রাজধানীর যানজট নিরসন এবং স্বস্তিদায়ক যোগাযোগব্যবস্থা নিশ্চিতে নির্মাণ হচ্ছে মেট্রোরেল। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে উত্তরা থেকে স্বল্প সময়ে পৌঁছা যাবে মতিঝিলে। তবে জনসংখ্যা অনুপাতে কেবল এ প্রকল্প দিয়েই যানজট কমানো সম্ভব নয় বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। তাই সাবওয়ে (পাতাল রেল) নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সেতু বিভাগ।

প্রাথমিকভাবে চারটি রুটও চিহ্নিত করা হয়েছে। এটি বাস্তবায়ন হলে ঘণ্টায় ৬০ হাজার যাত্রী পরিবহন সম্ভব। আর কয়েক মিনিটেই ঢাকার এক মাথা থেকে অন্য মাথায় পৌঁছে যাবেন নগরবাসী। অনুমোদনের জন্য প্রস্তাবটি বুধবার সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে উত্থাপনের কথা রয়েছে।

পাতাল রেল নির্মাণে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো সারসংক্ষেপ অনুমোদনও পেয়েছে সেতু বিভাগ। সেখানে বলা হয়, ঢাকা শহরের তলদেশ ও ভূমির বৈশিষ্ট্য সাবওয়ে নির্মাণের উপযোগী। জাপানের ওসাকা শহরের মতো রাজধানী ঢাকার জমি। তাই মাটির ২০-২৫ মিটার গভীরে এটি নির্মাণ করা যায়। প্রস্তাবনায় বিশেষজ্ঞদের অভিমতের কথাও তুলে ধরা হয়েছে।

প্রথম দিকে ঢাকা শহরে চারটি পাতাল রেল রুট নির্ধারণ করে সমীক্ষার কাজ চলবে। এর মধ্যে টঙ্গী-বিমানবন্দর-কাকলী-মহাখালী-মগবাজার-শাপলা চত্বর-সায়েদাবাদ-নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড পর্যন্ত ৩২ কিলোমিটার এক নম্বর রুট। আমিনবাজার-গাবতলী-আসাদগেট-টিএসসি-ইত্তেফাক মোড়-সায়েদাবাদ পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার দুই নম্বর রুট। গাবতলী-মিরপুর ১-মিরপুর ১০-কাকলী-গুলশান ২-নতুন বাজার-রামপুরা টিভি স্টেশন-খিলক্ষেত-শাপলা চত্বর-জগন্নাথ হল-কেরানীগঞ্জ তিন নম্বর রুট। আর চার নম্বর রুটে রামপুরা টিভি স্টেশন-নিকেতন-তেজগাঁও-সোনারগাঁও-পান্থপথ-ধানমণ্ডি ২৭-ঝিগাতলা-আজিমপুর-লালবাগ-সদরঘাট। শেষ দুটি রুটের দূরত্ব এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।

প্রকল্পের সমীক্ষা কাজে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্পেনের টেকনিকা ওয়াই প্রয়েকটরস এসএ এবং সহযোগী হিসেবে থাকবে জাপানের পাডেকো। তাদের সঙ্গে সাব-কনসালট্যান্ট হিসেবে থাকবে কেএসসি এবং বিসিএল বাংলাদেশ লিমিটেড। দরপত্র মূল্যায়ন শেষে প্রতিষ্ঠানকে ২১৯ কোটি ৪৪ লাখ ৪১ হাজার ৮৩১ টাকায় কাজটি দেওয়ার প্রস্তাব আজ উত্থাপন করা হচ্ছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে।

তার আগে গুণগত মান ও ব্যয়ভিত্তিক নির্বাচন পদ্ধতিতে (কিউসিবিএস) পরামর্শক নিয়োগে এক্সপ্রেশন অব ইন্টারেস্ট (ইওআই) আহ্বান করে সেতু কর্তৃপক্ষ। এতে অংশ নেয় ১৬টি প্রতিষ্ঠান। এর পর রিকোয়েস্ট ফর প্রপোজাল (আরএফপি) ইস্যু করে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের ব্যপারে সুপারিশ করা হয়। যদিও পরবর্তীতে প্রস্তাব জমা দেয় তিন প্রতিষ্ঠান।

আর্থিক প্রস্তাব মূল্যায়ন কমিটির রেটিং স্কোরে প্রথম স্থান পায় স্পেনের প্রতিষ্ঠানটি। পরে তাদের সঙ্গে নেগোসিয়েশন শেষে এ হার নির্ধারণ করে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ। পরে সেটি পাঠানো হয় মন্ত্রিসভা কমিটিতে। গত ৮ নভেম্বর অবশ্য এ সংক্রান্ত প্রকল্প প্রস্তাবটি অনুমোদন দিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী। আজকের মন্ত্রিসভা কমিটিতে অনুমোদন পেলে সরকারি অর্থায়নে সমীক্ষার কাজ শুরু করবে সেতু বিভাগ।

আর সমীক্ষার মাধ্যমে প্রস্তাবিত পাতাল রেলের অবস্থান, অ্যালাইনমেন্ট ও দৈর্ঘ্য চূড়ান্ত করা হবে। পরিচালনা করা হবে ট্রাফিক সার্ভে। অবশ্য সাবওয়ের কিছু রুটের সঙ্গে ঢাকা যানবাহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) মেট্রোরেলের রুটের দ্বৈততা আছে। এগুলো পরিহার করেই রুট চূড়ান্ত হবে। কারিগরিভাবে জটিল এই পাতাল রেল ঢাকা শহরে যানজট কমাতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here