বাংলায় একটি প্রবাদ আছে- ‘আমও গেল, ছালাও গেল’। অর্থাৎ একূল-ঐকূল দুকূলই গেল। ঠিক এমনটাই হয়েছে প্রেমের টানে স্বামী-সন্তান-ধর্ম ত্যাগ করা সবিতার জীবনে। কয়েক বছর সংসারও করেন ভালোভাবে। কিন্তু প্রতারক স্বামী ফের বিয়ে করেছেন।

বিষয়টি জানতে পেরে স্বামীর বাড়িতে ছুটে যান সবিতা। কিন্তু স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজন তাকে ঠাঁই দিচ্ছেন না। আবার ধর্মান্তরিত হওয়ায় ফিরতে পারছেন না পরিবারের কাছেও। ওই অবস্থায় স্বামীর বাড়িতে ঠাঁই পেতে গত দুই মাস ধরে লড়াই করছেন সবিতা।

সবিতার বাড়ি পাবনার আঠঘড়িয়া উপজেলার নাদুরিয়া গ্রামে। সবিতা রানীর বাবা শ্রী রাম দাস। বিয়ে হওয়ার পর সবিতার গাজীপুরের কালিয়াকৈর এলাকায় স্বামী-সন্তান নিয়ে বসবাস করতেন। কাজ করতেন একটি পোশাক কারখানায়। সেখানে কাজ করার সুবাদে পরিচয় হয় শহীদুল ইসলাম নামের এক যুবকের সাথে। শহীদুলের বাড়ি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জের উচালিখা ইউনিয়নের আমোদপুর গ্রামে। শহীদুল ওই গ্রামের হেকমত আলীর ছেলে।

একই পোশাক কারখানায় কাজ করার সুবাদে সবিতার সঙ্গে পরিচয় হয় শহীদুলের। এক পর্যায়ে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড় তোলেন শহীদুল। পরে ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে ময়মনসিংহ আদালতে এফিডেবিট করে ধর্মান্তরিত হয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন সবিতা। নিজের নাম পরিবর্তন করে রাখেন সবিতা বেগম। পরে ওই বছরের জুনে ময়মনসিংহ আদালতে এফিডেবিট করে সাড়ে ১২ লাখ টাকা দেনমোহরে বিয়ে করেন শহীদুল ও সবিতা। এরপর তারা গাজীপুরের একটি এলাকায় বসবাস শুরু করেন। কিন্তু সবিতাকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যাননি শহীদুল।

এরপর তাদের সংসার জীবন ভালো কাটলেও কয়েক মাস আগে শহীদুল পূর্বের বিয়ের বিষয়টি গোপন রেখে ফের বিয়ে করেন। নতুন বিয়ে করার পর শহীদুল সবিতার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়ায় গত মার্চে স্বামীর বাড়িতে আসেন তিনি। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ওই অবস্থায় শহীদুল বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান। পরে সবিতাকেও শহীদুলের বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। বলা হয় বিয়ের প্রমাণপত্র নিয়ে আসার জন্য। কিন্তু যথাযথ প্রমাণপত্র নিয়ে আসার পরেও ঠাঁই মেলেনি সবিতার। উল্টো মারধর করে তাকে বাড়ি থেকে আবারও বের করে দেওয়া হয়েছে। ওই অবস্থায় স্বামীর বাড়ির পাশের একটি বাড়িতে গত দুই মাস ধরে আশ্রয় নিয়েছেন তিনি।

সবিতা বেগম বলেন, ভালোবাসর টানে সব ছেড়ে ধর্মান্তরিত হয়ে শহীদুলকে বিয়ে করেছিলাম। ভালোই চলছিলো সংসার। কিন্তু স্বামী ফের বিয়ে করে ফেলে। বিষয়টি জানতে পেরে স্বামীর বাড়িতে যাই। এ সময় স্বামী আমাকে রাখতে চাইলেও শ্বশুর বাড়ির অন্য লোকজনের জন্য সে বাড়িতে ঠাঁই হচ্ছে না। পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছি। পরে নিজের অধিকার ফিরে পেতে গত ১৩ মে ময়মনসিংহ আদালতে মামলাও করেছি।

সবিতা কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ধর্মান্তরিত হয়ে পরিবার-স্বজন সব হারিয়েছি। বিয়ে করলেও প্রতারক স্বামীর কাছে ঠাঁই হচ্ছে না। এখন আমি যাব কোথায় ?

শহীদুল ইসলামের বাবা হেকমত আলী জানান, তার ছেলে সবিতাকে বিয়ে করলেও বিষয়টি তাদের না জানানোয় তারা ছেলেকে দ্বিতীয়বার বিয়ে করান। এখন ছেলে বাড়িতে না থাকায় সবিতাকে তারা গ্রহণ করতে পারছেন না। ছেলে বাড়ি ফিরলে তখন বিষয়টি দেখবেন।

উচালিখা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, মেয়েটিকে ধর্মান্তরিত করে বিয়ে করে শহীদুল। কিন্তু এরপর প্রতারণা করে ফের আরেকটি বিয়ে করে সে। বিষয়টি জানতে পেরে মেয়েটি শহীদুলের বাড়িতে এলেও তাকে আশ্রয় দেওয়া হচ্ছে না। কয়েক দফা সালিশ করেও বিষয়টি মীমাংসা করতে পারিনি।

ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি মো. বদরুল আলম খান জানান, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। কিন্তু কেউ অভিযোগ দেয়নি। মেয়েটির পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here