লক্ষ্মীপুরে সাবেক ছাত্রলীগ নেতার সঙ্গে ব্যবসায়ীর স্ত্রীর বিবস্ত্র ভিডিও ফেসবুকের মাধ্যমে এখন সবার হাতে হাতে। ভিডিও ক্যাপশনে এ দুজনের আপত্তিকর অবস্থার কথা বলা হলেও ঘটনাটা নাকি উল্টো। তাদের নাকি উলঙ্গ করা হয় জোর করে, তারপর ভিডিও। আর সেই অভিযোগ এনেই ১০ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত আরও ১০ জনকে আসামি করে বুধবার লক্ষ্মীপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করা হয়েছে।

শুধু তাই নয়, এ ঘটনার বিচার দাবি করে সাবেক ওই ছাত্রলীগ নেতা রাকিবুল হাসান বিপ্লব ও গৃহবধূ শাহানারা বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনও করেছেন। সঙ্গে ছিলেন ভুক্তভোগী গৃহবধূর স্বামী ব্যবসায়ী আবদুল জাহেরও।

সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, ভবানীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের গ্রামপুলিশ আলাউদ্দিন দীর্ঘদিন থেকে গৃহবধূ শাহানারাকে উত্ত্যক্ত করত। গৃহবধূর স্বামী বিষয়টি লোকজনকে জানালে এতে প্রতিশোধ হিসেবে কমলনগর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল হাসানসহ গৃহবধূকে জড়িয়ে আপত্তিকর ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করে।

২৬ মে রাত ৮টার দিকে বিপ্লবসহ গৃহবধূর জামা-কাপড় ছিঁড়ে অর্ধ বিবস্ত্র করে। একপর্যায়ে তারা দুজনকে পাশাপাশি বসিয়ে মোবাইল ফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করা হয়। পরে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়। এ ঘটনায় স্থানীয় গ্রামপুলিশ আলাউদ্দিনসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত আরও ১০ জনকে আসামি করে বুধবার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলাও করা হয়েছে। তাই জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচারের দাবি করেছেন তারা।

সাবেক ছাত্রলীগ নেতা রাকিবুল হাসান বিপ্লব, আবদুল জাহের ও তার স্ত্রী শাহানারার সংবাদ সম্মেলন
সাবেক ছাত্রলীগ নেতা রাকিবুল হাসান বিপ্লব, আবদুল জাহের ও তার স্ত্রী শাহানারার সংবাদ সম্মেলন

এর আগের দিন স্ত্রীকে পাশে বসিয়ে এক ভিডিও বার্তায় আবদুল জাহের জানান, ছাত্রলীগ নেতা বিপ্লব তাদের আত্মীয়। ঘটনার দিন সে একটি বিশেষ প্রয়োজনে তাদের বাড়ি এলে স্থানীয় কিছু লোকজন ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ঘরে ঢুকে তাদের আটক করে। এ সময় তারা দুজনের পরনের জামা কাপড় ধরে টেনে ছিঁড়ে ফেলে এবং তাদের জোর করে নগ্ন ছবি ও ভিডিও ধারণ করে। পরে তা ফেসবুকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

যদিও স্থানীয় এলাকাবাসী ও পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে চরউভূতির চকবাজার এলাকার ব্যবসায়ী আবদুল জাহেরের স্ত্রীর সঙ্গে বিপ্লবের অবৈধ সর্ম্পক। এসব অপকর্মের বিষয়ে স্থানীয়রা জেনেও বিপ্লবের ভয়ে প্রতিবাদ করার সাহস পায়নি। ঘটনার রাতে তারাবির নামাজ পড়তে লোকজন মসজিদের দিকে চলে গেলে এ সুযোগে বিপ্লব ঘরে ঢুকে ওই ব্যবসায়ীর স্ত্রীর সঙ্গে অপকর্মে লিপ্ত হয়। খবর পেয়ে মুসল্লিরা নামাজ শেষে একত্রিত হয়ে ওই ব্যবসায়ীর ঘর ঘোরাও করে বিপ্লব এবং ওই নারীকে আপত্তিকর অবস্থায় আটক করে। পরে গণধোলাই দিয়ে দুজনকেই পুলিশে সোর্পদ করা হয়।

স্থানীয়দের অবশ্য অভিযোগ, বিপ্লব উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক থাকাকালীন তোরাবগঞ্জ বাজারে তার বাসায় দুই সন্তান নিয়ে ভাড়া থাকত টেইলার্স ব্যবসায়ী আবদুল জাহের ও স্ত্রী। এক পর্যায়ে ব্যবসায়ীর স্ত্রীর সঙ্গে বিপ্লবের অবৈধ সর্ম্পক গড়ে উঠে। বিষয়টি জানাজানির পর বাসা ছেড়ে পরিবার নিয়ে নিজ বাড়িতে চলে যান জাহের। কিন্তু বিপ্লব ও তার স্ত্রীর সর্ম্পকে এক বিন্দুও ভাটা পড়েনি, বরং আরও গভীর হয়। জাহেরের বাড়িতে প্রায়ই আসা-যাওয়া ছিল ছাত্রলীগ নেতার। এসব ঘটনার প্রতিবাদ করলে বিভিন্ন হুমকি-ধামকি ও ভয়ভীতি দেখাতেন তিনি। তার ভয়ে মুখ খুলতে কেউ সাহস পেত না বলে জানান অনেকেই।

কিন্তু ভিডিও বার্তায় আবদুল জাহের জানান, স্থানীয় আলাউদ্দিন চৌকিদার অনেকদিন ধরে তার স্ত্রীকে মোবাইলে উত্যক্ত করত। বিভিন্ন সময় তার স্ত্রীকে কুপ্রস্তাব দিত ওই চৌকিদার। এতে সাড়া না পেয়ে তাদের ফাঁসানোর জন্য আলাউদ্দিন চৌকিদার ও তার লোকজন ষড়যন্ত্র করে এ ঘটনা ঘটিয়েছে।

প্রায় ৯ মিনিটের ভিডিওটিতে ওই দিনের ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনাও দিয়েছেন ব্যবসায়ী জাহেরের স্ত্রী। ঘটনার দিন থাকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছিল স্থানীয়রা।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here