চোখে মোটা কাঁচের চশমা, তার দু’পাশ দিয়ে ঝুলছে চেইন, পরনে অ্যাপরন। মুখের ইতিউতি উঁকি মারছে বলিরেখা। কলকাতার টালিগঞ্জের সেনসেশন এখন ‘পরী পিসি’। সময়ের সঙ্গে ভোল বদলেছে নায়িকার। হট গৃহবধূ থেকে রূপকথার পরী! দিনে দিনে কী কমছে অভিনেত্রী শ্রীলেখার কদর? নাকি অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ হচ্ছেন! কী ভাবছেন নায়িকা নিজে? পড়ন্ত বিকেলে খোলামেলা শ্রীলেখা।

প্রশ্ন: এতদিন ‘শ্রীলেখা’ মানে ছিল হট আর সেনসুয়াস। সেখানে হঠাৎ রূপকথার পরী পিসি। বদলটা কেমন লাগছে?

শ্রীলেখা: আমাকে যে যেভাবে নেবে। এতে তো আমার কোনও হাত নেই। তবে হট বা সেনসেশন কথাগুলো সেভাবে আমায় কোনোদিন উত্তেজিত করেনি। আবার খারাপও লাগেনি। আর যদি পরীপিসির চরিত্রের কথা বল, তাহলে বলব আমি আগেও কিন্তু এজেড চরিত্রে অভিনয় করেছি। ‘মায়ের বিয়ে’ সিনেমায় সায়নীর মায়ের চরিত্রে ছিলাম। সেদিক থেকে দেখতে গেল, আমার তো এখনও সায়নীর মায়ের ভূমিকায় অভিনয় করার মতো বয়স হয়নি। তাছাড়া একরকম ইমেজে আটকে থাকাটা আমার পছন্দ নয়। আর যদিও একটু বেশি বয়স লাগছে, তবে ঠিকই আছে পরী পিসির চরিত্রটা।

প্রশ্ন: তাহলে শ্রীলেখা স্বীকার করছেন হট অভিনেত্রী হিসাবে আপনার কদর কমছে?

শ্রীলেখা: সেটা বলতে পারব না। দেখ আমি একজন অভিনেত্রী। তাই আমাকে যে চরিত্রে ঢালবে আমি তেমনই আকার নেব। সেটা গ্রামের বউয়ের চরিত্র হোক আর ‘আশ্চর্য প্রদীপ’ এর হাইপ্রোফাইল এসকর্ট। আমি সবেতেই স্বাচ্ছন্দ্য। এখন পরিচালকরা আমাকে যেমন ভাবে তাদের গল্পে চাইবেন, সেভাবেই অভিনয় করব।

শো-এর বিচারক আর কিছু অন্যধারার ছবিতেই আটকে থাকল, এটা ভাবতে অসুবিধে হয় না?

শ্রীলেখা: আমি অল্পতেই সন্তুষ্ট। সত্যি কথা বলতে, আমার জীবনে কোনোদিন দেব-প্রেসেনজিৎ-এর মতো কেউ ছিল না। যার জন্য কোনওদিন আমার জুটি হয়নি। তাছাড়া আমি একদমই কেরিয়ারিস্টিক নই। তাই অক্ষেপও নেই। আর আজ তো দেব বা অঙ্কুশের কোমর ধরে নাচার বয়স নেই।

প্রশ্ন: তাহলে সৃজিত মুখোপাধ্যায় বা কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের ছবিতে কাজ করতে চান ?

শ্রীলেখা: হ্যাঁ অবশ্যই চাই। একবার সৃজিত একটা চরিত্রের জন্য আমায় অফার করেওছিল। কিন্তু মেয়েকে নিয়ে তখন বাইরে ছিলাম। তাই তখন আর করে ওঠা হয়নি। তবে আমার ব্যক্তিগত মত, সৃজিত মুখোপাধ্যায় বা কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় বড় নাম বলে, তাদের ছবিতে অভিনয় করে নেব তেমনটা নয়। যদি আমার চরিত্রটা পছন্দ হয় তবেই আমি হ্যাঁ বলি।

প্রশ্ন: টলিপাড়ার প্রায় একাংশ রাজনীতির খাতায় নাম লিখিয়েছে। আপনি সেই তালিকায় নেই কেন?

শ্রীলেখা: ওরে বাবা, ওটা তো রাজনীতি মানে রাজাদের নীতি। আর আমি ভীষণ ভাবে প্রজা। তাই আমার দ্বারা ওটা সম্ভব নয়। আমি এমনই মানুষের জন্য কাজ করি। আর টলিউডের সবার রাজনীতিতে আসা নিয়ে আমার একটু সন্দেহই আছে। যে তাঁরা সত্যি কী মানুষের ভালো করতে চান, নাকি নিজের কেরিয়ার গড়তে এমন পদক্ষেপ নিচ্ছেন।

প্রশ্ন: ওজন বেশি তাই ‘দুপুর ঠাকুরপো’ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে আপনাকে। কি মনে হয় একটু রোগা হলে বেশি কাজ পেতেন?

শ্রীলেখা: প্রথমেই বলব, আমাকে কিন্তু বলা হয়নি, ওজন বেশি সেজন্য আমাকে ‘দুপুর ঠাকুরপো’ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এটা আমি মিডিয়ার কাছ থেকেই শুনেছি। আর মোট বা রোগা বিষয়টা আমার কাছে একটা ধাধা হয়ে গিয়েছে। এই জটিল রহস্যটা আমি আজও সলভ করতে পারিনি। আজ না হয় আমি ওভার ওয়েট। কিন্তু একটা সময় তো রোগা ছিলাম। তখনও তো পর পর ছবির অফার আসেনি। এটাকে কী বলব!

প্রশ্ন: ‘রেইনবো জেলি’-থেকে কেমন আশা রাখছেন?

শ্রীলেখা: দেখ বক্স-অফিস, ডিস্ট্রিবিউশন এসবের আমি কিছু বুঝি না। তবে আমার পছন্দের যাঁরা ছবিটি দেখেছেন তাঁদের কাছ থেকে তো ভাল ফিডব্যাক পাচ্ছি।

প্রশ্ন: এরপর কোন সিনেমায় শ্রীলেখাকে দেখতে পাচ্ছি?

শ্রীলেখা: একটা সিনেমার কথা চলছে। তবে এখনই বলতে পারব না। এর জন্য আর কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।

প্রশ্ন: তারকাদের বিয়ের মৌসুম চলছে। নতুন করে জীবন শুরুর কথা ভাবছেন?

শ্রীলেখা: ন্যাড়া না একবারই বেলতলায় যায়। সেটা আমার যাওয়া হয়ে গিয়েছে। আর আমি একাই ভালো আছি।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here