ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হলে সারাবিশ্বেই প্রিয় দলগুলোর জার্সি কেনার প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যায় ভক্তদের মধ্যে। তাই নাইকি, এডিডাসের মতো বিশ্বখ্যাত কোম্পানিগুলোর টার্গেট থাকে কোনো না কোনো দলের স্পন্সর সাঁজার। এই সুযোগে জার্সি, বলসহ নানা জিনিস বিক্রি করে তারা কামিয়ে নেয় কোটি কোটি ডলার। অথচ এসব জার্সি যেসব দেশে বানানো হয়, সেখানকার শ্রমিকদের দেওয়া হয় নামমাত্র দাম।

এবারো দুয়ারে কড়া নাড়ছে ফুটবল বিশ্বকাপের একবিংশতম আসর। এবারো ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, স্পেনসহ বেশ কয়েকটি দলের অফিশিয়াল জার্সি বানানো হয়েছে বাংলাদেশে। কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হলো এবারো ‘মেইড ইন বাংলাদেশের’ শ্রমিকদের এসব জার্সি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান উপযুক্ত দাম দেয়নি। তাদের কোটি কোটি ডলার মুনাফার বিপরীতে শ্রমিকরা পেয়েছে নামমাত্র মূল্য।
সারা বিশ্ব জুড়ে চলছে বিশ্বকাপের উন্মাদনা। এই উন্মাদনার বড় ১টি অংশ জুড়ে থাকে নিজ নিজ পছন্দের দেশের জার্সি সংগ্রহ করা এবং তা পরে খেলা দেখা। বাংলাদেশের জন্য গর্বের একটি বিষয় এই বিশ্বকাপের জার্সি।

ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম ডেইলি টেলিগ্রাফের মতে বাংলাদেশ থেকে নামমাত্র পারিশ্রমিকে ইংল্যান্ডের জার্সি বানিয়ে নিচ্ছে জনপ্রিয় খেলাধুলার সরঞ্জামাদি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান নাইকি।

ইংলিশ ফুটবল দলের জার্সি স্পন্সর হিসেবে তাদের বিশ্বকাপ জার্সি যোগান দেওয়ার দায়িত্বে রয়েছে নাইকি। নাইকি এসব জার্সি বানিয়ে নেয় বাংলাদেশের সাভার অঞ্চলের গার্মেন্টস কারখানা থেকে। পরে জাতীয় দলকে তাদের চাহিদামতো জার্সি সরবরাহ করে বাকি জার্সিগুলো প্রতিটি ১৬০ ইউরো মূল্যে বাজারে বিক্রি করে প্রতিষ্ঠানটি।

যে শ্রমিকরা এসব জার্সি বানান, তারা কি সঠিক দাম পান?

কিন্তু সেই তুলনায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের প্রতি ঘণ্টায় মাত্র ২১ পেন্স করে পারিশ্রমিক দেওয়া হয়। পুরো মাসের পারিশ্রমিক হিসেব করলে দাঁড়ায় মাত্র ৪৭ ইউরো। অথচ একটি জার্সিই বিক্রি করা হয় ১৬০ ইউরো মূল্যে।

নাইকির এই কাজ প্রকাশ করে নিজেদের প্রতিবেদনে ডেইলি টেলিগ্রাফ লিখে, ‘নাইকির বিশাল লাভ করার সহজ উপায় হচ্ছে নামমাত্র মূল্যে জার্সি বানিয়ে সেগুলো চড়া মূল্যে বাজারে বিক্রি করা। এসব জার্সি বানানো শ্রমিকদের পারিশ্রমিক দিয়ে তাদের মৌলিক চাহিদাই পূরণ করা সম্ভব হয় না। পরিবার-পরিজন নিয়ে স্বচ্ছল জীবনযাপন তো অনেক দূরের ব্যাপার।’

অবশ্য বাংলাদেশি শ্রমিকদের এতো অল্প পারিশ্রমিকের পেছনে গার্মেন্টস মালিক কর্তৃপক্ষের দায়ও কম নয়। তবু এই নামমাত্র পারিশ্রমিকে কাজ করেই বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করে যান এসব শ্রমিকেরা। নাইকির মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানসহ বাংলাদেশি গার্মেন্টস মালিকদের কাছে নিজেদের পরিশ্রমের আরও বেশি পারিশ্রমিক দাবি করতেই পারেন বাংলাদেশি শ্রমিকেরা।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here