পরকীয়া নিয়ে ভারতে আবারো একটি চাঞ্চল্যকর খুন হয়েছে। এবার দেশটির তেলেঙ্গনা রাজ্যে পরকীয়ার খবর লুকাতে নিজের দুই কিশোর চেলেকে দিয়ে প্রেমিককে খুন করিয়েছেন রাপোথু আনকুলাম্মা নামে এক নারী। এ ঘটনায় মঙ্গলবার ওই নারী এবং তার দুই ছেলেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

আনকুলাম্মার বাড়ি তেলেঙ্গানা রাজ্যের নগরকুরনুল জেলায়। গত ১০ বছর আগে স্বামীর সঙ্গে হায়দ্রাবাদ শহরে পাড়ি জমান তিনি। গত ৪ বছর আগে তিনি সেখানকার এক বেসরকারি কলেজে সহকারী হিসেবে যোগ দেন। ওই কলেজে আগে থেকেই কাজ করতেন নরেন্দ্র নামের এক ব্যক্তি। একসঙ্গে কাজ করতে করতে তারা প্রেম ও শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। প্রায়ই গোপনে দুজন মিলিত হতেন। স্ত্রীর এই অবৈধ সম্পর্কের কথা কিছুটা আঁচ করতে পেরেছিলেন তার স্বামী। এ নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই বচসা হত। কিন্তু এরপরও পরকীয়া থেকে সরে আসেননি আনকুলাম্মা।

গত ২২ এপ্রিল রাতে গ্রামের বাড়িতে যান স্বামী লিনগাইয়াহ। আর ছেলেরা যায় সিনেমা দেখতে। এই সুযোগে তিনি প্রেমিক নরেন্দ্রকে ডেকে পাঠান এবং দুজনে মিলে সেক্স করেন। এরপর আনকুলাম্মা নরেন্দ্রকে বলেন, ছেলেদের ফেরার সময় হয়েছে। তাই তার চলে যাওয়া উচিত। কিন্তু আনকুলাম্মাকে ছেড়ে যেতে রাজি হয় না নরেন্দ্র। এতে ভয় পেয়ে যান আনকুলাম্মা। কারণ নরেন্দ্রের সঙ্গে তাকে দেখলে ছেলেরা তার গোপন অভিসারের খবর জেনে যাবে।

তাই নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে তিনি ছেলেদের ফোন করে বলেন, নরেন্দ্র তার সম্ভ্রম হরণ করার চেষ্টা করছে। মায়ের ফোন পেয়ে দ্রুত বাড়ি ফিরে আসে দুই ছেলে এবং নরেন্দ্রকে পেটাতে থাকে। ছেলেদের যাতে সন্দেহ না হয় এজন্য ওই মারধরে অংশ নেন আনকুলাম্মা নিজেও। মারের চোটে সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন নরেন্দ্র। তখন তাকে ফেলে রেখে ছেলেদের নিয়ে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান ওই নারী। পরে জ্ঞান ফিরে আসলে নিজের আস্তানায় ফিরে আসেন নরেন্দ্র। এবং নিজের রুমমেটদের ঘটনাটি জানান। এ ঘটনার পাঁচদিন পর গত ২৭ এপ্রিল মারা যান নরেন্দ্র। পরে পোস্টমর্টেমে দেখা যায়, অভ্যন্তরীণ ইনজুরির কারণেই মারা গেছেন নরেন্দ্র।

এ ঘটনায় গত মঙ্গলবার আনকুলাম্মা এবং তার ১৭ ও ১৬ বছরের দুই ছেলেকে আটক করেছে পুলিশ। তবে বয়স কম হওয়ায় তার দুই পুত্রকে কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানো হয়েছে।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here