সারাদেশে চিহ্ণিত মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তারে একের পর এক সফল অভিযান পরিচালনা করে প্রশংসা কুড়ালেও ব্যতিক্রম সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ। এই থানার এক উপপরিদর্শকের (এসআই) বিরুদ্ধে পাওয়া গেছে গ্রেপ্তার বাণিজ্যের অভিযোগ। সাধারণ পোশাকে সোর্সের মাধ্যমে গ্রেপ্তার বাণিজ্য করার কারণে জনতার রোষানলে পড়েন এসআই ফয়সাল আহমেদ। একই কারণে সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকার বিক্ষুব্দ জনতা পিটিয়েছেন তার সোর্স মো. শুক্কুরকে।

এলাকাবাসীর ভাষ্য, এসআই ফয়সাল ও তার সোর্স মো. শুক্কুর গ্রেপ্তার বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত। শুক্রবার বিকেল ৫টায় নাসিক ৪নং ওয়ার্ডের আটি হাউজিং এলাকার এক যুবককে বিনাপরোয়ানায় গ্রেপ্তার করতে গেলে জনতার রোষানলে পড়েন তারা। পরে এসআই ফয়সালকে আটকে রেখে তার সোর্স শুক্কুরকে উত্ত্যম-মধ্যম দেন জনতা। পরে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার দুই এসআই রাসেল ও রফিকুল ইসলাম ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদেরকে উদ্ধার করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার বিকেলে ফয়সাল আহমেদ তার সোর্স শুক্কুর ও কনস্টেবল জাহাঙ্গীরকে নিয়ে একটি সিএনজিযোগে ওয়ারেন্টের আসামির খোঁজে আটি হাউজিং এলাকায় আসেন। পথে সিএনজির গ্যাস ফুরিয়ে গেলে ফয়সাল চিটাগাং রোডে গ্যাস নিতে চলে যান। এ সময় শুক্কুর ও জাহাঙ্গীর বিনাওয়ারেন্টে জাহিদ নামে এলাকার এক যুবকের হাতে হাতকড়া পরিয়ে বসিয়ে রাখেন। এ দৃশ্য দেখে এলাকার লোকজন তাদের কাছে কারণ জানতে চাইলে জাহিদের নামে ওয়ারেন্ট আছে বলে জানান তারা। তখন ওয়ারেন্টের কাগজ দেখতে চাইলে এসআই ফয়সালের কাছে আছে বলে জানান শুক্কুর।

এদিকে ফয়সাল আটি হাউজিংয়ে ফিরে এলে এলাকাবাসী তার কাছে জাহিদের নামে ওয়ারেন্ট দেখতে চান। কিন্তু তিনি তা দেখাতে না পারলে এলাকাবাসী তাকে আটকে রেখে শুক্কুরকে উত্তম-মধ্যম দিতে থাকেন। এক ঘণ্টা পর খবর পেয়ে তাদেরকে সেখান থেকে উদ্ধার করেন এসআই রাসেল ও রফিকুল। পরে তাদের থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সাত্তার জানান, এ ঘটনায় এসআই ফয়সাল নির্দোষ, তার অনুপস্থিতিতে সোর্স শুক্কুর এ কাজ করেছে। তাকে আটক করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে সোর্সের কাছে কীভাবে হ্যান্ডকাফ গেল, এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি তা এড়িয়ে যান।

এর আগে গত ২৫ এপ্রিল বুধবার রাত ৩টায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মাশিকুর রহমান শান্ত সাথী নামে এক নারী সোর্সকে দিয়ে ব্লাকমেইলিং করে এক যুবকের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা আদায় করেন বলে অভিযোগ উঠে। তখন ওই এএসআইও জনতার রোষানলে পড়ে প্রায় ৩ ঘণ্টা অবরুদ্ধ ছিলেন। পরে তাকেও থানার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা গিয়ে উদ্ধার করে।

ওই এএসআইয়ের অপরাধ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার মঈনুল হক তাকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করেন। সেই রেশ কাটতে না কাটতে আবারও একই এলাকা এ ঘটনা ঘটায় থানা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কারও কারও অভিযোগ, ঈদকে সামনে রেখেই পুলিশ গ্রেপ্তার বাণিজ্যে নেমেছে। তাই আতঙ্কের মধ্যে এলাকাবাসী।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here