তফসিল ঘোষণার পর থেকে কোনো সামাজিক-সাংস্কৃতিক-ধর্মীয় অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে ভুল করছেন না সিলেটের দুই হেভিওয়েট মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী ও বদর উদ্দিন আহমদ কামরান। বর্তমান ও সাবেক দুই মেয়রের বক্তব্যেও প্রটোকল নিয়েও বিভ্রান্তিতে পড়তে হচ্ছে আয়োজকদের। সরকারি অনুষ্ঠানে সরকার দলের লোক হওয়ায় গুরুত্ব পাচ্ছেন কামরান। অন্যদিকে বেসরকারি অনুষ্ঠানে এগিয়ে থাকছেন কামরানই।

শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর সিলেট কোর্ট পয়েন্টে বিক্ষোভ সমাবেশ আয়োজন করে উলামা পরিষদ বাংলাদেশ। আহলে হাদিসের বিরুদ্ধে ইসলাম বিকৃতির অভিযোগ এনে আয়োজিত এ সমাবেশে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের এই দুই কেন্দ্রীয় নেতাও উপস্থিত হন। সেখানে তারা ইসলাম সুরক্ষার পক্ষে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বক্তব্যও রাখেন। নগরীর বিভিন্ন পাড়া মহল্লা থেকে জুম্মার নামাজ শেষে মিছিল নিয়ে এ সমাবেশে যোগ দেন মুসল্লিরা।

সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, আহলে হাদিস নামধারী লা-মাযহাবীরা ইসলামকে বিকৃত করার চেষ্টা করছে।

ইসলামের মান-মর্যাদা রক্ষার জন্য প্রাণ দিতেও প্রস্তুত জানিয়ে সমাবেশে বক্তারা বলেন, ‘সিলেটের তরুণ সমাজকে বিভ্রান্তির পথে নিয়ে যাচ্ছে লা-মাযহাবী গোষ্ঠী। এদেরকে অবিলম্বে সিলেট থেকে বিতাড়িত করতে হবে। এদের সাথে সকল ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে। নগরীতে বিদ্যমান এদের আস্তানা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে নিতে হবে।’

বক্তারা বলেন, ‘আমরা তৌহিদি জনতা পারি নিজেরা আইন হাতে তুলে নিতে। কিন্তু আমরা আইন হাতে তুলে নিবো না। প্রশাসনের কাছে অনুরোধ আপনার সিলেটের শান্তি-সম্প্রীতি রক্ষায় অবিলম্বে লা-মাযহাবীদের অপতৎপরতা বন্ধ করুন। অন্যথায় আমরা কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলবো।

উলামা পরিষদ বাংলাদেশের সভাপতি মুফতি আবুল কালাম যাকারিয়া’র সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন মাওলানা সফিকুল হক আমকুনি, শায়খুল হাদিস মুহিব্বুল হক গাছবাড়ি, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, সাবেক সিটি মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী, জাতিসংঘে নিযুক্ত সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি ড. একেএ মোমেন, সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সিলেট মহানগর বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আজমল বখত সাদেক, সিটি কাউন্সিলর ও সাংবাদিক রেজওয়ান আহমদ, কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদ, সাবেক কাউন্সিলর ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল খালিক, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ, আওয়ামী লীগ নেতা শফিউল আলম চৌধুরী নাদেলসহ অন্যরা।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here