নির্বাচনের আগে হঠাৎ করেই আন্ডারওয়ার্ল্ড ডন হিসেবে পরিচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী তোফায়েল আহমেদ জোসেফকে অত্যন্ত গোপনে কারামুক্তি দেওয়া হয়েছে। শীর্ষ সন্ত্রাসীদের মুক্তির আগে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও কর্তাব্যক্তিদের বিষয়টি অবহিত করা হয়। কিন্তু জোসেফের বেলায় তা অনুসরণ করা হয়নি বলে সূত্রের খবর। বিষয়টি এতোই গোপনীয়তার সঙ্গে করা হয়েছে যে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনেকেই জানেন না। তবে অপরাধ জগতে তথ্যটি ছড়িয়ে গেছে।

যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত এ আসামির সাজা মওকুফ হওয়ার পর গত রোববার রাতে মুক্তি দেওয়া হয় বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন জোসেফ। সেখান থেকেই মুক্তি পান ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডের এই অন্যতম নিয়ন্ত্রক।

যেদিন মুক্ত হন, সেদিন রাতেই তিনি দেশত্যাগ করেন বলে জানা গেছে। ঘনিষ্ঠ সূত্র মতে, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমাবেন এবং সেখানেই স্থায়ী হবেন। এ লক্ষ্যে তার প্রাথমিক গন্তব্য ভারত। একই ভাবে ২০১২ সালের ১৪ ডিসেম্বর প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি জেল থেকে গোপনে ছাড়া পান রাজধানীর আন্ডারওয়ার্ল্ডের আরেক ডন বিকাশ কুমার বিশ্বাস। অত্যন্ত গোপনে সীমান্ত পেরিয়ে বিদেশে পাড়ি জমান তিনি।

১৯৯৯ সালের একটি হত্যাকাণ্ডে জোসেফের মৃত্যুদণ্ড হয়। হাইকোর্টও এ রায় বহাল রাখেন। পরবর্তী সময়ে আপিল বিভাগ সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন। এখনো সেই সাজা ভোগ করা বাকি আছে প্রায় ২০ বছর। তার সম্ভাব্য মুক্তির তারিখ ছিল ২০৩৯ সালের ২৪ জানুয়ারি।

কারা সূত্র জানায়, ২০১৬ সালে জোসেফের মা রেনুজা বেগম তার সন্তানের সাজা মওকুফে আবেদন করেন। ধারণা করা হচ্ছে, সাজা মওকুফের আবেদন মঞ্জুর হওয়ার পর আনুষঙ্গিক কাজ অত্যন্ত গোপনে সেরে মুক্তি পান তিনি। এরও আগে অন্যান্য মামলায় আদালত তাকে জামিন দেন।

এক সময় নিজেকে ছাত্রলীগের মোহাম্মদপুর থানার নেতা হিসেবে দাবি করতেন জোসেফ। তবে কোনো পদে ছিলেন না। ২০ বছর আগে জোসেফকে যখন গ্রেপ্তার করা হয়, তখন তার নামে ঢাকার বিভিন্ন থানায় সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, খুন, অবৈধ অস্ত্র বহনসহ বিভিন্ন অভিযোগে অন্তত ১১টি মামলা হয়। কেবল একটি মামলা ছাড়া সবগুলোরই নিষ্পত্তি হয়ে গেছে অনেক আগে। ১৯৯৬ সালে লালমাটিয়ায় মোস্তফা নামে ফ্রিডম পার্টির এক নেতাকে গুলি করে হত্যার অভিযোগে ওই মামলা হয়েছিল। এ মামলা থেকে খালাস পেলেই কেবল জোসেফের কারামুক্ত হওয়ার কথা ছিল।

কিডনিসহ বিভিন্ন জটিলতায় আক্রান্ত জোসেফ দীর্ঘদিন ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিজন সেলে। গণমাধ্যমে এ নিয়ে নেতিবাচক সংবাদ প্রকাশ হলে সেখান থেকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। পরে অসুস্থতা দেখিয়ে গত ৩১ মার্চ তাকে আবার ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তিনি নিউরো মেডিসিন বিভাগে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। ২৬ মে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here