ভিডিওটা দেখেই যে কেউ আঁতকে উঠবে। ছেলের বউয়ের হাতে নির্মমভাবে নির্যাতনের শিকার এক বৃদ্ধা। সেই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ইতোমধ্যেই ভাইরাল। এতে দেখা যায়, সাদা শাড়ি পরে থাকা এক বৃদ্ধাকে বেধড়ক মারধর করছেন আরেক নারী। কখনো চুলের মুঠি ধরে ঝাঁকাচ্ছেন, আবার কখনো বাড়ির প্রাচীরের সঙ্গে ঠেসে ধরে তার গলা টিপে ধরছেন। কখনো আবার গালে সপাটে চড়, কান মলে দেওয়া, গাল-নাক টিপে ধরা…।

কিন্তু, কোথায়, কবে এ ঘটনা ঘটেছে তা বোঝা যাচ্ছিল না। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছিল, বৃদ্ধাকে হাউমাউ করে কাঁদতে এবং শাড়ির আঁচল দিয়ে চোখ মুছতে। তবে সবুজ নাইটি পরা ওই নারী তাকে মেরেই যাচ্ছিল। আরও ভয়ঙ্কর তথ্য হলো, ভিডিওটি ভাইরাল না হলে অন্যান্য নির্যাতনের মতো এটিও হারিয়ে যেত কালের গহ্বরে। কারণ এ ঘটনা নিয়ে কেউ কোথাও কোনো অভিযোগই করেনি। কেবল পাশের বাড়ি থেকে কেউ একজন মারধরের দৃশ্য মোবাইলে ধারণ করেছিলেন।

শুধু তাই নয়, সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়াতে আপলোডও করেন ওই ব্যক্তি। মুহূর্তের মধ্যেই ফেসবুকে কয়েক লাখ মানুষের কাছে পোস্টটি পৌঁছে যায়। এরপরই বিষয়টা নজরে আসে পুলিশের। তারা তদন্তে নেমে ওই বৃদ্ধার পুত্রবধূকে আটক করেছেন। আটক নারীর নাম স্বপ্না পাল।

পুলিশ জানায়, শুভ্র চক্রবর্তী নামে বাঁশদ্রোণী থানার এক সার্জেন্ট ফেসবুক ঘাটতে ঘাটতে রন্তু সেনগুপ্ত নামে এক যুবকের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ভিডিওটি দেখেন। তিনি সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানান। পরে ওই যুবকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। জানতে চাওয়া হয়, কোথায়, কবে ওই ঘটনা ঘটেছে। তার নাম-ঠিকানা গোপন রাখা হবেও বলে পুলিশের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়। কিন্তু, রন্তু সেনগুপ্ত আর পুলিশের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করেননি।

এর পর বাঁশদ্রোণী থানার পুলিশ রহস্য উদঘাটনে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ফেসবুক থেকে রন্তুর ছবি জোগাড় করে তার সন্ধান শুরু করে। আবারও যোগাযোগ করা হয় তার সঙ্গে। শেষা পর্যন্ত ওই যুবক জানান, ভিডিওটি তিনি পেয়েছেন ক্যানিংয়ের ভোলার বাজার এলাকার চিকিৎসক তরুণ চক্রবর্তীর কাছ থেকে। রন্তুর কাছ থেকে ওই চিকিৎসকের ফোন নম্বর জোগাড় করে পুলিশ তার সঙ্গে যোগাযোগ করে।

ওই চিকিৎসক জানান, তিনি ওই ভিডিওটি সুমন নামে এক মেডিক্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভের কাছ থেকে পেয়েছেন। তাকে ওই মেডিক্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভ জানিয়েছিলেন, ভারতের গড়িয়ার পঞ্চাননতলা এলাকায় ওই ঘটনা ঘটেছে। এরপর সুমনের সঙ্গে পুলিশ যোগাযোগের চেষ্টা করে। কিন্তু তিনি সবকিছু শোনার পর মোবাইলের সুইচ অফ করে দেন।

হাল ছেড়ে দেয়নি বাঁশদ্রোণী থানার পুলিশ। তারা ওই ভিডিও থেকে বৃদ্ধার ছবি বের করে পঞ্চাননতলা এলাকায় অভিযান শুরু করে। আর এতেই সাফল্য আসে। জানা যায়, ওই বৃদ্ধার নাম যশোদা পাল। ছেলের বউকে না জানিয়ে ফুল তোলার ‘অপরাধে’ই নাকি তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়েছিল!

ওই বৃদ্ধার বড়ছেলে রঞ্জিত পালের স্ত্রী স্বপ্না দেবী। তারা সবাই যশোদা দেবীর বাড়িতেই থাকেন। পুলিশ জানিয়েছে, যশোদা দেবী মাঝে মধ্যেই স্মৃতিভ্রংশে আক্রান্ত হন। দিনবন্ধু অ্যান্ড্রুস কলেজের এক ছাত্র ওই ভিডিওটি করেছে বলে পুলিশ তদন্তে বেরিয়ে আসে। আর ওই ছাত্রের কাছ থেকেই ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here