মাদকবিরোধী অভিযান থেকে বাঁচতে মাদক ব্যবসায়ীরা আত্মগোপনে চলে যাচ্ছেন। এ ক্ষেত্রে তারা নানা ছলচাতুরীর আশ্রয় নিচ্ছেন। কেউ কেউ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে চলে যাচ্ছেন। কেউবা দেশত্যাগ করছেন। অনেকে ওমরার নামে পাড়ি দিচ্ছেন সৌদি আরবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবদুল কাদের ওরফে মাছ কাদের। মাদকবিরোধী অভিযান শুরু হবে এ খবর জানতে পেরে তিনি সৌদি আরব চলে যান। বলে গেলেন, ওমরাহ করবেন। এর আগে সাতকানিয়া সদর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান গা-ঢাকা দিতে পাড়ি জমান দুবাইয়ে। তার বিরুদ্ধেও ইয়াবা ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে। বিএনপির দলীয় কোন্দলে বিপর্যস্থ মুজিবুর রহমান পরবর্তী সময়ে অল্প সময়ের মধ্যেই বিপুল পরিমাণ বিত্তবৈভবের মালিক হন। দামি গাড়ি নিয়ে চলতে ফিরতে দেখা যায়।

লালখান বাজার স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোহাম্মদ ওয়াসিম সৌদি আরব গেছেন। নগরীর লালখান বাজার এলাকায় মাদক বিক্রি ও ব্যবসা যারা নিয়ন্ত্রণ করেন তাদেরই একজন এ ওয়াসিম। তার ভাই মাইনুদ্দিন হানিফ ওরফে পিচ্চি হানিফ ও বেলাল উদ্দিন ওরফে ডাইল বেলাল তার সহযোগী হিসেবে কাজ করেন। গত শুক্রবার সৌদি আরবে গেছেন উখিয়া-টেকনাফের সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি। তিনিও উমরাহ উপলক্ষে সৌদি আরব গেছেন বলে তার স্বজনরা জানিয়েছেন।

চট্টগ্রামের পাঠানটুলি ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবদুল কাদের মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এমন তথ্য প্রকাশ হলে নানাভাবে তা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এক পর্যায়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের একাধিক ওয়ার্ড কাউন্সিলর যৌথ বিবৃতি দিয়ে দাবি করেন, কাদের মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নন। এরপর এলাকার কিছু লোকজন দিয়েও সংবাদ সম্মেলন করান। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কিছুতেই আশ্বস্থ হতে না পেরে সৌদি আরব চলে যান বলে তার ঘনিষ্ঠজনরা জানান।

এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রামের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, আমাদের কোনও ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এমনটি জানা নেই। বরং আমি ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের নিয়ে মাদকের বিরুদ্ধে নগরীতে নানা কর্মসূচি পালন করেয়েছি।

জানা গেছে, মাদকবিরোধী অভিযান শুরুর পর দুই ধরনের লোকের এই ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার খবর পাওয়া যায়। তাদের এক অংশ হচ্ছে পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী। অপর পক্ষ হচ্ছেন জনপ্রতিনিধি। বিএনপি ও আওয়ামী লীগ এবং তাদের বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতাদের এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার ব্যাপারে সরাসরি নাম এসেছে।

এক্ষেত্রে পেশাদার মাদক ব্যবসায়ীরা তাদের বাড়িঘর ছেড়ে আত্মগোপন করেছেন। কিন্তু জনপ্রতিনিধি কিংবা রাজনৈতিক নেতারা পড়েছেন বেকায়দায়। ফলে তাদের অনেকেই আত্মগোপনে না গিয়ে সৌদি আরব ও মধ্যপ্রাচ্য চলে যাচ্ছেন।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here