসাকিব আল হাসানকে নিয়ে। গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল জানিয়েছেন, জনপ্রিয় এই দুই ক্রিকেটার চাইলে নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন। এরপর থেকেই মাশরাফি ও সাকিবকে ঘিরে তুমুল আলোচনা তৈরি হয়েছে সব অঙ্গনে। প্রশ্ন উঠেছে যে দু’জন খেলোয়াড় এখনো তাদের সেরা ফর্ম ধরে রেখে বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে যাচ্ছেন তারা এখনই খেলা ছেড়ে রাজনীতিতে নেমে পড়বেন কিনা।

এ ব্যাপারে অবশ্য মাশরাফি বা সাকিব কেউই মুখ খোলেননি। গতকাল অনেক চেষ্টা করেও মাশরাফি বা সাকিবকে ফোনে যাওয়া যায়নি। তবে একটি গণমাধ্যমের কাছে ছোট্ট এক প্রতিক্রিয়ায় রাশরাফি জানিয়েছেন, পরিকল্পনা মন্ত্রী যা বলেছেন এটি সম্পূর্ণ তার ব্যক্তিগত মতামত। এ বিষয়ে তিনি কিছুই বলতে রাজি নন।

এদিকে সাবিককে নিয়ে এতটা হইচই না হলেও মাশরাফিকে ঘিরে কিন্তু তার নিজ জেলা নড়াইলে শুরু হয়েছে জোর গুঞ্জন। নড়াইল এক্সপ্রেস খ্যাত মাশরাফির কথা ছড়িয়ে পড়েছে জেলার সর্বস্তরের মানুষের মুখে মুখে। আলোচনা হচ্ছে মাশরাফি প্রতিষ্ঠিত সামাজিক সংগঠন নড়াইল এক্সপ্রেস ফাউন্ডেশন নিয়েও।

নড়াইল সদর উপজেলার দলিল লেখক সমিতির সাবেক সভাপতি শহিদুল হক মোল্যা মাশরাফিকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, মাশরাফি মনোনয়ন পেলে তিনি এমপি এবং মন্ত্রী হবেন। ফলে অবহেলিত নড়াইলের সার্বিক উন্নয়ন সংঘটিত হবে।

নড়াইল পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও নড়াইল সম্মিলতি সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি মলয় কুন্ডু বলেন, মাশরাফি একজন সৃজনশীল ও ভালো মানুষ। তিনি বিভিন্ন সময় সাধারণ মানুষের উপকার করে থাকেন, যা অনেকেই জানে না। তিনি যদি মনোনয়ন পান তাহলে আশা করি জেলার সার্বিক উন্নয়ন তরান্বিত হবে।

নড়াইল পৌর মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর বিশ্বাস বলেন, মাশরাফি নড়াইলের গর্বিত সন্তান। আওয়ামী লীগ যদি তাকে মনোনয়ন দেয় তাহলে জান-প্রাণ দিয়ে কাজ করব এবং জয় ছিনিয়ে আনব।

এদিকে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন খান নিলু বলেন, নড়াইলের দু’টি আসনের যে কোনো একটি থেকে আমি মনোনয়ন পাব বলে আশাবাদী। মাশরাফির মনোনয়নের ব্যাপারে বলেন, এটা দলীয় সিদ্ধান্ত।

এ ব্যপারে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুবাস চন্দ্র বোসের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তবে নড়াইল এক্সপ্রেস ফাউন্ডেশনের প্রধান উপদেষ্টা মাশরাফির বাবা গোলাম মুর্তজা স্বপন বলেন, প্রধানমন্ত্রী যদি তাকে মনোনয়ন দেন তাহলে মাশরাফির না বলার সুযোগ নেই।

এদিকে প্রশ্ন উঠেছে আগামীবছরই বিশ্বকাপ আর জাতীয় নির্বাচন হবে চলতি বছরের শেষে। তাই মাশরাফি যদি নির্বাচনে অংশ নেন তাহলে খেলা থেকে অবসর নেবেন কি না। তবে এ ব্যাপারে দু’দিন আগেও মাশরাফি স্পস্ট করেই বলেছেন যে, তিনি আগামী বিশ্বকাপ পর্যন্ত যে কোনো মূল্যে খেলা চালিয়ে যেতে চান।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here