এখনই রাজনীতির মাঠে নামছেন না জাতীয় ক্রিকেট দলের ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা ও টেস্ট অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। ২০১৯ সালে হতে যাওয়া ক্রিকেট বিশ্বকাপের আগে রাজনীতিতে আসবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। বৃহস্পতিবার দলটির সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আগামী বিশ্বকাপের আগে সাকিব-মাশরাফি রাজনীতিতে আসছেন না। সাকিবের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে, বিশ্বকাপের আগে রাজনীতি নিয়ে তার (সাকিব আল হাসান) কোনো চিন্তাভাবনা নেই। তবে এবারের নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়নে কিছু চমক থাকবে, সেটা এখনও চূড়ান্ত রূপ নেয়নি। সাংস্কৃতিক, ক্রীড়া ক্ষেত্রে, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব এ ধরনের কিছু্ থাকবে। যাকেই মনোনয়ন দেওয়া হোক না কেন তাকে উইনেবল প্রার্থী হতে হবে।’

জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়ে কাদের বলেন, ‘বিশ্বকাপের পরেই দেখা যাবে তারা কে কে নির্বাচন করবেন। কীভাবে করবেন, কোন আসন থেকে করবেন। এগুলো আলাপ–আলোচনার পর্যায়ে চলছে। বিশ্বকাপের আগে তারা মনস্থির করেননি।’

মাশরাফি-সাকিব কোন বিশ্বকাপের পর প্রার্থী হবেন, ‘এ প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘কোনো বিশ্বকাপের কথা নির্দিষ্ট করে তারা উল্লেখ করেননি।’

রাজনীতিতে মাশরাফি ও সাকিবের আসা নিয়ে অনেকদিন ধরে গুঞ্জন থাকলেও সম্প্রতি পরিকল্পনামন্ত্রী ও বিসিবির সাবেক সভাপতি আ হ ম মোস্তফা কামালের কথায় সে অনেকটাই পরিষ্কার হয়ে যায়। মন্ত্রী বলেন, ‘আমার ভোটব্যাংক হলো যারা ক্রিকেট পছন্দ করেন। আমি যখন নির্বাচন করি ৪৮ বছর বয়সে, তখন আকরাম খানসহ সবাই আমার নির্বাচনী এলাকায় গিয়েছেন। এখন মাশরাফি, সাকিব অনেক কম বয়সে নির্বাচন করবে। আমি ক্রিকেটের শীর্ষ পদে ছিলাম, আবার পদত্যাগও করেছি। আমি পদত্যাগ না করলে ক্রিকেট শেষ হয়ে যেত।’

তবে নির্বাচন প্রসঙ্গে মাশরাফি ও সাকিব এখনো মুখ খুলেননি। মাশরাফির বাবা গোলাম মর্তুজা স্বপন অবশ্য বলেছেন, ‘আমরা আওয়ামী লীগ করি। আমি সদর থানা আওয়ামী লীগের নির্বাহী সদস্য। এক কথায় আমরা আওয়ামী পরিবার। আমার সন্তান বলে বলছি না, মাশরাফিকে নড়াইলের মানুষ খুব ভালো বাসেন। তবে মাশরাফি এখনই রাজনীতিতে আসবে কিনা সেটা তার ব্যক্তিগত বিষয়। দলের সভানেত্রী মনোনয়ন দিলে নড়াইলবাসী তাকে বিজয়ী করবে।’

আর সাকিবের বাবা মামরুর রেজা কুটিল বলেছেন, ‘এ ধরনের কোনো আলোচনা আমাদের সাথে কখনো সাকিবের হয়নি। খেলার মাঠে তার সিদ্ধান্তের প্রতি আমরা যেমন আস্থাশীল, তেমনি এ ধরনের কোনো বিষয় থাকলে সাকিব নিজেই সেটা ভালো বুঝবে।’

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here